আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা সফল

বগুড়ার তিন উপজেলায় চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষে সফল স্থানীয় কৃষকরা। জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা এবং ধুনট উপজেলায় এবার ১৩২ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। ভোজ্য তেলের চাহিদা অনেকাংশে  মেটানো ও বন্যাকবলিত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে আনতে বিস্তীর্ণ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

বগুড়ায় ব্যাপক ভিত্তিতে এই চাষ এখনো শুরু হয়নি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনার আওতায় না থাকলেও নিজ উদ্যোগে এই ভোজ্য তেলের চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

আগ্রহী কৃষকদের ব্র্যাকের কৃষিবিভাগ টেকনিক্যাল সার্পোট দিয়ে আসছে। পোকামাকড় দমনে কীটনাশক প্রয়োগ, সার প্রয়োগসহ চাষ সংক্রান্ত যাবতীয় পরামর্শ কৃষকদের দিয়ে আসছে স্থানীয় ব্র্যাকের কৃষি বিভাগ। পরামর্শ পেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ ফসলের চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। সূর্যমুখী চাষ এলাকায় প্রথম হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, বন্যা কবলিত এলাকা হওয়ায় এখানে ব্যাপকভাবে সরিষার চাষ করা হয়।

কিন্তু সরিষার চেয়ে সূর্যমুখী লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দিন দিন এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ব্র্যাকের কর্মীরা সূর্যমুখী চাষে স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছেন।

ব্র্যাকের কৃষি বিভাগের ম্যানেজার ওয়াহেদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে নারচী ইউনিয়নের গোদাগাড়ি ও কুতুবপুর এলাকায় ১শ' ৫৫ জন কৃষককে সূর্যমুখী চাষে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনিং কাজে লাগিয়ে সারিয়ারকান্দি উপজেলায় ৬২ একর, সোনাতলায় ৪০ একর এবং ধুনটে ৩০ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে জমিতে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়।

প্রতি বিঘা জমিতে ৩ কেজি বীজ, সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দু'বার সেচ দিতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ। অপরদিকে, সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদিত সূর্যমুখী বীজ বাজারে ১৪থেকে ১৫শ' টাকা মণ দরে বিক্রি করা যাবে।

আর তা থেকে একজন কৃষকের খরচ বাদে লাভ হবে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ হাজার হাজার টাকা। সূর্যমুখী বাড়ির আঙ্গিনায়, বাগানে শোভা বর্ধনকারী ফুল গাছ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এ ফসল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে।

ব্র্যাকেরকৃষি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, আমরা দু'ফসলি জমিতে ওই ফসলের চাষ করেছি। যাতে করে কৃষকেরা আমন ও বোরো ফসলের মাঝে এ ফসল অল্প পরিশ্রমে উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখেন। সে আশা নিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.