আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কম দিয়েননা আল্লা গুনাহ দিবো!!...

আমি মনে প্রাণে একজন মুসলিম। ঘৃণা করি ধর্ম বিদ্বেষী নাস্তিকদের এবং ধর্ম ব্যবসায়ী ছাগু তথা উগ্রবাদীদের। ক্যঁচাল পছন্দ করিনা । । ছবি-গুগল থেকে বাবা ব্যবসা করতেন রংপুরে গ্রামের বাড়িতে মা আর দাদী থাকতেন।

বাবা সপ্তাহে দুইদিনের জন্য বাড়ি আসতেন এসে সংসারের বাজারাদি করে দিতেন শুধু প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় মাছ দুধ সবজি এগুলো কিনতে আমাকে বাজারে যেতে হতো। আমাদের বাড়িতে তখন ফ্রিজার-রেফ্রিজারেটর ছিলনা এজন্য প্রতিদিনের বাজার করতে হতো। আমি বাবা-মার বড় সন্তান বয়স তখন ৭-৮ হবে। তখন থেকেই বাজার করা শুরু.. আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে এককিলোমিটার দক্ষিণে রুপনগর বাজার আর এককিলোমিটার উত্তরে বটতলা বাজার। রুপনগর বাজার শুরু হয় সকাল ৮-৯ মধ্য আর বটতলা বাজার শুরু হয় ১০-১১ পর্যন্ত।

বাড়িতে মা আমার চার পকেটে টাকা ভাগ করে দিয়ে বলতেন এই টাকা দিয়ে মাছ এই টাকা দিয়ে দুধ এই টাকা দিয়ে তরকারী কিনবে। আমি তাই করতাম। সকাল হলেই ৭-৮ বছরের ছোট্ট একটি বালক হেটে পাড়ি দিত গোপালপুর থেকে রুপনগর বাজারে। হাতে থাকতো বাজারের ঝুড়ি আরেক হাতে দুধের জগ। পথে পড়তো একটি বাশের তৈরী সাকো।

ছোট্ট একটা নদী কিন্তু খরস্রোতা সেই সাঁকো পার হতে হতো। নদীটিকে বলা হয় দোয়া। সাকোতে উঠলে পানির স্রোতে সাকো কাপতো থরথর করে। কোন কোন দিন গ্রামের সহ্রদয় ব্যক্তিগণের হাত ধরে বাসের সাঁকো পার হতাম। বাজারে গিয়ে কিনতাম মাছ তখন একপকেট থেকে টাকা বের করে ৫-১০ টাকার মাঝ কিনতাম জেলে তা আমার ঝুড়িতে (গ্রাম্যভাষায় খালই বলে) ভরে দিত।

জেলে যখন মাছ দিত তখন আমি বলতাম ‘কম দিয়েননা আল্লা গুনাহ দিবো’ এভাবে দুধ কিনতাম ৫ টাকার আধাসের তখনও বলতাম ‘কম দিয়েননা আল্লা গুনাহ দিবো’ এভাবে মাছ দুধ কেনা হলে তরকারী কিনে চলে যেতাম গোলজার খাঁর দোকানে। সেখানে একটাকা দিয়ে একটা আইসক্রীম কিনে মনের সুখে খেতে খেতে বাড়ি ফিরতাম। বাজারে যেতে তখন পাড়ি দিতে হতো এরকম একটি সাঁকো এদিকে আমাকে বাজারে পাঠিয়ে মা আর দাদী বাড়ির বৈঠকখানা ঘরের জানালা দিলে চেয়ে থাকতো আর আল্লা-আল্লা করতো কখন বাজার থেকে ফিরবো আমি। যতক্ষণনা বাড়ি ফিরতাম ততক্ষণ আমার মায়ের অধির আগ্রহে চেয়ে থাকতেন পথের দিকে। বড় হয়ে জেনেছি তারা চিন্তা করতো বাঁশের সাকোর কথা ভেবে।

কারন প্রতি বছরই দু একটি শিশু সাকো পার হতে পানিতে পরে মারা যেত। এজন্য মায়ের চিন্তার শেষ ছিলনা। বাজার থেকে বাড়ি ফিরলে মা আমার হাত থেকে দুধের জগ নিতেন দাদী নিতেন বাজারের ঝুরি। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতেন….সেইসব দিনের কথা মনে পড়লে আজ বড় আনমনা লাগে। কেন যে বড় হলাম….ফেলে আসাদিনগুলি বড় পীড়া দেয়।

(কয়েকদিন আগে মুন্সিনানা এসেছিলেন তার মুখে শুনলাম ডায়লগটি ‘কম দিয়েননা আল্লা গুনাহ দিবো’ নানা তখন আমি বাজারে গেলে তিনি আমায় চুপ করে অণুসরন করতেন এবং বাসের সাকো পার হওয়া পর্যন্ত)  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।