আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ছড়া(৬৯)-'গ্যাস নেবে কি গ্যাস?'

এডগার এলান পো আমারও প্রিয় লেখক। রুদ্ধশ্বাস রহস্য, থ্রিল, সাসপেন্স, ঘটনার পর ঘটনার মধ্যে খুঁজে পাই অ্যাডভেঞ্চার। ওয়েস্টার্ন গল্পের এই নির্ভরতা থেকে আমাকে এবার বোকা বানালেন ধ্রুব'দা। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ টাটকা এবং রহস্যে ভরা মৌলিক সাসপেন্স ধ্রুব এষ-এর রহস্য উপন্যাস `বাম হাতে ছয় আঙুল'। কাফি আল হাসান আর রাফি আল হাসান যমজ ভাই।

রাফি আল হাসানের বাম হাতে ছয়টা আঙুল। অভিনয় করতেন সিনেমায়। জিএম রসুল ছদ্মনামে সে একজন দুর্ধর্ষ খুনি। কাফি আল হাসানের বাম হাতে স্বাভাবিক মানুষের মত পাঁচ আঙুল। কিন্তু প্রয়োজনে কাফি আল হাসানও বাম হাতে নকল একটি আঙুল লাগিয়ে খুন করেন।

সবগুলো খুনের মোটিভ একই ধরনের। একটার পর একটা সিরিয়াল কিলিং। আবার কাফি আল হাসানের ছেলে পাগলা কবি র.আ.হ, মুস্তফি। মুস্তফি'র বাম হাতেও চাচার মত ছয় আঙুল। এদের মধ্যে আসল খুনি কে? সেই রহস্য উদ্ধারের ভার পাঠকের।

আইরা একজন টপ র্যাম্প মডেল। নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন আইরা। একষট্টি বছর বয়সি অবিনাশ মণ্ডল একজন বাংলা সিনেমার মেকাপম্যান। খুন হন একই রাতে নারিন্দার ভাড়া বাসায়। আইরার ইন্টারভিউ করতে যাওয়া তরুণ রিপোর্টার দারিয়ুস।

দারিয়ুসকে কিডন্যাপ করে জিএম রসুলরা। বেবি আক্তার মডেল আইরার ফ্ল্যাটের কাজের বুয়া। বেবি আক্তারও খুন হয় ঘটনার কয়েক দিন পর। অপহৃত হন জনপ্রতিনিধি কমরেড ওহাব উদ্দিন সিকদার। তসাদ্দুক এম হাসান, বামন।

সফটওয়্যার এনজিনিয়ার। `হার্ব এন বার্ব'-এ কাজ করেন `মসিয়ো তাতকু' ছদ্মনামে। হার্ব এন বার্ব-এর কর্নধর হলেন আরডি মানে রেড ডেভিল। যিনি হলেন আসলে কাফি আল হাসান, মিডিয়ার আইকন।
কয়েকদিন পর খুন হন তরুণ রিপোর্টার দারিয়ুস।

তারপর কুন হন তসাদ্দুক এম হাসান। তার আগে কমরেড ওহাব উদ্দিন সিকদারকে জীবিত উদ্ধার করে এলিট ফোর্স। তখন খুন হয় তিনজন। ধারণা করা হয় আসল জিএম রসুল তখন এলিট ফোর্সের গুলিতে নিহত হয়। জিএম রসুল তার সঙ্গীদের নিয়ে গ্রেনেড চার্জ করেছিল।

তার বাম হাত উড়ে যায়। বাম হাতে তার কয়টা আঙুল তার কোনো প্রমাণ আর মেলানোর সুযোগ থাকে না। উলিপাড়ার ইয়াসিন পরদেশী খুন হন। সকল খুনের মোটিভ একই ধরনের। গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর এনটি কাটার দিয়ে জবাই।


এলাহি বিল্লা পড়াশুনা করেছেন ফিলোসফিতে। পত্রিকায় চাকরি করেন। প্রচুর সাইকোলজির বই পড়েন। অফিসের সবাই বিল্লাকে পণ্ডিত বলে ডাকে। চাঞ্চল্যকর এই সব খুনের একটা কুল কিনারা করার চেষ্টা করেন এই পণ্ডিত।

সকল রহস্য যখন উন্মোচিত হবার পথে তখনই নারিন্দার মেইন রোডের পাশ থেকে মেঘলা সন্ধ্যায় অপহৃত হন এলাহি বিল্লা।
টানটান উক্তেজনা আর রহস্যে ভরপুর এক চলমান বাস্তবতার ক্যানভাস ধ্রুব এষ-এর রহস্য উপন্যাস `বাম হাতে ছয় আঙুল'। এডগার এলান পো জীবিত থাকলে তিনিও এটি এক বসাতেই পড়তেন। শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ঐতিহাসিক আন্দোলনের কারণে আমি এক বসাতে বইটি পড়ি নি। ছয় বসাতে পড়েছি।

খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েছি। পুরোপুরি রহস্য আর অ্যাডভেঞ্চারটা নেয়ার জন্য একটু একটু করে পড়েছি। আর বারবার এলাহি বিল্লা'র পত্রিকা অফিসের আলীকে বলেছি, আলি, চা দাও। জবাবে আলী বলেছে, জে সার। এই আলী `স্যার'কে বলে সার।

এই আলী'র হাতে চা খেতে ওই পত্রিকা অফিসে প্রায়ই আড্ডা দিতে যান দুই বন্ধু। তানভির হাসান জুয়েল ওই পত্রিকা অফিসের চিফ আর্টিস্ট। তিনজনই আর্টিস্ট। মাসুক হেলাল, উত্তম সেন আর তানভির হাসান জুয়েল। প্রতি বছর বন্ধু দিবসে এই তিন আর্টিস্ট বন্ধু আলী'র হাতে চা খান আর আড্ডা মারেন।

কিন্তু খুনের রহস্য নিয়ে যতোসব ইন্টিকুলুস। সেই সব ইন্টিকুলুসের আসল রহস্য উন্মোচন করতে পাঠককে আগে `বাম হাতে ছয় আঙুল' এই রহস্য উপন্যাসটা পড়তে হবে।
১৯৭৩ সালে আন্দ্রেই তারকোভস্কি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, `কাল মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। রিগার উপকূলে গেছে মেরিনা। তার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছে।

লারিসাকে নিয়ে। সিরিয়াস এবং কঠিন ঝগড়া। '
ধ্রুব এষের ভাষা নির্মেদ, ঝরঝরে, সহজ এবং অলংকারে ভরপুর। শব্দের বাহারি ব্যবহার আর মুন্সিয়ানা অন্ধ সেই বেহালা বাদকের মায়াবি সুরের মত পরিপাটি। হেমিলনের বাঁশি শুনে ছোকরারা যেমন দলবেঁধে তার পেছনে চলে যায়, ধ্রুব এষের গল্প বলার ঢং পাঠককে তেমন এক জাদু দেখিয়ে পৃথিবীর অন্যসব কর্ম থেকে হেয়ালী করে তোলে।

খেয়ালী পাঠক তখন ধ্রুব এষের রহস্যে ভরা সাসপেন্সে হাই হুতোষ তুলতে আপোষ করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের এযুগের এডগার এলান পো-কে পড়ার জন্যে পাঠক তখন খেই হারিয়ে কেবল রহস্যে ডুব মারতে বাধ্য হবেন।
`বাম হাতে ছয় আঙুল'-এর প্রচ্ছদ করেছনে ভারতের কলকাতার আনন্দবাজারের বিখ্যাত আর্টিস্ট শিল্পী সুব্রত চৌধুরী। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে একশত পঞ্চাশ টাকা।

পৃষ্ঠা একশো বারো। গাঢ় ভারমিলিয়ন রেডে বইটির পরিচ্ছন্ন বাধাই এর চেয়েও আসল রহস্য ওৎ পেতে আছে বইটির ভেতরের প্রতিটি লাইনে। চলমান বাস্তবতায় সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার রহস্য গল্পে ধ্রুব এষ পাঠকের হৃদয়ে এযুগের এডগার এলান পো হিসেবে ভবিঘ্যতে আরও আলো ছড়াবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

....................................................

এডগার এলান পো আমারও প্রিয় লেখক। রুদ্ধশ্বাস রহস্য, থ্রিল, সাসপেন্স, ঘটনার পর ঘটনার মধ্যে খুঁজে পাই অ্যাডভেঞ্চার।

ওয়েস্টার্ন গল্পের এই নির্ভরতা থেকে আমাকে এবার বোকা বানালেন ধ্রুব'দা। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ টাটকা এবং রহস্যে ভরা মৌলিক সাসপেন্স ধ্রুব এষ-এর রহস্য উপন্যাস `বাম হাতে ছয় আঙুল'। কাফি আল হাসান আর রাফি আল হাসান যমজ ভাই। রাফি আল হাসানের বাম হাতে ছয়টা আঙুল। অভিনয় করতেন সিনেমায়।

জিএম রসুল ছদ্মনামে সে একজন দুর্ধর্ষ খুনি। কাফি আল হাসানের বাম হাতে স্বাভাবিক মানুষের মত পাঁচ আঙুল। কিন্তু প্রয়োজনে কাফি আল হাসানও বাম হাতে নকল একটি আঙুল লাগিয়ে খুন করেন। সবগুলো খুনের মোটিভ একই ধরনের। একটার পর একটা সিরিয়াল কিলিং।

আবার কাফি আল হাসানের ছেলে পাগলা কবি র.আ.হ, মুস্তফি। মুস্তফি'র বাম হাতেও চাচার মত ছয় আঙুল। এদের মধ্যে আসল খুনি কে? সেই রহস্য উদ্ধারের ভার পাঠকের। আইরা একজন টপ র্যাম্প মডেল। নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন আইরা।

একষট্টি বছর বয়সি অবিনাশ মণ্ডল একজন বাংলা সিনেমার মেকাপম্যান। খুন হন একই রাতে নারিন্দার ভাড়া বাসায়। আইরার ইন্টারভিউ করতে যাওয়া তরুণ রিপোর্টার দারিয়ুস। দারিয়ুসকে কিডন্যাপ করে জিএম রসুলরা। বেবি আক্তার মডেল আইরার ফ্ল্যাটের কাজের বুয়া।

বেবি আক্তারও খুন হয় ঘটনার কয়েক দিন পর। অপহৃত হন জনপ্রতিনিধি কমরেড ওহাব উদ্দিন সিকদার। তসাদ্দুক এম হাসান, বামন। সফটওয়্যার এনজিনিয়ার। `হার্ব এন বার্ব'-এ কাজ করেন `মসিয়ো তাতকু' ছদ্মনামে।

হার্ব এন বার্ব-এর কর্নধর হলেন আরডি মানে রেড ডেভিল। যিনি হলেন আসলে কাফি আল হাসান, মিডিয়ার আইকন।
কয়েকদিন পর খুন হন তরুণ রিপোর্টার দারিয়ুস। তারপর কুন হন তসাদ্দুক এম হাসান। তার আগে কমরেড ওহাব উদ্দিন সিকদারকে জীবিত উদ্ধার করে এলিট ফোর্স।

তখন খুন হয় তিনজন। ধারণা করা হয় আসল জিএম রসুল তখন এলিট ফোর্সের গুলিতে নিহত হয়। জিএম রসুল তার সঙ্গীদের নিয়ে গ্রেনেড চার্জ করেছিল। তার বাম হাত উড়ে যায়। বাম হাতে তার কয়টা আঙুল তার কোনো প্রমাণ আর মেলানোর সুযোগ থাকে না।

উলিপাড়ার ইয়াসিন পরদেশী খুন হন। সকল খুনের মোটিভ একই ধরনের। গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর এনটি কাটার দিয়ে জবাই।
এলাহি বিল্লা পড়াশুনা করেছেন ফিলোসফিতে। পত্রিকায় চাকরি করেন।

প্রচুর সাইকোলজির বই পড়েন। অফিসের সবাই বিল্লাকে পণ্ডিত বলে ডাকে। চাঞ্চল্যকর এই সব খুনের একটা কুল কিনারা করার চেষ্টা করেন এই পণ্ডিত। সকল রহস্য যখন উন্মোচিত হবার পথে তখনই নারিন্দার মেইন রোডের পাশ থেকে মেঘলা সন্ধ্যায় অপহৃত হন এলাহি বিল্লা।
টানটান উক্তেজনা আর রহস্যে ভরপুর এক চলমান বাস্তবতার ক্যানভাস ধ্রুব এষ-এর রহস্য উপন্যাস `বাম হাতে ছয় আঙুল'।

এডগার এলান পো জীবিত থাকলে তিনিও এটি এক বসাতেই পড়তেন। শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ঐতিহাসিক আন্দোলনের কারণে আমি এক বসাতে বইটি পড়ি নি। ছয় বসাতে পড়েছি। খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েছি। পুরোপুরি রহস্য আর অ্যাডভেঞ্চারটা নেয়ার জন্য একটু একটু করে পড়েছি।

আর বারবার এলাহি বিল্লা'র পত্রিকা অফিসের আলীকে বলেছি, আলি, চা দাও। জবাবে আলী বলেছে, জে সার। এই আলী `স্যার'কে বলে সার। এই আলী'র হাতে চা খেতে ওই পত্রিকা অফিসে প্রায়ই আড্ডা দিতে যান দুই বন্ধু। তানভির হাসান জুয়েল ওই পত্রিকা অফিসের চিফ আর্টিস্ট।

তিনজনই আর্টিস্ট। মাসুক হেলাল, উত্তম সেন আর তানভির হাসান জুয়েল। প্রতি বছর বন্ধু দিবসে এই তিন আর্টিস্ট বন্ধু আলী'র হাতে চা খান আর আড্ডা মারেন। কিন্তু খুনের রহস্য নিয়ে যতোসব ইন্টিকুলুস। সেই সব ইন্টিকুলুসের আসল রহস্য উন্মোচন করতে পাঠককে আগে `বাম হাতে ছয় আঙুল' এই রহস্য উপন্যাসটা পড়তে হবে।


১৯৭৩ সালে আন্দ্রেই তারকোভস্কি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, `কাল মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। রিগার উপকূলে গেছে মেরিনা। তার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছে। লারিসাকে নিয়ে। সিরিয়াস এবং কঠিন ঝগড়া।

'
ধ্রুব এষের ভাষা নির্মেদ, ঝরঝরে, সহজ এবং অলংকারে ভরপুর। শব্দের বাহারি ব্যবহার আর মুন্সিয়ানা অন্ধ সেই বেহালা বাদকের মায়াবি সুরের মত পরিপাটি। হেমিলনের বাঁশি শুনে ছোকরারা যেমন দলবেঁধে তার পেছনে চলে যায়, ধ্রুব এষের গল্প বলার ঢং পাঠককে তেমন এক জাদু দেখিয়ে পৃথিবীর অন্যসব কর্ম থেকে হেয়ালী করে তোলে। খেয়ালী পাঠক তখন ধ্রুব এষের রহস্যে ভরা সাসপেন্সে হাই হুতোষ তুলতে আপোষ করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের এযুগের এডগার এলান পো-কে পড়ার জন্যে পাঠক তখন খেই হারিয়ে কেবল রহস্যে ডুব মারতে বাধ্য হবেন।


`বাম হাতে ছয় আঙুল'-এর প্রচ্ছদ করেছনে ভারতের কলকাতার আনন্দবাজারের বিখ্যাত আর্টিস্ট শিল্পী সুব্রত চৌধুরী। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে একশত পঞ্চাশ টাকা। পৃষ্ঠা একশো বারো। গাঢ় ভারমিলিয়ন রেডে বইটির পরিচ্ছন্ন বাধাই এর চেয়েও আসল রহস্য ওৎ পেতে আছে বইটির ভেতরের প্রতিটি লাইনে।

চলমান বাস্তবতায় সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার রহস্য গল্পে ধ্রুব এষ পাঠকের হৃদয়ে এযুগের এডগার এলান পো হিসেবে ভবিঘ্যতে আরও আলো ছড়াবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। ।

সোর্স: http://prothom-aloblog.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।