আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দুই দলের ম্যাচের সেই আবেদন আর নেই : লিপু

১৯৯৩ সালের ঘটনা। আমার ব্যাকপেইন। বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। অথচ দুইদিন পর মোহামেডানের বিপক্ষে আবাহনীর ম্যাচ। আমি অধিনায়ক।

ব্যথার জন্য খেলতে পারব না ভাবতেই মন খারাপ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ক্লাবের টানে, ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার জন্য ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছি। খেলা শুরুর আগে এবং লাঞ্চের সময় ইঞ্জেকশন নিয়েছিলাম। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই ডা. হেদায়েতের সঙ্গে যেয়ে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হই। সেখানে আমার দুই পায়ে ১০ ইঞ্চি ইট বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল ব্যথা কমানোর জন্য।

ম্যাচটি জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম আমরা। আজও সে কথা ভাবলে গা শিহরিত হয়ে উঠে। সে সময় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের উত্তেজনা ছিল অন্যরকম। আবেদন ছিল। দর্শকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ত মাঠে।

কিন্তু আজ? দর্শক নেই মাঠে। এর কারণ ভাবতে একটু গভীরে যেতে হবে। স্যাটেলাইট টেলিভিশন, বিদেশি ক্রিকেট দলগুলোর জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই আবেদন এখন আর নেই। ক্লাবগুলোও সেই আগের মতো আবেদন তৈরি করতে পারেনি। যে কারণে নতুন প্রজন্মের কাছে আবাহনী ও মোহামেডান আলাদা কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি।

দর্শক না হওয়ার আরেকটি কারণ অল্প হলেও প্রভাব ফেলেছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে খেলা মিরপুরে চলে আসায়। আমার দুই দশকের ক্যারিয়ারের ১৩ বছরই খেলেছি আবাহনীতে। অধিনায়ক ছিলাম ৯ বছর। আমার নেতৃত্বে ৭ বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী।

আবাহনীতে ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় খেললেও কখনোই মোহামেডানে খেলিনি। আমাদের সময় দুই দলের খেলার আবেদন ছিল অন্যরকম। সেই টানেই আজ মাঠে বসে খেলা দেখতে চেষ্টা করব।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।