somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বউ সারাদিন কি করে?

০৭ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার স্ত্রীর নাম বিউটি হাসান। গত ২০০৪ সালে তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় তারই দুর সম্পের্কর এক ফুফাতো বোনের মাধ্যমে। মজার ব্যাপার হলো আমার স্ত্রীর ঐ ফুফাতো বোনের সাথে পরিচয় হয় ভুল নাম্বারে ডায়াল করার মাধ্যমে, সেটা ২০০৩ সালের কথা। তিনি বয়সে আমার থেকে বছর পাচেকের বড় হওয়ায় ও কথায় মুক্তা ঝরানোর কারণে আমাদের মধ্যে একধরনের আলাপচারিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এটা ছিল কেউ কাউকে না দেখাদেখির আলাপচারিতা। তবে খুব যে বেশি আলাপ হয়েছে তাও না। হয়তো মাসে ৩/৪ দিন ফোনে কথা হতো। আমি তাকে আপু বলে ডাকতাম। সেই আপুকে আজো পর্যন্ত দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। শুনেছি, ঢাকার মিরপুরে এক চাকুরীজীবীর সাথে বিয়ে হয়ে ১টি পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন। যাহোক ২০০৪ সালে তিনি আমাকে তার মামাতো বোনের (বর্তমানে আমার স্ত্রী) সাথে টেলিফোনে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর যখন ঐ আপুর সাথে কথা বলতাম তখন জিজ্ঞেস করতাম আপনার পাশে কে? প্রায়ই জবাব আসতো "আমার মামাতো বোন বিউটি"।

এর পর বিউটি'র ব্যক্তিগত নাম্বারটা পেলাম। এরপর একিদন দুজনে গোপালগঞ্জের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে আমার ছোট আপু ও ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করি। আস্তে আস্তে সেই দেখা দেখা-দেখি করি। ভালাসার সম্পর্ক এনে দেয়। ২০০৭ সালে আমার মায়ের সাথে তাকে ফোনে পরিচয় করিয়ে দেই। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতেআমরা সামনে এগিয়ে যাই। ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারী আমি ভারত সফরে থাকাকালীন সময়ে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ১লা নভেম্বর আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। পড়া-লেখার কারনে বিবাহের পর আমার স্ত্রী বেশিরভাগ গোপালগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে থাকতো। ২০১০ সালের নভেম্বরে আমার স্ত্রী চুড়ান্তভাবে আমার সাথে ঢাকায় থাকতে শুরু করে এখনো আছে।

আমরা দুজনে প্রচুর ফান করি। বলা যায় আমাদের মাঝে দুঃখের আবেশ নেই বললেই চলে। তবে মাঝেমধ্যে অনেক সুখের ব্যতয় ঘটানোর জন্য আমি কিছু কৃত্রিম দূঃখের পরিবেশ সৃষ্টি করি। বলা যায় সেটাও একপ্রকার ফান। আমাদের মধ্যে মাঝে মাঝে কাজের হিসাব কষা হয়। সারাদিন কে কত পরিশ্রম করে? আমি জানি যে, আমার স্ত্রী শুধু নয়, সমগ্র বাংলাদেশের সকল স্ত্রীরা স্বমীর চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেন। তারপরও নিজে একটু জিতে থাকার জন্য অনেক রকম পশরা সাজাই। গতকাল অর্থাৎ-৬ মার্চ ২০১২, রাত আনুমানিক ১১.৩০ টায় আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম "আজ টিভিতে কোন কোন অনুষ্ঠান দেখলে?" আমার স্ত্রী বলে উঠলো- কখন টিভি দেখলাম? আমিতো সময় পাই না! এরপরেই আমি বললাম সারাদিন তুমি কি কি কাজ করো তার একটা তালিকা করো। আমার ছোট খালা শাশুড়ির সামনেই এই কথোপকথোন চলছিল। তিনিও এই তালিকা তৈরীতে সায় দিলেন! যা হোক যে কথা সেই কাজ, তালিকাটি হয়ে গেল নিম্নরূপ;

১. সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়া
২. বিছানা ওঠান
৩. বাসী থালা বাসনপিরষ্কার করা
৪. ২/৩ প্রকারের নাস্তা তৈরী করা
৫. নাস্তা পরিবেশন করা
৬. ঘরবাড়ি গোছগাছ করা
৭. নিরাপদ পানি বোতলে বোতলে রাখা
৮. পানি ফুটানো
৯. দুপুরের রান্নার প্রস্তুতী নেওয়া
১০. ভাত রান্না করা
১১. ৪/৫ প্রকার তরকারী রান্না করা
১২. থালা বাসনপিরষ্কার করা
১৩. কাপড়চোপড় ধোয়া
১৪. বাথরুম পরিষ্কার করা
১৫. দুপুরের খাবার পরিবেশন করা
১৬. থালা বাসনপিরষ্কার করা
১৭. ঘুমানো/টিভি দেখা
১৮. মাঝে মাঝে পরিবারের বিভিন্ন লোকজনকে ফোন করা
১৯. বিকালের নাস্তা তৈরী
২০. ডিনার তৈরী
২১. ডিনার পরিবেশন করা
২২. বিছনা ঝাডু দেওয়া
২৩. বিছানা প্রস্তুত করা
২৪. মসারী টাঙ্গানো
২৫. মোবাইল চার্জে দেওয়া
২৬. এছাড়া সে প্রতিদনি পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে।

এই তালকিা দেখে আমি ভড়কে গলোম ও এই কাজ করার পাল্লাপাল্লির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অন্য প্রসঙ্গে গেলাম।

আমাদের ছোট্ট সুখের সংসারে স্বামী-স্ত্রী মিলে বেশ ভাল আছি । এই মুহুর্তে আমার স্ত্রী তার ডিগ্রি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষা করছে, ফলে দুই জনের সংসারের সবকাজ সে নিজে হাতে করে। জানিনা মাস্টার্সে ভর্তি হলে আমার কি হবে? বেতনভুক্ত রাধুনীর খাবার আমার একদম পছন্দ নয়।










সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১১:১৯
৪৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পুরোনো ধর্মের সমালোচনা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেই নতুন ধর্মের জন্ম

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৭:১৫

ইসলামের নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক বছরের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে প্রবেশনে পাঠানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেল্টা ফ্লাইট - নিউ ইয়র্ক টু ডেট্রয়ট

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:২৬

আজই শ্রদ্ধেয় খাইরুল আহসান ভাইয়ের "নিউ ইয়র্কের পথে" পড়তে পড়তে তেমনি এক বিমান যাত্রার কথা মনে পড়লো। সে প্রায় বছর দশ বার আগের ঘটনা। নিউ ইয়র্ক থেকে ডেট্রিয়ট যাবো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ল অব অ্যাট্রাকশন

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:৪৫

জ্যাক ক্যান ফিল্ডের ঘটনা দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। জ্যাক ক্যানফিল্ড একজন আমেরিকান লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার। জীবনের প্রথম দিকে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। আয় রোজগার ছিলনা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ ছিলনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চরফ্যাশন

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৫৯



নয়নে তোমারি কিছু দেখিবার চায়,
চলে আসো ভাই এই ঠিকানায়।
ফুলে ফুলে মাঠ সবুজ শ্যামলে বন
চারদিকে নদী আর চরের জীবন।

প্রকৃতির খেলা ফসলের মেলা ভারে
মুগ্ধ হয়েই তুমি ভুলিবে না তারে,
নীল আকাশের প্রজাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন গঙ্গা পানি চুক্তি- কখন হবে, গ্যারান্টি ক্লজহীন চুক্তি নবায়ন হবে কিংবা তিস্তার মোট ঝুলে যাবে?

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৬ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:২৬


১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ফারাক্কা বাঁধ শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে খরা ও মরুকরণ তীব্র করে, বর্ষায় হঠাৎ বন্যা তৈরি করে কৃষক ও পরিবেশের মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। পানি বঞ্চনা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×