আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সাইবার অপরাধ

আমি মানুষ, এটাই আমার পরিচয়।

সাইবার অপরাধ রোধে যে আইন গুলো আছে তা প্রনয়ন করা এবং অপরাধীকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়ার দাবীতে আমার সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে পথচলা শুরু। সাথে প্রতিটা মানুষ কে সচেতন করা কে ও আমি আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। যার জন্য আজকের এই তথ্য সম্বলিত তাত্তিক লেখা যা আমরা অনেকেই জানি কিন্তু তারপর ও আরেকবার ঝালাই করে নিতে চাই...

সাধারণ অর্থে সাইবারক্রাইম হলো মোবাইল কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোন ধরণের অনৈতিক কাজ। সাইবার অপরাধ আমাদের কাছে অতিপরিচিত এবং ভীতিকর একটা শব্দ।

তথ্য চুরি, তথ্য বিকৃতি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ চুরি ইত্যাদি তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হলে তাকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলে। সাইবার ক্রাইম এর বিভিন্ন অংশের ভেতর একটি হলো সাইবার স্টকিং বা সাইবার হয়রানি--- ইমেইল বা ব্লগ বা ওয়েবসাইট ব্যাবহার করে হুমকি দেয়া, ব্যাক্তির নামে মিথ্যাচার/ অপপ্রচার, নারী অবমাননা, যৌন হয়রানি। ব্লগে, ফেইসবুকে বা ওয়েবসাইটে বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও বা ফোন নাম্বার ছড়িয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্টদের মানসিক ভাবে হয়রানি করা, ব্যাক্তিগত এবং পারিবারিক জীবনে এবং সমাজে নানা রকম হয়রানির স্বীকার করা, হেয় প্রতিপন্ন করা – এসব ই সাইবার স্টকিং এর অন্তর্গত। এতে করে প্রাইভেসী ক্ষুন্ন হবার মতো ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন রকম অশালীন, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বিভিন্ন ফেইসবুক ব্যাবহারকারী বা ব্লগার বা অন্যান্য অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের উত্যক্ত করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, যার বেশিরভাগই করা হয় মূলত নারী ইউজারদের যেটা সাইবার মবিং এর পর্যায়ে পরে।



সবার জন্যই নৈতিক অবক্ষয়ের মোক্ষম হাতিয়ার হচ্ছে এই সাইবার ক্রাইম এবং পর্নোগ্রাফি। বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইমকে অনেকেই বাকস্বাধীনতার সাথে এক করে ফেলছে যার কোন ভিত্তি নাই।
সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ পেলে BTRC অ্যাকশান নিতো আগে। পরবর্তীতে এই অভিযোগ গুলো সমাধানে তৈরী হয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (CSIRT) যাদের মূল কাজ হলো রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলোতে এমন বিষয় সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সর্বক্ষণ এ নজরদারি করা। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বেড়ে বিশাল হওয়ার আগেই যদি সাইবার ক্রাইম বন্ধ করার মতো মেকানিজম তৈরি না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

পৃথিবীর সব দেশেই সাইবার ক্রাইম বন্ধের জন্যে আইন আছে এবং তা মানতে বাধ্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। বাংলাদেশে যেমন মোবাইল ফোনের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নাই, যার ফলে মোবাইল ফোনে সকল অপকর্ম করা যায়। বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম সম্পর্কিত অপরাধ দমন এর জন্য সংশ্লিষ্ট আইন টি অনেকের ই জানা নাই।

বাংলাদেশে প্রথম ২০০২ সালে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয় যেটা ২০০৬ সালে পাশ হয় যা 'The Information and Communication Technology Act 2006' নামে পরিচিত। বর্তমান সরকার আসার পর এই নীতিমালাতে আরো কিছু সংশোধন আনা হয়েছে যেটা বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মণ্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে।

এই নীতিমালা মাধ্যমে ২০১০ সালের মে মাসে কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল যেটা সবমহলেই বিতর্কিত হয়েছ কারণ এর মাধ্যমে অনলাইন সোশাল নেটওয়ার্কিং কে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। এটা নীতিমালার একটা অপব্যবহার হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছিলো। ২০০৯ সাল থেকেই এই নীতিমালার অধীনে কিছু আইন তৈরীর চিন্তাভাবনা শুরু হয় সরকারী মহলে। সুপ্রীম কোর্টের সাথে আলোচনাও হয়েছিল একটা সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা নিয়ে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে 'Pornography Control Bill-2010' নামে একটি ড্রাফট বিল তৈরী হয় যেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, আইন মণ্ত্রনালয়ের কাছে পাঠিয়েছে যাচাই বাছাই এর জন্য যা তার পরবর্তী কেবিনেট সভায় পাস হবার কথা কিন্তু আজ অব্দি তার কোন সুরাহা হয়নি।

সেই ড্রাফট বিলে যেকোন সাইবার ক্রাইম বা সাইবার সম্পর্কিত পর্নোগ্রাফীর অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল বা ৫০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবার আইন প্রস্তাবনা করা হয়েছে। যথাযথ প্রশাসন জানিয়েছিলো তাদের কাছে সাইবার সম্পর্কিত পর্ণগ্রাফীর অপরাধ যারা করে তাদেরকে সনাক্ত করার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত আইনের অভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

অনলাইন পর্নোগ্রাফি বা সেলফোন পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে এখন কমবেশি সবাই জানে। পর্নোগ্রাফি সারা বিশ্বব্যাপি সর্বাপেক্ষা লাভজনক ব্যবসার অন্যতম। আর শুধু ‘চাইল্ডপর্নোগ্রাফি’ থেকেই প্রতি বছর তিন লাখ বিলিয়ন ডলার আয় হয়ে থাকে।

তাই শিশু হোক আর প্রাপ্ত বয়স্ক, সবার জন্যই পর্নোগ্রাফি হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়ের মোক্ষম হাতিয়ার। শুধু মাত্র শিশুরা নয়, উঠতি বয়সের কিশোর, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এটি ভাইরাসের মতো ছড়াচ্ছে। গৃহবধূ, স্কুল-কলেজ ছাত্রী ও টিনএজ তরুণীরাও এ ক্রাইমের শিকার। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না সাইবার ক্রাইম।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রতি মাসে তিন কোটি টাকার পর্নোগ্রাফি ডাউনলোড করে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু, কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা। যাদের বৃহৎ অংশ স্কুলগামী শিক্ষার্থী। ঢাকার বেশীরভাগ এলাকায় সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে অল্প টাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা এবং সব বয়সীদের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকায় অপ্রাপ্ত বয়স্করাও ভিড় করে সেখানে। শিশুরা অতি সহজেই হাতের নাগালে পর্নোওয়েব সাইটগুলো পেয়ে যাচ্ছে। তারা শুধুই পর্নোভিডিও দেখতে ক্যাফেতে যায়।

পর্নোছবির দর্শকদের ৭৭ শতাংশ শিশু।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২-তে বলা আছে, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোন অশ্লীল বই, সাময়িকী, ভাস্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা লিফলেট, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল সংলাপ, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যা কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই তার সবই পর্নোগ্রাফি। এসব পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ বা প্রদর্শন করা যাবে না।

যারা এ আইন মানবে না তাদের দুই থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে। অথচ এই আইনের কোন প্রয়োগ নাই বিধায় অবলীলায় এই আইন লঙ্ঘন চলছে এক শ্রেণির মুনাফালোভীরা- তারা খুললাম খুল্লা পর্নো আইনকে লংঘন করে নিয়মিত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যত তৎপর হচ্ছে অপরাধী রা তত প্রযুক্তির পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষেও সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় না সহজে।

এসবের প্রেক্ষিতে শুধু সরকার এর দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। আমাদের সাধারণ মানুষ গুলো কে ও সর্বাধিক সচেতন হতে হবে এবং এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে ... সেই প্রত্যাশায় ...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.