somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন চিকিৎসা বিভ্রাট

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিন দুয়েক আগে, আমার এক বন্ধু ঢাকার সেরা নার্সিংহোমে তার আলসারের সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য গিয়েছিল৷ সেখানে যে ডাক্তারকে তিনি দেখান সেই ডাক্তার খুব যত্ন করে বোঝান আলসার কোনোভাবেই সারিয়ে তোলা যায় না৷ যদিও আমার বন্ধু তার এই কথা শুনে একটুও ভেঙে না পড়ে বাড়ি ফিরে গুগল-এ গিয়ে সার্চ করে৷ সেখান দেখে ২০০৪ সালে এই তথাকথিত সারে না, এমন অসুখকে সারানোর উপায় উদ্ভাবনের জন্য দুজন বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়৷ চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাদের এই বিশেষ অবদান বহু মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে৷ এই ঘটনাতেই বুঝিয়ে দেয়, আমাদের দেশের ডাক্তাররা শুধু ডাক্তারিটাই মন দিয়ে করেন, আর কোথায় কি ঘটছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন কোন পদ্ধতি ও ওষুধের আবিষ্কার ঘটছে তার কোনও খবর রাখেন না৷
এখন, যারা একবার এমবিবিএস বা এমডি করে ফেলেন তার পর আর বোধ হয় কখনও বইয়ের দিকে ফিরেও তাকান না, নতুন কিছু শেখার চেষ্টাও করেন না৷ বেশিরভাগ ডাক্তাররা তাদের কাজের জীবনের প্রথম থেকে যে কোনও অসুখে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন ও এই ধারাই সারা জীবন ধরে বহন করে চলেন৷ কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিত্য-নতুন আবিষ্কার এখনকার চিকিৎসা পদ্ধতিকেই বদলে দিয়েছে৷ তার কোনও ধারণাও আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের নেই৷ ডাক্তারদের তথ্যের উৎস বলতে ওষুধ কোম্পানির মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ও তাদের দেওয়া ব্রোশিওর৷ অনেক ডাক্তারকে দেখেছি সরাসরি এই ব্রোশিওর থেকে ওষুধের নাম লিখে দিচেছন, কোনও খোঁজ না করেই৷
এই মানুষদের কাছে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস নিয়ে যায়, তারা তাদের পক্ষে সম্ভব সেরা চিকিৎসা তাদের জন্য তুলে ধরবেন৷ যারা নিয়মিত গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের পক্ষে জানা সম্ভব৷ কিন্তু যারা একবার চিকিৎসক হয়ে গেছেন তাদের জন্য নিয়মিত আপডেট হওয়ার কোনও ব্যবস্থাই নেই৷ এই অবস্থাকে মাথায় রেখে মেডিকেল কাউন্সিলের উচিত এমন একটি নিয়ম করা যাতে, তাদের নিয়মিত পেশাদারি প্রশিক্ষণ চলতে থাকে৷ কিন্তু আইন প্রণেতারা এখনও এই নিয়ে কিছুই ভাবছেন ন।

এই কারণে মেডিক্যাল শিক্ষার পরিকাঠামো বৃদ্ধি করতে হবে৷ ইউকে সহ ইউরোপের অনেক দেশেই এখন চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস চালিয়ে যাওয়ার জন্য ও নিজেদের লাইসেন্স ধরে রাখার জন্য এমন শিক্ষায় অংশ নিতেই হয়৷ ইউএস-এর অনেক প্রদেশে চিকিৎসকদের নিয়মিত ভাবে পরীক্ষা দিতে হয় ও পড়াশোনায় অংশ নিতে হয়৷ এখানে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতে হয়, দু বছর থেকে চার বছর অন্তর এই প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক৷
আমাদের এটা বোঝা উচিত চিকিৎসা একটা পরিষেবা, একটা পেশা৷ যেখানে নিয়মিত শেখার প্রয়োজন রয়েছে৷ কোনও এক অভিজ্ঞ ডাক্তার তাঁর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতায় রোগীর উপসর্গ দেখে বুঝতে পারেন তার কী রোগ হয়েছে, কিন্তু তারপর তিনি এগিয়ে যান পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে৷ যার ফলে হয় সুস্থতা ধীরে আসে অথবা সুস্থই হয় না৷
সত্যিটা হল অসংখ্য সংস্থা পৃথিবী জুড়ে লাখো গবেষণা চালাচেছ৷ এই গবেষণালব্ধ ফল থেকে সকলকে বঞ্চিত রাখা আমার মতে অপরাধের সামিল৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলায়ের উচিত প্রতি তিন বছর অন্তর পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা৷ ও এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা৷ যে চিকিৎসকরা এই পরীক্ষাকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করবেন না বা এই পরীক্ষার প্রতি অবজ্ঞা দেখাবেন তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে৷ আমাদের দেশে যতজন মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থেকে সুস্থতায় ফিরে আসেন তার হার গোটা পৃথিবীর তুলনায় বেশ নিম্নমুখী৷ এখনই যদি আমরা এই বিষয়ে সচেতন না হই তাহলে চিকিৎসকরা একাটা সময় পর নিজেদের গোটা পৃথিবীর চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে পারবেন না, আর আমরা আধুনিক চিকিৎসার সাম্প্রতিক আবিষ্কার ও চিন্তা-ভাবনা থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হতেই থাকব৷
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজত্ব আল্লাহ দিলে রাষ্ট্রে দ্বীন কায়েম আমাদেরকে করতে হবে কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৪ ভোর ৬:০৬



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তির কোরাস দল

লিখেছেন সেলিনা জাহান প্রিয়া, ০৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:২৫



ঘুমিয়ে যেও না !
দরজা বন্ধ করো না -
বিশ্বাস রাখো বিপ্লবীরা ফিরে আসবেই
বন্যা ঝড় তুফান , বজ্র কণ্ঠে কোরাস করে
একদিন তারা ঠিক ফিরবে তোমার শহরে।
-
হয়তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইডেন ইহুদী চক্তান্ত থেকে বের হয়েছে, মনে হয়!

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৪৮



নেতানিয়াহু ও তার ওয়ার-ক্যাবিনেট বাইডেনকে ইরান আক্রমণের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো; বাইডেন সেই চক্রান্ত থেকে বের হয়েছে; ইহুদীরা ষড়যন্ত্রকারী, কিন্তু আমেরিকানরা বুদ্ধিমান। নেতানিয়াহু রাফাতে বোমা ফেলাতে, আজকে সকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ ২৫শে বৈশাখ। ১৬৩তম রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আমার গাওয়া কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত শেয়ার করলাম। খুব সাধারণ মানের গায়কী

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৩:০৫

আপনারা জানেন, আমি কোনো প্রফেশনাল সিঙ্গার না, গলাও ভালো না, কিন্তু গান আমি খুব ভালোবাসি। গান বা সুরই পৃথিবীতে একমাত্র হিরন্ময় প্রেম। এই সুরের মধ্যে ডুবতে ডুবতে একসময় নিজেই সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব কবি

লিখেছেন সাইদুর রহমান, ০৮ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৩:২৭

বৈশাখেরি পঁচিশ তারিখ
কবি তোমার জনম
দিন,
বহু বছর পার হয়েছে
আজও হৃদে, হও নি
লীন।

কবিতা আর গল্প ছড়া
পড়ি সবাই, জুড়ায়
প্রাণ,
খ্যাতি পেলে বিশ্ব জুড়ে
পেলে নভেল, পেলে
মান।

সবার ঘরেই গীতাঞ্জলী
পড়ে সবাই তৃপ্তি
পাই,
আজকে তুমি নেই জগতে
তোমার লেখায় খুঁজি
তাই।

যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×