আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

১২.১২.১২তে বিয়ে করিয়াছি ।বড় ভাই হলেন আমার বিয়ের সাক্ষী আর আমরা দম্পতি হইয়াছি বড় ভাই আর ভাবির বিয়ের সাক্ষী

নিজের সর্ম্পকে বলার মতো আমার কোন অর্জন নেই খুব ইচ্ছা ছিল না ১২.১২.১২ ম্যাজিক ফিগারে মন দেওয়া-নেওয়া বিষয়ক কিছু একটা করিব । গত কাল এই বিষয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি''প্রিয় সাকিব ভাই ,মডেল মোনালিসা ,মডেল সিদ্দিকুর সহ আরো অনেকেই ম্যাজিক ফিগার ১২.১২.১২ তে বিয়ে কইরা ফেলবেন । সময় সুযোগ না হওয়ায় আমি এবার বাদ দিলাম । তবে আগামী বছর মানে ১১.১২.১৩ তে ঠিকই বিয়া করে ফেলমু কইয়া দিলাম সবারে । আমার বিয়াতে আসবেন কিন্তু ।

খাওয়া -দাওয়া একবারে হবে না । তবে উপহার ছাড়া বিয়েতে আসার পার্মিশন পাবেন না । আইসা পরে লজ্জা পাবেন কিন্তু । '' কিন্তু ব্যর্থ হইলাম । সবাই যে ম্যাজিক ফিগার ১২.১২.১২ কে নিয়ে মতামাতি শুরু করিয়াছে তাতে আর নিরব থাকি কি করিয়া ।

বিবাহিত-অবিবাহিত সবাই মিলে এই দিন নিয়ে যে আন্দোলন শুরু করিয়াছে সেখানে আমার শান্ত থাকা অন্যায় হবে ভেবে আগের রাত স্থির করিলাম কাল ক্যাম্পাসে গিয়ে কোন রূপ বাছ-বিছার না করিয়া দুমাইয়া মেয়েদের প্রপোজ করুম । সেই উদ্দেশ্যে আগের রাত শার্ট-প্যান্ট ভালো করে ইস্ত্রি দিয়ে রাখেছি । সকালে ভালভাবে নিজেকে সাজিয়ে গায়ে পারফিউম দিয়ে মনে মনে আসা নিয়ে চলি ক্যাম্পাসে । বাস থেকে নেমেই টার্গেট করে একজনকে অফার করি । কি ভাগ্যরে আমার প্রথম পরীক্ষায় জয় লাভ করিয়াছি।

মাইয়া কহিল ঠিক আছে আমি আপনার প্রপোজ গ্রহণ করিলাম । আমি বলিলাম তাহলে চল কোথাও যাই ,সে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিল । একটু পর আমি ক্লাসে চলে গিয়ে ফিরে এসে ফোন দিলে সে জানায় ভাই ! (মুহূর্তে ভাই হইয়া গেলাম ) আমার বয় ফ্রেন্ড আমাকে অনুমতি দেয় নি তাই আমি স্যরি । আমি কহিলাম তা সম্ভব হবে না ,আমি তোমাকে চাই বলে আমি চিৎকার শুরু করিলাম । চিৎকার শুনে আর এক মাইয়া আমার পেছন থেকে থাপ্পর দিয়ে বলিল আরে মিয়া এক মাইয়া চলে গেল তাতে কি হইয়াছে আর কি মাইয়া নেই ।

ডানে-বামে ভালো করে চাহিয়া দেখেন ভাগ্যে থাকিলে পাইয়া যেতে পারেন । আর আরেকটি কথা আমারও সিট খালি ট্রাই করে দেখতে পারেন । মাইয়াটা দেখতে আগেরটার মত না হইলেও আমার মনে হইল মেয়েটা উদার হইবে । আমার দুঃখ কষ্ট বুঝার ক্ষমতা রাখিবে ;তাই অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি আমিন কহিলাম । সেই মূহুর্তে মেয়েটি আমাকে তাহার মোবাইল ফোনটি দিয়া কহিল নাম্বারটি দেন আমাকে ।

তারপর আমাকে কহিল আচ্ছা আমার ক্লাশ আছে ;ক্লাশ শেষ করে আমি আপনাকে কল দিব চিন্তা কইরেন না । আমি কহিলাম ঠিক আছে ডার্লিং এখন যাও । প্রায় দুই ঘন্ট অপেক্ষা করিয়া যখন সে দেখিলাম আর আসেনি তখন আমি তাহাকে কল করিয়া দেখিলাম তাহার ফোন বন্ধ । মূহুর্তে মনটি খারাপ হইয়া গেল । ভাবলাম তাহা হইলে আমার আজ আর কিছু হইতেছে না ।

ভারাক্রান্ত মন নিয়ে একদিক সেদিক হাঁটা-হাঁটি করিতেছি এমন সময় হঠাৎ সে ফোন করিয়া সে কহিল ডার্লিং কিছু মনে করিও না আমি একটু সাবেকি(সাবেকি জামেলা বুঝিলাম না!! কিছু হতে পারে ) জামেলায় পড়িয়াছিলাম । এখন আমাকে একটু সাহায্য করুন আমার মোবাইলে একশ টাকা লোড করিয়া । প্রথম প্রেমকে ঠিকিয়ে রাখিবার মহান উদ্দ্যশে আমি ধার করে তাহাকে একশ টাকা লোড করিয়াছি । কিন্তু ভাগ্য আমার খারাপ বলিতেই হইবে এরপর থেকে তাহার আর মোবাইল অপেন পাইনি । মনটা আরও খারাপ করিয়া যখন খাবারের উদ্দ্যশে ক্যাফের সামন দিয়ে যাইতেছিলাম ঠিক সেই সময় এক হৃদয়ে আঘাত করা দৃশ্য দেখিয়া ঘাসের উপর বসে পড়িলাম ।

দিখিলাম সেই মেয়েটি একটি নাদুস-নুদুস ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলে যাইতেছে । আমি আর কিছু বলিতে পারি নি । হুশ ফিরিয়া আসিবার পর আমি শপথ করিলাম না প্রেম আমার আজকে করিতে হইবে । তাই বিকালের দিকে হঠাৎ সামনে একটা অনিন্দ্যসুন্দরী মেয়ে দেখিয়া প্রপোজ করিলাম । মেয়েটি আমার প্রপোজ সাদরে গ্রহণ করিয়া আমাকে আমি কৃতজ্ঞ করিল ।

এজন্য আমি সারা জীবন মেয়েটার কাছে ঋনি থাকিব বলে মনরে কহিয়া দিয়েছি । মন বলেছে সে আমার অডার অক্ষরে অক্ষরে পালন করিবে । মনরে কহিলাম পালন কর আর না কর তোমার কারণেতো সবই হইতেছে তাই এটা তোমারই দায়িত্ব । তবে এই মেয়েটি আগেই বলছি অনেক উদার । শুধু একটি আবেদন করিল তাহার নাকি অনেক দিনের শখ প্রাণের মানুষকে সাথে নিয়ে সিলেটের জনপ্রিয় ''পাচঁ ভাই হোটেলে'' ভাত খাইবে ।

আমি তাহার আবেদন বিনা বাক্য-ব্যয়ে গ্রহণ করিলাম । সে আমাকে ধন্যবাদ সূচক এক মিষ্টি হাসি উপহার দিল । আমি খুব আনন্দিত হইলাম । তারপর পাচঁ ভাই হোটেল থেকে ফিরে আসার সময় সে কহিল ডার্লিং আমার কি জানি মনে হইতাছে আমরা বিয়ে করিয়া নিলে ভাল হইবে । শুনে আমি কিহিলাম তাহলে চল করিয়া ফেলি ।

যে কথা সেই কাজ ;আমরা কাজি অফিসের দিকে রয়ানা হইবার সময় সাহ্যযের জন্য এক বড় ভাইকে ফোন করিলে ভাই বার বার আমার ফোন কেটে দিলেন । আমি খুব চিন্তায় পড়িলাম । তারপর আবার ফোন করিলে কহিলেন আরে ভাই জান না আজ কি । আমি কহিলাম জানি বলেইতো ফোন দিয়েছি দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন । ভাই আমার কহিলেন আমি এখন তোমার ভাবিরে নিয়ে একটু কাজে আছি পরে ফোন দাও ।

আমি কহিলাম আমার এখনই দরকার । তারপর ভাই কহিলেন দাঁড়াও তাহলে আমি আসিব ঘন্ট খানিকের মধ্যে । হঠাৎ দেখি ভাই আসিলেন ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে । তারপর কাজি অফিসে ভাই হইলেন আমার বিয়ের সাক্ষী তারপর আমরা দম্পতি হইলাম ভাই আর ভাবির বিয়ের সাক্ষী । এরপর বউ কে নিয়ে মনে পরম শান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলাম (সম্পূর্ণ কাল্পনিক ।

সারা দিন পরীক্ষা নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলাম দিনটিই স্মরণে আসেনি । এই লেখা আজ যাদের হইয়াছে তাদেরকে উৎসর্গ করিলাম ) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।