আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চাপ নিয়ে ভাবছেনই না সোহাগ

এক বছর। জীবনের পথচলায় অনেক সময় কিছুই না। অনেক সময় আবার এক বছরেই ঘটে যায় কত কিছু! বদলে যায় জীবন, জগৎ। বদলে গেছে যেমন সোহাগ গাজীর।
গত বছর এই সময়েও খুব কম লোকেই চিনত তাঁকে।

তখনো আন্তর্জাতিক অভিষেকই হয়নি। জগৎ ছিল ছোট্ট, রঙের ছোঁয়া যেখানে খুব বেশি ছিল না। তবে ছিল রঙিন স্বপ্ন, আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাপূরণের সিঁড়ির দেখা পেয়ে গেছেন গত নভেম্বরে। তেষ্টা প্রবল ছিল বলেই কিনা, শুরুতেই তরতর করে উঠে গেছেন অনেকগুলো ধাপ।

টেস্ট অভিষেকেই দেশের হয়ে ইনিংসে ও ম্যাচে সেরা বোলিং। সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড অভিষেক ওয়ানডেতেও। ক্রিস গেইলের যম হয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে তোলপাড় তোলা। দলে ঢুকেই জায়গা পাকা, আজ তিনি স্পিননির্ভর বাংলাদেশের বড় স্পিন-ভরসা।
তবে স্বপ্নের সিঁড়ির দেখা অনেকেই পান।

আকাশ ছুঁতে পারেন হাতে গোনা কজন। শুরুতেই থমকে যান অনেকে, অনেকে খানিকটা এগিয়ে, অনেকে মাঝপথে, কেউ কেউ কাছাকাছি গিয়ে। চোখ ধাঁধানো শুরুর পর ধপাস করে পড়ে যাওয়ার নজির কম নেই ক্রিকেট ইতিহাসে। সোহাগের শুরুটা হয়েছে চলন্ত সিঁড়িতে চেপে। তাঁর কাছে প্রত্যাশাও বেড়েছে একই হারে।

সোহাগের চ্যালেঞ্জ এখন সেই গতি ধরে রাখা। কে না জানে, কোনো কিছু অর্জনের চেয়ে ধরে রাখা কঠিন!
বড় একটা চ্যালেঞ্জ যেমন এই নিউজিল্যান্ড সিরিজটাই। স্পিনারদের কাছে প্রত্যাশাটা বাংলাদেশে বরাবরই বেশি। এবারের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ঐতিহ্যগতভাবেই উপমহাদেশে স্পিনে দুর্বল আর এই দলটাও অনভিজ্ঞ বলে প্রত্যাশার পারদ যেন আকাশচুম্বী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বছর না পেরোলেও সোহাগ গাজীই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ দলের মূল স্পিনার।

যেটির হাত ধরে আসছে প্রত্যাশার চাপও। এই চাপ জয় করতে পারবেন তো তিনি?
এমনিতে এই প্রশ্ন ওঠার কোনো কারণ নেই। ৬ টেস্টে পেয়েছেন ২৬ উইকেট। ছয় টেস্টের চারটিই আবার দেশের বাইরে। বাংলাদেশের কোনো বোলারের বিবেচনায় স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাওয়া শুরু।

কিন্ত গত কিছুদিনে খানিকটা যেমন মলিন মনে হচ্ছে সোহাগকে। টেস্ট ক্রিকেটে অবশ্যই নয়, হারারেতে সর্বশেষ টেস্টেও পেয়েছেন ৫ উইকেট। কিন্তু এরপর থেকেই হঠাৎই বিবর্ণ। ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরটা কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। খুলনায় গত মাসের তিন দিনের অনুশীলন ম্যাচে ধোলাই হতে হয়েছে মার্শাল-সৌম্যদের হাতে।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট খারাপ না হলেও তাঁর কাছে প্রত্যাশার সঙ্গে সেটি একটু বেমানানই। ফিসফাস আছে তাঁর ফিটনেস আর পরিশ্রমস্পৃহার ঘাটতি নিয়েও। সাকিব দলে ফিরেছেন, গত কিছুদিনে রাজ্জাকের বোলিংয়ে আছে টেস্ট ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে খানিকটা চাপেই থাকার কথা সোহাগের।
তবে ‘চাপ’ শব্দটা তাঁর অভিধানেই নেই বলে দাবি সোহাগের, ‘আমি কখনোই কোনো ব্যাপারে চাপ নিই না।

ভালো করলে দলে থাকব, না করলে থাকব না। ওসব নিয়ে ভেবে তো লাভ নেই। মানসিকভাবে যতটা পারা যায় ফ্রি থাকতে চেষ্টা করি। খারাপ খেললেও চেষ্টা করি ফ্রি থাকার। আমি আত্মবিশ্বাসী।

চেষ্টা করে যাচ্ছি, অনুশীলন করছি, স্পট বোলিং করছি। আশা করছি ভালো করব। ’ ভালো করার এই লড়াইয়ে পাশে একজনের অভাব অবশ্য খুব অনুভব করছেন এই অফ স্পিনার, ‘সাকলায়েন ভাই থাকলে ভালো হতো। সাহস পেতাম আরও বেশি। সামনে ওনাকে টানা দলের সঙ্গে রাখা হবে বলে এবার তিনি নেই।

তবে চেষ্টা করব, তাঁর পরামর্শ মেনে বোলিং করার। ’
নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশে পা রাখার দিন থেকেই ফিরে ফিরে আসছে তিন বছর আগে ধবলধোলাইয়ের সেই কীর্তি। আবেগময় সমর্থকদের এবারও তাই মুশফিকদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। তবে চাপ নিয়ে নিজের দর্শনটাকেই দলের দর্শন বলছেন সোহাগ, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। সর্বশেষ সিরিজে আমরা নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছি, এবারও সেটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব।


প্রত্যাশা তো সেটিই। চাই ধারাবাহিকতা—সোহাগের কাছে, দলের কাছেও।

 

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।