somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাই, ক্যামন আছেন ? আপনার বাসা পল্টনে না ? আপনার বাসা এলিফ্যান্ট রোডে না ?

৩০ শে মে, ২০১২ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা ১:
তখন রাত ৯.৩০ টার মত হবে । মতিঝিলে অফিস ছুটির পর বন্ধুদের সাথে এজিবি কলোনিতে সান্ধ্যকালীন আড্ডা মেরে আইডিয়াল স্কুলের গেট থেকে সেগুনবাগিচায় বাসার উদ্দেশ্যে রিক্সায় চড়ে বসলাম। রিক্সা টিএনটি কলেজ পেরিয়ে ফকিরাপুল হয়ে নয়াপল্টন এর উপর দিয়ে মেইন রাস্তায় না গিয়ে ফকিরাপুল দিয়ে দৈনিক বাংলার দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিলো। হৈ-হৈ করে উঠলাম আমি ও সুমন দুজনেই, কারন সুমন নাইটিংগেল মোড়ে নামবে, তার বোনের বাসা সেখানে। রিক্সাওয়ালাকে বুঝিয়ে বল্লাম মেইন রাস্তায় যাবার জন্য । সে কোনমতেই আমাদের কথা শুনবে না। সে বলল, পল্টন নতুনরাস্তা দিয়ে সে সেগুনবাগিচা যাবে। আর না পেরে মেজাজ খিঁচড়ে গেল। রিক্সাওয়ালাকে বল্লাম আর একপা যদি তুমি সামনে যাও এক চড়ে তোমার সবগুলি দাঁত আমি ফেলে দিবো। আমার হুমকিতে সে এতক্ষনপর পিছনে ফিরল। তার মুখ দেখে কেমন জানি থমকে গেলাম। তাও ধমক যেহেতু দিয়েই ফেলেছি নিজের অবস্থানে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে হলো। সে কোন কথা না বলে রিক্সা ঘুরিয়ে নয়াপল্টনের পথেই যাওয়া শুরু করল।

নাইটিংগেল মোড়ে এসে সুমন নেমে গেল, যাবার সময় ইংগিতে রিক্সাওয়ালার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়ে গেল। রিক্সা বিজয়নগরদিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজয়নগর পানির ট্যাংকির মোড়ের আগে মুক ও বধির স্কুল এর সামনে হঠাৎই আমার রিক্সার স্পিড পুরোপুরি স্লো হয়ে গেল। এখানে কোন দোকানপাট না থাকায় এবং সোডিয়াম লাইট এর কম আলোতে সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায় না। তাছাড়া রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন বা ব্র্যাক ব্যাংক তখনও এখানে হয় নি তাই যায়গাটা নির্জনই বলা চলে। দেখতে না দেখতে একটা রিক্সা এসে কোনাকুনিভাবে আমার রিক্সার সামনে দাঁড়িয়ে গেল। সামনের রিক্সা থেকেই গলা বাড়িয়ে একজন আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ভাই আপনার বাসা পল্টনে না ? তিনজন ছিলো সেই রিক্সায়। আশ্চর্য্য হয়ে গেলাম, ঢাকা্য় কি ইদানিং রিক্সা থামিয়েও ভদ্রতা করে কাউকে তার বাসার এড্রেস জিজ্ঞেস করা শুরু হয়েছে নাকি ? আমি ক্ষনিকের জন্য থমকে গেলাম। কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। কিছুক্ষন আগেই রিক্সাওয়ালার সাথে বাক-বিতন্ডা হয়ে যাওয়াটা তখনও মাথা থেকে যায়নি।

আমাকে বাসার কথা জিজ্ঞেস করতে করতেই একজন নেমে আমার রিক্সার বাম পাশে চলে এসেছে হাতে ছুরি বা এজাতীয় কিছু। তারমানে বামপাশের রাস্তা ব্লক। আরেকজন রিক্সাথেকে নেমে আমার ডানে আসার জন্য তার রিক্সা কে পাশ কাটাচ্ছে । মুহুর্তেই বুঝে গেলাম কি ঘটতে যাচ্ছে............ এক মুহুর্তও দেরী না করে কি করতে হবে ভেবে ফেললাম......... বাঁচতে হলে ডান পাশে যে পথ এখনও ফাঁকা আছে সে পথে লাফ দিতে হবে। সেকেন্ডেরও কম সময়ে রিক্সা থেকে ডানদিকে লাফ দিয়ে এক দৌড়ে আইল্যান্ড হয়ে রাস্তার উল্টো পার্শে চলে এলাম । মনে হয় দুই থেকে তিন সেকেন্ডে এই কাজটি করেছি। ডানে বা বামে কোন দিকেই তাকাইনি। ভাগ্যক্রমে কোন গাড়ির নিচে না পড়েই রাস্তার উল্টোপার্শে মুসলিম সুইটস এর গেইটে। এখানে পর্যাপ্ত আলো এবং মানুষ আছে। হাঁপাতে হাঁপাতে এবার উল্টো দিকের রাস্তার দিকে তাকালাম। দুরে দুটি রিক্সা তখনও দাঁড়িয়ে আছে। কয়েকমিনিট পারও হল। কিছুক্ষনপর একটি রিক্সা পল্টনের দিকে এগিয়ে গেল। দুরথেকে দেখলাম সেখানে সেই তিনজন বসে আছে। আরএকটি রিক্সা নতুনরাস্তার দিকে ঘুরে গেল, আর আমিও নিজেকে সামলে বাসার পথে এগিয়ে গেলাম। তারপর কয়েকমাস আমি রাতের বেলায় বিজয়নগরের এই জায়গাটাদিয়ে আসা-যাওয়া করিনি।

ঘটনা ২ :
প্রথম ঘটনারই সমসাময়িককালের ঘটনা। আফিসথেকে একটু দেরীতেই বের হলাম। রাত প্রায় ৮ টা। মতিঝিলের চরিত্রানুযায়ী অফিসছুটির পর রাত আটটা হলেও রাস্তা পুরোপুরিই নীরব। ফুটপাথে কোন পথচারী নেইই বলাচলে।শুধু রাস্তা দিয়ে বাস বা প্রাইভেটকার বা রিক্সা চলছে। শাপলাচত্বরথেকেই রিক্সা নিলাম যথারীতি সেগুনবাগিচার উদ্দেশ্যে । রিক্সা রাস্তার পাশ ঘেঁসেই চলছিলো। আমার রিক্সা বিআরটিসির বাস কাউন্টার পেরিয়ে যাবার পরই ঘটনাটা ঘটল। পাশদিয়ে একটা রিক্সা এসে আমার রিক্সাকে আড়াআড়ি করে থামিয়ে দিলো। দুজন নেমে এল রিক্সা থেকে। একজন হাত বাড়িয়ে দিয়েই জিজ্ঞেস করল আমার বাসা এলিফেন্ট রোডে কিনা ? বিপদ টের পেয়ে রিক্সা থেকে নেমে রাস্তার মাঝে যেখানে আলো আছে সেখানে চলে এলাম। চিৎকার করে বল্লাম, আপনাদেরকে আমি চিনি না । আমার চিৎকারে কয়েকটি গাড়ি থেমে গেল। পরিস্তিতি টের পেয়ে দুজনই ফুটপাথের দিকে উঠে দ্রুত অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। বিপদ মুক্তির পর আমার রিক্সাওয়ালা এগিয়ে এল আমার দিকে। বল্ল, স্যার উঠেন ! আমার শরীর তখনও কাঁপছে ভয়ে। রিক্সাওয়ালার সাথে রাগ দেখিয়েও বাস্তবতা মেনে রিক্সায় উঠে বসলাম। রিক্সা সামনে এগিয়ে গেল। রিক্সাওয়ালাকে বললাম, তুমি বিপদের সময় চুপ ছিলা ক্যান ? সে বলল, স্যার এই সময়ে এরা এরকম নিয়মিতই করে। এদের মুখ সে চেনে, সে যেহেতু চেনে এখানকার পুলিশও নিশ্চই এদেরকে চেনে। পরিস্থিতি বুঝেই সে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে চুপ ছিলো।

ঘটনা ৩ :
রাত ৯টার মত হবে। অফিস পরবর্তী আ্ড্ডা মেরে টিএসসি থেকে রিক্সা নিয়ে যথারীতি বাসার উদ্দেশ্যে। রিক্সা কদমফোয়ারা পার হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়এর পাশ দিয়ে যাচ্ছে। কয়েকগজ এগুলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়এর কোনা দিয়ে সেগুনবাগিচার ভিতরে ঢুকে পড়ব। কোনায় চা পানবিড়ির একটা দোকানও আছে। রাস্তার এখানে আধো আলো আধো অন্ধকার। আবারও একটি রিক্সায় ২ জন। পাশ থেকে বলে উঠল, ভাই ক্যামন আছেন ? পূর্বে অভিজ্ঞতার কারনেই সাবধান হয়ে গেলাম। জোরে জোরে আমার রিক্সাওয়ালাকে বল্লাম, হেই মিয়া সামনে দোকানের সামনে দাঁড়াও, সিগারেট নিবো। ফা্উভাবে বলে উঠলাম, কবির একটা সিগারেট দে তো ! আমার হাঁক-ডাকের কারনেই আমার পুর্বপরিচিত ভাইএরা অবস্থা বেগতিক দেখে নিজের জান বাঁচানো ফরজ মনে করে আমার আর খোঁজখবর নেয়াকে সঙ্গত মনে করল না। তাদের রিক্সা দ্রুত পল্টনের দিকে এগিয়ে গেল। আমার রিক্সা সিগারেটের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়াতেই তাকে ধমক দিয়ে বল্লাম থামা লাগবে না, তুমি এগিয়ে যাও। সে শুধু একবার মাথা ঘুরিয়ে আমাকে দেখে কোন কথা না বাড়িয়ে সেগুনবাগিচার ভিতরে ঢুকে পড়ল।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১২ রাত ১১:৫৫
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মসজিদ না কী মার্কেট!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৩৯

চলুন প্রথমেই মেশকাত শরীফের একটা হাদীস শুনি৷

আবু উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীদের একজন বুদ্ধিজীবী রাসুল দ. -কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জায়গা সবচেয়ে উত্তম? রাসুল দ. নীরব রইলেন। বললেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সচিব, পিএইচডি, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মুখ থেকে আপনি হাদিস শুনতে চান?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:৪৫


,
আপনি যদি সচিব, পিএইচডি, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মুখ থেকে হাদিস শুনতে চান, ভালো; শুনতে থাকুন। আমি এসব প্রফেশানেলদের মুখ থেকে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, বাজেট,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকুতি

লিখেছেন অধীতি, ১৮ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:৩০

দেবোলীনা!
হাত রাখো হাতে।
আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে বিষাদ নেমে আসুক।
ঝড়াপাতার গন্ধে বসন্ত পাখি ডেকে উঠুক।
বিকেলের কমলা রঙের রোদ তুলে নাও আঁচল জুড়ে।
সন্ধেবেলা শুকতারার সাথে কথা বলো,
অকৃত্রিম আলোয় মেশাও দেহ,
উষ্ণতা ছড়াও কোমল শরীরে,
বহুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক- এর নুডুলস

লিখেছেন করুণাধারা, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ৮:৫২



অনেকেই জানেন, তবু ক এর গল্পটা দিয়ে শুরু করলাম, কারণ আমার আজকের পোস্ট পুরোটাই ক বিষয়ক।


একজন পরীক্ষক এসএসসি পরীক্ষার অংক খাতা দেখতে গিয়ে একটা মোটাসোটা খাতা পেলেন । খুলে দেখলেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্প্রিং মোল্লার কোরআন পাঠ : সূরা নং - ২ : আল-বাকারা : আয়াত নং - ১

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ১০:১৬

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহর নামের সাথে যিনি একমাত্র দাতা একমাত্র দয়ালু

২-১ : আলিফ-লাম-মীম


আল-বাকারা (গাভী) সূরাটি কোরআনের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম সূরা। সূরাটি শুরু হয়েছে আলিফ, লাম, মীম হরফ তিনটি দিয়ে।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×