আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কি এমন হত- তাকে চাদনী বউ বানিয়ে সারাজীবন বুকে আগলে রাখলে-- ? বল?



কতদিন হলো- তোর মুখে চাদনী বউ ডাক শুনি না.........! আচ্ছা বলতো- তুই কি আর কখনো আমাকে সেই আগের মত করে চাদনী বউ বলে ডাকবি? বলবি কি আর কখনো- “ ঘুমা এখন পাগলী! আমি কাজ করছি! অনেক অনেক ভালোবাসি চাদনী বউটাকে! জানিস, তুই চলে যাওয়ার পর এই ছোট্ট ছোট্ট ভালোলাগা আর ভালোবাসায় ঘেরা মুঠোবার্তা গুলির মাঝেই আমি তোকে খুঁজি --- ! ঘুমোতে যাবার আগে-প্রতিদিন এই টুকরো টুকরো শব্দগুলি পড়ে তোকে অনুভব করি... তুই আজ কতদূরে ... তবুও এই ভালোলাগার কথামালাগুলির মাঝে আমি আগের মতই তোকে খুঁজি ... মনে হয় ফিস ফিস করে যেন তুই বলছিস- আমার পাগলী চাদনী বউ! বারবার মনে করিয়ে দেয় এই শব্দগুলো যে- একদিন তুই আমাকে বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলি আর আমিও সেই স্বপ্নে বিভোর ছিলাম! কখনো ভাবিনি- একদিন এই স্বপ্ন মিথ্যে হয়ে যাবে...আমার আর চাদনী বউ হওয়া হবে না...! তোকে কতবার দেখতে চেয়েছি- কিন্তু তুই আসিস নি!কতবার বলেছি- আমাকে এইরকম-সেইরকম করে তোর ছবি দে- যেন আমি তোর কাছে যেতে নাপারলেও- ছবিগুলি দেখে যেন শান্তি পাই- আমার চান্দুটা কিভাবে থাকে? অথচ তুই বদমাশি করে তা দিলি না! এত্ত এত্ত রাগ/অভিমানে প্রচণ্ড জেদে মনে হচ্ছিলো- তোকে ধরে পিটাই!বারবার মনে হচ্ছিলো- এক ছুটে তোর কাছে চলে যাই--- তুই একটা স্বার্থপর! আসলেই স্বার্থপর! তা না হলে মিথ্যে অজুহাতে চলে যাবি কেন? তুই আমি আমরা সব জেনেই তো একসাথে চলার কথা ভেবেছিলাম- সব সমস্যার ফেস করতে চেয়েছিলাম তাহলে কেন সাময়িক কিছু সমস্যার কারনে তুই এই চাদনী বউটাকে একা ফেলে কেন চলে গেলি... বল? নতুন কাউকে জুটিয়ে নিয়েছিস বুঝি...? কেন জেন মনে হতো- তুই চলে যাবি- তাই তোর চলে যাওয়াতে আমিতোকে পিছু ডাকিনি- কারন জানতাম তুই ফিরবি না...! তুই যদি মনে করিস আমার ভালোর জন্যই তোর এই পিছু ফেরা- তাহলে ভুল ভেবেছিস! মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে- যাকে এত ভালবেসেছিলি, আদর করে যাকে চাদনী বউ বলতি, যার হাত ছেড়ে যাবি না বলেছিলি- সেই চাদনী বউয়ের হাতটা এত সহজেই ছেড়ে কিভাবে চলে গেলি রে? যেই তোর চাদনী বউ হওয়ার স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম সেই তোর জায়গায় অন্য কাউকে আমি ভাববো কি করে? যেই তোর ঘরে সংসার সংসার খেলা খেলতে চেয়েছিলাম সেই তোর সাথে সংসার সংসার না খেলে অন্য কারো সাথে খেলবো কি করে? জানিএই কথাগুলির কোন মূল্য তোর কাছে নেই- হয়তো এতক্ষনে হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়েইগেছিস- ভাবছিস- কত পাগল আমি! আর আমি ভাবছি কত্ত বোকা আমি! জানি কারনে-অকারনে তোকে চেয়েছি- ঝুম বৃষ্টিতে একসাথে হাতে হাত রেখে ভিজতে / আর চোখে চোখ রেখে ডুবতে চেয়েছি তোর ভালোবাসায় -নিঃসঙ্গ দুপুরে তোর সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠতে চেয়েছি... পড়ন্ত বিকেলে মাতালকরা হাওয়ায় তোর ভালোবাসা পেতে চেয়েছি... সন্ধ্যে হলেই তোর সাথে আড্ডা / তোর একলাচায়ের কাপে হুরমুরিয়ে চুমুক দেয়া... রাতের বেলা আদর করে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া ... সকালে ঘুম ভাঙ্গানো ... ঝগড়া করা / অভিমানে কান ধরা- অসুখ হলেসেবা করা... মাঝে মাঝে আদুরে বকা-- তোর কণ্ঠে গান শোনা -- পাশে বসে গল্পকরা/ অকারনে হেসে হেসে তোর কোলে মাথা রাখা...সব-ই চেয়েছি স্বার্থপরের মত কিন্তু তোকে কি কিছুই দেইনি তার থেকে বেশি...? তোর ভালোলাগা / কষ্ট সব কিছু নিয়েই তো আমিভাবতাম- ভাবতাম কি করে তোকে এই মায়াবী বাঁধনে বেঁধে রাখবো--- ? কি করে তোর পাশেসারাজীবন থাকবো... ? বলতো- এই ভাবনা এই চাওয়া গুলো কি অন্যায় ছিলো? নাকি বেশি কিছু চেয়েছিলাম? এই ভাবনা এই চাদনী বউ হওয়ার স্বপ্ন এগুলো তো তুইদেখিয়েছিলি ...! আবার এক নিমিষেই চাদনী বউ থেকে আমাকে একদম অচেনা কেউ অন্য কোন মেয়ে কিংবা আর ১০টা মেয়ে তোর কাছে যা তা বানিয়ে দিলি...।! বলতো- সত্যি- ই কি তুই আমাকে ভালবেসেছিলি না কি মিথ্যে মিথ্যে শুধু ভালোবাসার অভিনয় করেছিলি...? সত্যিকার ভালবাসলে তো আমার কষ্টগুলো তোকে ছুঁয়ে দিতো--- ! আমার অভিমান গুলি তোকে সচকিত করতো-- আমার ভালোবাসা - তোর দেখানো স্বপ্ন -- এইসব পাগলামিপনা কোনটাই তোর চোখ এড়িয়ে যেত না-- ! এসব কিছুইতোকে পিছু ফিরতে দিত না--- কিন্তু তুই গেছিস- চাদনী বউকে ছেড়ে কত সহজেই চলেগেছিস--! মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয় - অবাক হয়ে সব কিছু ভাবি- কতটা বিশ্বাসকরেছিলাম তোকে! একদম চোখ বন্ধ করা বিশ্বাস ...! সেই তুই আমার বিশ্বাস আর আস্থাগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে চলে গেছিস-- সেই তোর জন্য আমার অনুভূতিগুলো আজও আগের মতই আছে অথচ তোর মনে আমার জন্য সেই অনুভূতিগুলো আজ আর নেই---! অথচ এইতুই-ই একদিন আমার মন খারাপ হলে - চুটকি বাজিয়ে মন ভাল করে দিতিস ... একদিন এই তুই-ই আমার কষ্টগুলোকে নিজের করে নিতিস অথচসেই তুই-ই আমাকে কষ্টের সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে চলে গেছিস ...আমি রাত/দিন সেই সাগরে হাবুডুবু খাই... প্রানপন চেষ্টায় উঠতে চেষ্টা করি- আর তুই-কারনে অকারনে এসে আমাকে আবার ডুবিয়ে দিয়ে যাস-! তোকে আজও ভালোবাসি- সেই কষ্টের সাগরে এটাই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন কিংবা বলতে পারিস- এক টুকরো খড়কুটো -- তুই সেটাও কেড়ে নিতে চাস-- ! আমি দিবানিশি নীল নীল বৃষ্টিতে ভিজি-- দম বন্ধ হয়ে আসে আমার--- অথচ আজ তোকে এসব কিছু কষ্ট দেয় না--! খুব রাগ হয় রে! হয় প্রচণ্ড অভিমান ... তুই যদি পিছু ফিরতে পারিস- তবে আমি পারবো না কেন-- ? কিসের এত কষ্ট আমি একাকী বহন করছি-- কার জন্য অপেক্ষা করছি- আর এত্ত এত্ত ভালোবাসা - এটার উৎপত্তি কোথায় --কোথা থেকে আসছে এই ভালবাসা ? কেন ভুলতে পারছি না--! আচ্ছা বলতো- কেন তুই এসেছিলি? কেন আমাকে নিয়ে বউ বউ খেলেছিলি--? কেন আমাকে পুতুল বউ বানিয়েছিলি? সব কিছুই তোর কাছে খেলা ছিলো তাই না রে?জানতাম, তুই অনেক কিছুর ব্যপারে সিরিয়াস না--! কিন্তু তাই বলে কারো জীবন নিয়েই তুই মরন খেলা খেলবি ? মাঝে মাঝে আমারও ইচ্ছে করে তোর মত হতে- কিন্তু আমি হবোনা রে... সব কিছুতে তুই আমাকে হারিয়ে দিয়ে গেলেও কোনদিন ভালোবাসায় হারাতে পারবি নারে...! তাই তোকে ঘৃণা করি না... হয়তো কোন একদিন তোর মনে হতে পারে- হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা এই পাগলী বউটা তোকে অনেক ভালোবাসতো --- শুধু তোর চাদনী বউ হওয়ার জন্যই সে পথ চেয়ে বসে ছিলো-- স্বপ্ন দেখছিলো তোর একলা ঘরে গিয়ে ভাগ বসাতে--! সংসার সংসার খেলতে...। কি এমন হত- তাকে চাদনী বউ বানিয়ে সারাজীবন বুকে আগলে রাখলে-- ?বল? কি এমন হত রে তাকে তোর একলা ঘরে একটু ঠাই দিলে... ? কি এমন হত-সংসার সংসার খেলাটাকে বাস্তবে রূপ দিলে...। খুব বেশি কঠিন কি ছিলো- ? খুব বেশি সমস্যা কি ছিলো? না কি তার চাওয়া গুলো অবাস্তব কিছু ছিলো...? বল...?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।