somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২১/০২/২০১১

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছর এইদিনে ঠিক এমন এক সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেবু লগ ইন করি।তখন আমি ফেবুতে শিশু বললেই চলে।ফেবুতে বিভিন্ন গ্রুপ বা বন্ধুদের ওয়ালে গিয়ে কবিতা,গল্প পড়তেই বেশী ভাল লাগত।সে অভ্যাসের কারণে এক ফেবু বন্ধুর ওয়ালে যাই ভাষা দিবস সম্পর্কে বিভিন্ন গুণীজনের লেখা পড়তে।তো সেই ভাইয়ার ওয়ালে গিয়ে প্রথমেই ''মুখোশ'' শিরোণামের একটা লেখায় আমার চোখ আটকে যায়।লেখাটা ওপেন করে আমি এক নিঃশ্বাসে পড়ে নেই।তারপর ওই লেখকের বাড়িটা দেখতে যাই।সেখানে গিয়ে আমি অবাক হয়ে যাই অল্প কিছু বন্ধু নিয়ে সাজানো গোছানো তার পরিচ্ছন্ন পরিপাটি বাড়িটা দেখে।তারপর আস্তে আস্তে তার বাড়ির কিছুটা অংশ ঘুরে দেখি আর মনে মনে ভাবি সত্যি কি পৃথিবীতে এখনও এতো ভালো মানুষ আছে?ঠিক তখনি আমার মনে পড়ে যে এমন প্রো-পিক এর কেউ একজন কয়েকদিন আমাকে অ্যাড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলো।মনে পড়তেই তার বাড়িতে আর দেরী না করে আমি সোজা আমার বাড়িতে চলে আসি।এসে দেখি আমার ধারণা সঠিক এই মানুষটা আজ কয়েকদিন ধরে আমার বাড়িতে এসেছে কিন্তু আমি তাকে ঘরে ঢোকার অনুমতি এখনও দেইনি। সাথে সাথে তাকে আমি আমার ঘরের বন্ধুদের সাথে বসতে দিলাম।সেদিন কেন জানিনা তাকে আমার বন্ধুদের মাঝে পেয়ে আমার অনেক ভাল লেগেছিল।যাইহোক সেদিন তার সাথে আমার কোন কথা হয়নি।পরেরদিন আমি তাকে একটা মেইল পাঠাই।রাতে ফেবু লগ ইন করে দেখি আমার নতুন বন্ধুটা অনলাইনে।সেদিনই (২২/০২/২০১১) প্রথম আমার বন্ধুটার সাথে কথা হয় সেদিনও ভাবিনি যে আমার এই বন্ধুটাকে ঘিরে আমি আমার আগামী দিনের স্বপ্ন সাজাবো।এইদিনের পর থেকে প্রতিদিন আমার সাথে আমার বন্ধুটার কথা হতো।এভাবে আমরা অনেক ভাল এবং কাছের বন্দু হয়ে যাই।আমাদের বন্ধুত্ব হওয়ার কিছুদিন পরে আমার বন্ধুটা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়,অনেক কষ্ট হয়েছিল তখন।ঐ কয়েকটা দিনে আমি আমার বন্ধুকে অনেক মিস করতাম আর আল্লাহ কে বলতাম আল্লাহ তুমি তাড়াতাড়ি আমার বন্ধুটাকে সুস্থ করে দাও।আল্লাহর অশেষ কৃপায় এক সপ্তাহ পরে আমার বন্ধুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসে।এরপর থেকে আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হতে থাকে।তার সততা,স্পষ্টবাদীতা,বন্ধুর প্রতি আন্তরিকতা,বন্ধু হিসেবে বন্ধুকে অশুভ সবকিছু থেকে সেভ করা,আমার লেখাপড়া,ক্যারিয়ার সম্পর্কে তার কেয়ারিং আমাকে মুগ্ধ করে ফেলে।তখন আমার মনে হয় যে আমি আমার এই বন্ধুটাকে সারাজীবন আমার পাশে চাই।যে আমাকে আমার সব কাজে উৎসাহ দিবে,আমার সকল কাজের প্রেরণা হবে।এভাবেই কখোন যে আমি আমার বন্ধুটাকে ভালবেসে ফেলেছি তা আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।যখন বুঝতে পেরেছি তখন বলতে পারিনি বা বলার সাহস পাইনি।আবার তার বন্ধুত্ব কে শেষ করে তার থেকে দূরেও যেতে পারিনি।আমার বন্ধুটাও বুঝতো যে আমি তাকে ভালবাসি,আমার কাছেও মনে হতো যে সে আমাকে ভালবাসে (যদিও সে এটা এখনও স্বীকার করে না) কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারছিনা।একসময় আমিই তাকে বলি যে আমি তাকে ভালবাসি,সারাজীবন তাকে আমি আমার পাশে চাই।সেইদিন থেকে আমরা ভালবাসার ঘর বেঁধেছি।যে ঘরে বসত করছি আমরা টোনাটুনি ( এই নামটা আমার এক ফেবু ফ্রেন্ড শাপলা আপু দিয়েছে,যেটা আমার অনেক পছন্দ হয়েছে) আমি আমার টোনাকে অনেক ভালবাসি,অনেক বেশী ভালবাসি,আমার জীবনের সবটুকু দিয়ে ভালবাসি।জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এভাবেই ভালবেসে যেতে চাই।সবাই দোয়া করবেন ভালবেসে আমরা যে ঘর বেঁধেছি সেটা যেন সারা জীবন টিকে থাকে।

ঠিক এক বছর আগে এমন এক সকালে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম আমার ভালবাসার মানুষটাকে।সেদিন একটুও ভাবিনি যে এই মানুষটা আমার এতো কাছের কেউ হবে।শুধু একজন ভাল বন্ধু হিসেবে তাকে অ্যাড করেছিলাম আমার ফেবু দুনিয়ায়।কিন্তু আজ সে মানুষটাই আমার এই ছোট্ট জীবনে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ উপহার।যাকে ছাড়া আমি আমার একটা মুহুর্ত ভাবতে পারিনা।যে আমার সকল কাজের প্রেরণা,আমার সারাদিনের কান্নাহাসি,আমার ভালবাসা।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১২ দুপুর ১২:০৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাফসান দ্য ছোট ভাই এর এক আউডি গাড়ি আপনাদের হৃদয় অশান্ত কইরা ফেলল!

লিখেছেন ব্রাত্য রাইসু, ১৫ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৫২

রাফসান দ্য ছোট ভাইয়ের প্রতি আপনাদের ঈর্ষার কোনো কারণ দেখি না।

আউডি গাড়ি কিনছে ইনফ্লুয়েন্সার হইয়া, তো তার বাবা ঋণখেলাপী কিনা এই লইয়া এখন আপনারা নিজেদের অক্ষমতারে জাস্টিফাই করতে নামছেন!

এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁচতে হয় নিজের কাছে!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৫ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:২৮

চলুন নৈতিকতা বিষয়ক দুইটি সমস্যা তুলে ধরি। দুটিই গল্প। প্রথম গল্পটি দি প্যারবল অব দ্যা সাধু।  লিখেছেন বোয়েন ম্যাককয়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ জার্নালের ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সংখ্যায়। গল্পটা সংক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার অন্যরকম আমি এবং কিছু মুক্তকথা

লিখেছেন জানা, ১৫ ই মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৬



২০১৯, ডিসেম্বরের একটি লেখা যা ড্রাফটে ছিল এতদিন। নানা কারণে যা পোস্ট করা হয়নি। আজ হঠাৎ চোখে পড়ায় প্রকাশ করতে ইচ্ছে হলো। আমার এই ভিডিওটাও ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ ইয়র্কের পথে.... ২

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:০২


Almost at half distance, on flight CX830.

পূর্বের পর্ব এখানেঃ নিউ ইয়র্কের পথে.... ১

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্লেন থেকে বোর্ডিং ব্রীজে নেমেই কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার জন্য যাত্রীদের মাঝে নাভিশ্বাস উঠে গেল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আপনার হিট কত?

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:০৩



প্রথমে মনে হল বর্তমান ব্লগাদের হিটের সংখ্যা নিয়ে একটা পোস্ট করা যাক । তারপর মনে পড়ল আমাদের ব্লগের পরিসংখ্যানবিদ ব্লগার আমি তুমি আমরা এমন পোস্ট আগেই দিয়ে দিয়েছেন ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×