আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জামাত-শিবিবের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছেন যে সকল সুশীলবর্গ - তাদের সবিনয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি

যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী করছি একদল মানুষ আছে যারা সব সময় সকলের দৃষ্টি তাদের দিকে নিবদ্ধ থাকুক সেই কামনায় ব্যস্ত থাকেন। এরা নিজেদের সাধারন থেকে আলাদা ভাবেন - জ্ঞানে বা বিদ্যায় উনারা নিজেদের একটা বিশেষ শ্রেনীতে অন্তর্ভুক্ত বিবেচনা করেন। এই বিশেষ শ্রেনীকে আম জনতা সুশীল হিসাবেই চিনেন। এই সুশীল শ্রেনীর মাঝে আবার অতিবাম এবং নাস্তিকদের আধিক্য বেশ লক্ষ্যনীয় বটে। দেশে যখন কোন বিশেষ পরিস্থিতি উদ্ভব হয় - সুশীলরা তখন সাময়িক ভাবে অসহায় বোধ করে - কারন কোন পক্ষ নিলে আবার সুশীল ভাবটা নষ্ট হবে সেই বিষয় ভাবতে গিয়ে কিছু সময় থম্বসিস (ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শব্দ) রোগে আক্রান্ত হয়ে চুপ চাপ থাকেন বা প্রসংগের বাইরে ফুল পাখী কবিতা নিয়ে বেশ কাব্যিক বা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন - মানে অনেকটা অনুষ্ঠানের ফিলারের মতোই।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে পরপর দুই দিন জামাত শিবির যে তান্ডব করলো - তার বিপরীতে যদি এই বাম নাস্তিক সুশীলদের অবস্থান দেখা হয় - তাহরে উপরের দাবীর পক্ষে যথেষ্ঠ প্রমান পাওয়া যাবে। বাম নাস্তিক সুশীল শ্রেনী হয়তো আজ কালের মধ্যেই থম্বসিস থেকে বের হয়ে জ্ঞানগর্ভ্বয়ান ছাড়বে - জামাত শিবিরকে পিটিয়ে লাভ নেই - এদের বিরুদ্ধে আদর্শিক সংগ্রাম করতে হবে। হয়তো এরা দাবী করে দেশ থেকে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করে নাই আওয়ামীলীগ - সুতরাং সব দোষ আওয়ামীলীগের। ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা বিষয় এখানে পরিষ্কার হওয়া জরুরী - ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সমুখ সমরে বিজয় হলেও সেই বিজয় সুসংহত করার আগেই বিজয়ের নায়কদের হত্যা করে পরাজিত শক্তিকে ফিরিয়ে এনেছে সামরিক শাসকরা।

সেই পরাজিত শক্তি বাংলাদেশের ভৌগলিক স্বকীয়তা মেরে নিলেও আদর্শিক বিজয়কে মেনে নেয় নি। যার বহু প্রমান আমরা দেখেছি - বিশেষ করে জামায়াত -শিবির আজ পর্যণ্ত মুক্তিযুদ্ধে ওদের বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানকে ভুল মনে করেছে বলে কোথাও বলেনি। মুক্তিযুদ্ধে গনহত্যা, ধর্ষন, লুট, অগ্নি সংযোগের সাথে তাদের সংশ্রিষ্টতাকে ভুল বলে ক্ষমা চায়নি। মাত্র কয়েকদিন আগে জামায়াত তাদের গঠনতন্ত্রে মুক্তি যুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েছে নিজেদের বৈধ দল হিসাবে টিকিয়ে রাখাল লক্ষ্যে। সুতরাং নির্দিধায় বলা যায় - ১৭ এর যুদ্ধ এখনও চলমান - চুড়ান্ত বিজয় অর্জন নির্ভর করছে জামায়াত শিবিরের আদর্শের অর্থাৎ তাদের পাকিস্তানী আদর্শের চুড়ান্ত পরাজয়ের মাধ্যমে।

১৬ ডিসেম্বর অস্ত্রের যুদ্ধ শেষ হয়েছে - এখন শেষ ফ্রন্টের যুদ্ধ চলছে আদালতে - আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়িত নেতাদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তিই হবে বাংলাদেশের জণ্যে চুড়ান্ড বিজয়। এই বিষয়টা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেকেই অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলেও জামায়াত- শিবির ঠিকই অনুধাবন করেছে। তাই এরা মরন-কামড় দেওয়া জন্যে জানবাজি হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশে বিদেশে অর্থ আর জনবল দিয়ে এরা বিচারের বিরুদ্ধে একটা প্রতিরোধ তৈরী চেষ্টা করছে।

এখানে সুশীলদের জন্যে একটা প্রশ্ন - যে বিচারটা চলছে তা কি বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচরিত আইনের দ্বারা অনুমোদিত? যে আদালত দেশের সংবিধানকে অনুসরন করে প্রতিষ্ঠিত এবং বৈধ ভাবে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে - তার বিরুদ্ধে শ্রোগান দেওয়া - তাকে অবৈধ বলা আর তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্যে দেশে অনাসৃষ্টি তৈরী করা কি প্রচলিত আইনে অপরাধ নয়? গত কয়দিন দেখেছি - পুলিশ যথেষ্ঠ ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে - কে দিয়েছে জানি না। এতে জামায়াত শিবির কর্মীরা বেশ উৎসাহের সাথে পুলিশকে প্রহার করেছে - রাইফেল ছিনিয়ে নিয়েছে। লক্ষন দেখে মনে হচ্ছে এরা খুবই বড় ধরনের একটা প্রস্ততি নিয়ে আসছে। এখন আমাদের করনীয় কি? প্রথমত সুশীলদের ফুল পাখি কবিতায় বিভ্রান্ত না হওয়া। সোজা স্মরনে রাখা এই দেশটাকে স্বাধীন করার জন্যে একটা মারাত্বক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়েছে।

সেই সময়ের তরুনরা স্বেচ্ছায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে - ৩০৩ রাইফেল বা একটা গ্রেনেড নিয়ে প্রবল শক্তিশালী পাকবাহিনীকে পরাজিত করেছে। আমরা তাদের উত্তরসুরী। আমাদের দায়িত্ব হলো মহান শহীদদের শুরু করা যুদ্ধকে চুড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে নিয়ে যেতে কাজ করা। যার যা সাধ্য আছে - তা ব্যবহার করেই স্বাধীনতার শত্রু জামাত- শিবিরকে মোকাবেলা এবং পরাজিত করা। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে নির্বিঘ্নে চলতে দেওয়া।

সেই লক্ষ্যে এই আদালতের বিরুদ্ধে যেখানে কোন কথা - প্রতিবাদ বা বিতর্ক তৈরী করার চেষ্টা করা হয় - তাকে সরাসরি মোকাবেলা করা। সবচেয়ে সুবিধা হলো - এখন তথ্যপ্রবাহের যুগে মুক্তিযুদ্ধে এই কুলাঙ্গারদের অপরাধের প্রমান পেতে কোন সমস্যা হয় না। মাঠে ময়দানে আড্ডায় কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাংগনে নিজেদের সজাগ রাখা - যেখানে বিরুদ্ধে সামান্য প্রচারনার আওয়াজ পাওয়া যাবে সেখানেই শতগুন বেশী মুক্তিযুদ্ধে এই অপরাধীদের তথ্য তুলে ধরা। আর যুদ্ধ যদি হয় ময়দানে - সেখানেও মোকাবেলার জন্যে নিজেদের প্রস্তুত রাখা। এই বিচারের রাজনৈতিক ভাবে কে লাভবান হবে - কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই আলোচনার বিভ্রান্তিতে টেনে নিয়ে যেতে চাইবে সুশীল নামধারী কি কাপুরুষ - এদের কাজো সোজা প্রশ্ন - অপরাধীর বিচার আগে নাকি বিতর্ক আগে।

যে এই বিচারের ক্ষতিগ্রস্ত হবে - সে তার অবস্থানের জণ্যেই ক্ষতি মুখে পড়বে এবং সে নিজেই তা বেছে নিয়েছে - আর যারা লাভবান হবে তাও তাদের নিজেদের অবস্থানের জন্যেই। যারা ভুল পক্ষ অবলম্বন করবে - তাদের জন্যে শুধু করুনা ছাড়া আরকিছুই করার নেই। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।