আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গল্প : অসমাপ্ত ডাইরি

কিছুই বলার নেই


রাত ২ টা। শহর একবারে শান্ত, নিরব। নগর জীবনের
যান্ত্রিক ব্যস্ততা শেষে শান্তির ঘুমে ব্যস্ত
নগরবাসী। এমনই এক
পরিবেশে ডাইরী লিখে চলেছে রাশেদ..
২০ ডিসেম্বর,২০১২
আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। আজ থেকেই
আমি ডাইরী লেখা শুরু করলাম।

আজ আমি প্রথম
চাকুরীর বেতন পেলাম। অনেক দিন পর আমার আদরের
ছোট বোন তুলিকে একটা সারপ্রাইজ
দিতে পারলাম। ওর একটা মোবাইল ফোনের শখ
ছিল। মাকে নতুন শাড়ি আর অসুস্থ বাবাকে শার্ট
দিলাম। এবার আমাদের সংসারের অভাব ঘুচবে।


আমাকে বহুদূর যেতে হবে। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর
যে সংসারের সব দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়েছে।
আজ থেকেই আমি ডাইরী লেখা শুরু করলাম।
২৫ ডিসেম্বর,২০১২
তুলিটা ভীষণ দুষ্ট। আজ আমার
শার্টে ইচ্ছে করে চা ফেলে দিয়ে তার
সে কী হাসি।

ভার্সিটিতে উঠার পর ওর দুষ্টুমির
মাত্রা যেন আরো বেড়ে গিয়েছে। মাকে এবার ওর
বিয়ের কথা বলতে হবে। এতদিন তো সংসারে অভাব
ছিল। এখন আমি চাকুরি পাওয়াতে তুলির
বিয়ে দিতে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু তুলির
বিয়ে হয়ে গেলে ওকে ছাড়া থাকবো কিভাবে।


যে আমাদের চোখের মণি। নাহ্ আজ আর কলম
চলছে না।
৩ জানুয়ারি,২০১৩
গত কিছুদিন যাবত তুলির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য
করছি। মার কাছ থেকে শুনলাম
ইদানিং নাকি ভার্সিটি থেকে খানিকটা দেরিতে ঘরে ফেরে।
রাতে ওর ফোনে চাপা কণ্ঠস্বর আমিও শুনেছি।

আজ
রাতে খাওয়ার পর তুলিকে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস
করলাম। ও বলল স্যারেরা অতিরিক্ত ক্লাশ নিচ্ছে।
তাই দেরি হচ্ছে। কিন্তু আমি ওর চোখে অন্য
ভাষা দেখলাম। একটু আগে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ
বন্ধু আসিফের
সাথে ফোনে ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করলাম।


ব্যাপারটা আমাকে আরো খতিয়ে দেখতে হবে।
১৫ জানুয়ারি,২০১৩
আজ দুপুরে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তুলিদের
ভার্সিটিতে গেলাম। ভার্সিটির
পার্কে তুলিকে দেখলাম। একটা ছেলের
সাথে বসে বাদাম খাচ্ছে আর একটু পর পর
হেসে উঠছে। ছেলেটার মুখ দেখতে পাচ্ছি না।


দৃশ্যটা আমার কাছে অস্বস্তিকর মনে হওয়ায় দ্রুত
কেটে পড়লাম। ছেলেটাকে আরেক দিন দেখা যাবে।
রাত প্রায় ৪ টা। কিন্তু আমার ঘুম আসছে না।
ছেলেটা এমন কে যার কথা তুলি আমার
কাছে লুকালো আর ছেলেটির জন্যে অবলীলায়
মিথ্যা কথা বলে গেল !
৬ ফেব্রুয়ারি ,২০১৩
আজ আমি অনেক অবাক হয়েছি।


ছেলেটাকে আমি চিনতে পেরেছি............ ১২
ফেব্রুয়ারিতে
তে রহস্যজনকভাবে নিখোঁছ হয় রাশেদ।
একেকটা সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, মাস কেটে যায়
কিন্তু রাশেদ আর ফিরে আসে না।
১ বছর পর............
আজ তুলির বিয়ের তৃতীয় দিন। তুলি এখন
হানিমুনে যাচ্ছে। ওর বরের নাম আসিফ।

হ্যাঁ,রাশেদ
নিখোঁজ হওয়ার পর এই ছেলেটিই রাশেদের
পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায়। ছায়ার মত
লেগে থেকে রাশেদের পরিবারের সব দায়িত্ব
পালন করে। মাত্র ১০ দিন আগে তুলিকে বিয়ের
প্রস্তাব দিতেই তুলির পরিবার
একবাক্যে রাজী হয়ে যায়।
ন্দরবানের কোনো এক নির্জন পাহাড়ের চূড়ায়
দাঁড়িয়ে তুলি আর আসিফ। হঠাৎ তুলির
মনে হতে লাগল আসিফের চোখে যেন রাজ্যের ঘুম
এসে জুড়ে বসেছে।

আসিফের হাত শক্ত
করে ধরে রাখে তুলি। শীতল
স্বরে আসিফকে জিজ্ঞেস করে, "আমার
ভাইকে কেনো এভাবে মারলে আসিফ"?আসিফের
ঘুমে ঢুলুঢুলু যেন হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে উঠে।
তুলি বলেই চলে, "তুমি এক বছরের বেশি সময়
ধরে আমার সাথে অভিনয় করেছে আর আমি এক বছর
তোমার সাথে অভিনয় করেছি ভাই হত্যার
প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। একটু আগে তোমার পানির
বোতলে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে দিয়েছি। " এ কথা বলেই
আসিফের হাত দেয় তুলি।

পাহাড়ের
চূড়া থেকে গহীন অরণ্যে হারিয়ে যায় আসিফের
দেহ। .....তুলি তার ব্যাগ থেকে ডাইরীটা বের
করে যেটা সে রাশেদ র্নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর
খুঁজে পায়। তুলি কী মনে করে আবার পড়া শুরু
করে ডাইরী
৬ ফেব্রুয়ারি ,২০১৩
আজ আমি অনেক অবাক হয়েছি।
ছেলেটাকে আমি চিনতে পেরেছি।
ছেলেটা আসিফ!!
১১ ফেব্রুয়ারি ,২০১৩
আসিফের গোপন অতীত আমি জেনে গেছি।

আজ
আমি ওর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ও
গ্রামে লম্পট ছেলে হিসেবে পরিচিত।
নারী পাচারকারী,খুনের সাথেও জড়িত ছেলেটা।
আমি কীভাবে এত বোকা হলাম। ওর সাথে এত
ঘনিষ্ঠভাবে মিশেও কিছুই জানতে পারলাম না।


কালই আমি আসিফের
সাথে একটা বোঝাপড়া করতে যাব।
আর কিছুই লেখা নেই ডাইরীতে।
তুলি ডাইরীটা বন্ধ করে। অসমাপ্ত ডাইরীটা....
তুলির এখন প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। ১ বছরের
জমানো কান্না..........................


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.