somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমুদ্রে স্নান[২য় অংশ]

০৪ ঠা জুন, ২০১১ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাহাঙ্গীরের দুই ছেলেমেয়ে ।আমার চেয়েও দুঃসহ অবস্থা আমার বন্ধুটির। নোঙর আর অনি দুই বছরের ছোট বড়।ওর দুটো এক বছরের ছোট একটি আর একটির।কি করুন অবস্থা !তার মধ্যেই আমাদের দাওয়াত করল।শ্রাবণ একদম চাচ্ছিল না যেতে।ভাবীর অনেক কষ্ট হবে।এত ছোট দুই সম্পদ যাদের সংসারে তাদেরতো নিজেদের খাবারই ঘুছানো কষ্টকর তার মধ্যে মেহমানদারী!ভয়ংকর এবং ভয়ানক দুই-ই। বন্ধু বেচারাকে যত বুঝাই সে বুঝতে নারাজ।কোন উপায় নেই সন্ধার পর বাঙলোয় এসে হাজির তার বড় বংশধর ধনকে নিয়ে।এখনো আদো....আদো.. কথা বলে ।মিষ্টি চেহারায় সারাক্ষন দুস্টুমি খেলা করে।

ছোট মেয়েটি সারাক্ষন হাসে।ওর হাসিটা এখনো চোখে লগে আছে।ব---ড় একটা দুতলা বাড়ি অনেকখানি জায়গা নিয়ে ।কাঠের সিড়ি ভেঙে উপরের বেডরুমে ঢুকতে হয়।বেশ পুরুনো বাড়িটি।সামনে বড় একটি সব্জি বাগান।দেয়ালের ঐপাশে ঝাঁউয়ের সাড়ি।আর যে জিনিসটি সবচেয়ে মজার সেটি হল তারপরেই কুল-কিনারা বিহীন সমুদ্রটি।রাত দশটায় বাঙলোয় ফিরে এলাম।



একটু পিছনের দিনগুলিতে ফিরে যাই।অনেক বছর আগে তা প্রায় ৮ বছর হবে ।আমার এই বন্ধুটির সাথে ফাউন্ডেশন কোর্স সম্পন্ন করেছিলাম।ধীরস্থির ,শান্ত প্রকৃতির ছিল। খুব বেশী কথা হতো না।
যাই হোক আমি লোক প্রশাষনে যোগ দেয়ায় মাহবুব [সদ্য ট্রেনিং সমাপ্ত করা ছাত্র অফিসারটি]নামক এক প্রকৌশলী তার মাধ্যমে ওর সন্ধান আর ফোন নম্বরটি মিলে।মাহবুবও একই ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করে।আমাদের সাথে ওদের যাবার কথা ছিল কিন্তু ওর সহধর্মিনীর মেডিকেলে পরীক্ষা থাকায় শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি।যাইহোক এত বছর পর দুজনের দেখা।

আমি খুব বেশী আশা করিনি ওর কাছ থেকে।কিন্তু যে আন্তরিকতার ছুঁয়া পেলাম তা কখনো ভুলার নয়।সেই সাথে ভালো মানুষ ও বটে।অনেক সময় অনেক ভালো মানুষরা কাঠকোঠ্ঠা হয় কিনতু জাহাঙ্গীরের মধ্যে দুটোই আছে।ভালো এবং আন্তরিক একসংগে দুটো বিদ্যমান ।এমন মানুষ এখনকার আধুনিক যুগে পাওয়া দুষ্কর।


পরদিন জাহিদ আর জেরিন ভাবি আসলেন।তখন আমরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম ।হোটেলটা সাগরের পাশেই।রান্না বিশেষ একটা সুবিধার নয়।কোন রকমে গলাধকরন করা আর কি ।বাচ্চারা হেঁটে হেঁটে পরিশ্রান্ত হওয়ায় কষ্ট এরাবার জন্যই ঐ হোটেলে যাওয়া ।জাহিদ এবং ভাবী দুজনের সাথেই প্রথম পরিচয়।সাদা ধবধবে গাঁয়ের রং ভাবীর।প্রথম দেখাতে অসহযোগী এবং অহংকারী ধরনের মনে হল আমাদের দুজনেরই।কিন্তু অল্পক্ষনের মধ্যেই আমাদের ধারনা পাল্টে গেল।অনি ,নোঙরও ওদের সাথে ভাব জমিয়ে ফেলল ।অনিকে এখনও দেখা হলে জাহিদ পাখি বলে ডাকে।তিনটার দিকে রওনা দেয়া হল ইনানী বীচের উদ্দেশ্যে সাথে হিমছড়ি বীচেও যাওয়া হবে।


অ....সাধারন এক যাত্রা ।সাগর ঘেষেই রাস্তা ।কয়েক মাইল এভাবে যাওয়া হল।কি যে সুন্দর লাগছিল লিখে প্রকাশ করার নয়।একপাশে সাঁড়ি বাঁধা পাহড়দল।অন্যদিকে ঢেউদের গর্জন।মাঝে চলছে জীপখানা।পাহাড় আর সমুদ্রের কি গভীর সখ্যতা চলছে বছর পেরিয়ে বছর ধরে।চোখের ভাল লাগা গুলি ভাষায় বোঝানু যায়না হুবুহু। হিমছড়ি বিচকে রেখে গাড়ী ছুটে চলল ইনানীর ঊদ্দশ্যে।চোখের মুগ্ধতা লিখনি দ্বারা সবটুকু মেলে ধরা যায় না।অনেক বড় বীচটি ।মাঝখানটায় একটি নালার মতন।কিছুটা স্যাঁতস্যাঁতে ,তা পেরিয়ে সাগরের কাছে পৌঁছলাম সবাই। বড় বড় পাথরের প্রবাল এই বীচের অন্যরকম এক সৌন্দর্যের মাত্রা এনেছে। ওরা সবাই ছবি তোলল প্রবাল গুলির উপর বসে।শ্রাবণ জামা ওড়না সুন্দর করে গুছিয়ে প্রবালের উপর বসল যাতে ভিঁজে না যায়।কিন্তু সাগরের ঢেউ বলে কথা!ভিজে একাকার হয়ে গেল সবাই ।সমুদ্রে তখন ভাটা চলছিল।ঢেউয়ের টান প্রচণ্ড।


শ্রাবণ ছবি তোলার সময় চুল খোলে দিয়েছে ।ওর ভাষায় সমুদ্রে আসলে খোলা চুলে পানিতে নামতে হয়।নীল অথবা সাদা ড্রেস পড়তে হয়।তবেই নাকি সাগরের পাশে কাউকে মানায়।

দেখতে দেখতে প্রায় সন্ধে লেগে যাচ্ছে।ড্রাইবার ইসলামের ইচ্ছে এই সময় ফিরে যাওয়া উচিৎ।আসার রাস্তাটি সন্ধের পর নিরাপদ হীন।পাহাড়ের আশেপাশে লুকিয়ে থাকা বিশেষ ধরনের লোকেরা মানুষকে নানাভাবে বিপদে ফেলে ।শুধু মালপত্রই নিয়ে যায় না ,সাথে মহিলা থাকলে তাদের ধরেও নিয়ে যায়।তাই বীচের সকল সৌন্দর্যের ইস্তফা দিয়ে রওনা হলাম ।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার অন্যরকম আমি এবং কিছু মুক্তকথা

লিখেছেন জানা, ১৫ ই মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৬



২০১৯, ডিসেম্বরের একটি লেখা যা ড্রাফটে ছিল এতদিন। নানা কারণে যা পোস্ট করা হয়নি। আজ হঠাৎ চোখে পড়ায় প্রকাশ করতে ইচ্ছে হলো। আমার এই ভিডিওটাও ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেভাবে শরণার্থীরা একটি দেশের মালিক হয়ে গেলো!

লিখেছেন মাঈনউদ্দিন মইনুল, ১৫ ই মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:২৬



এবার একটি সেমিনারে প্রথমবারের মতো একজন জর্ডানির সাথে পরিচয় হয়। রাসেম আল-গুল। ঘনকালো মাথার চুল, বলিষ্ট দেহ, উজ্জ্বল বর্ণ, দাড়ি-গোঁফ সবই আছে। না খাটো, না লম্বা। বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। প্রতিটি সেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ ইয়র্কের পথে.... ২

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:০২


Almost at half distance, on flight CX830.

পূর্বের পর্ব এখানেঃ নিউ ইয়র্কের পথে.... ১

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্লেন থেকে বোর্ডিং ব্রীজে নেমেই কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার জন্য যাত্রীদের মাঝে নাভিশ্বাস উঠে গেল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আপনার হিট কত?

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:০৩



প্রথমে মনে হল বর্তমান ব্লগাদের হিটের সংখ্যা নিয়ে একটা পোস্ট করা যাক । তারপর মনে পড়ল আমাদের ব্লগের পরিসংখ্যানবিদ ব্লগার আমি তুমি আমরা এমন পোস্ট আগেই দিয়ে দিয়েছেন ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ল অব অ্যাট্রাকশন

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:৪৫

জ্যাক ক্যান ফিল্ডের ঘটনা দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। জ্যাক ক্যানফিল্ড একজন আমেরিকান লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার। জীবনের প্রথম দিকে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। আয় রোজগার ছিলনা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ ছিলনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×