somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌলবাদ ও আমাদের নারী সমাজ

২৭ শে জুলাই, ২০১৩ সকাল ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এককালে আমরা পরিবারের লোকজনদের নিয়ে ‘মুড়ির টিন’ নামে কথিত পাবলিক বাসে চড়তাম। তখন বিভিন্ন দাওয়াই বিক্রির জন্য এক ধরনের ক্যানভাসার অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের দাওয়াই বিক্রি করতেন। তাদের এইসব কথাবার্তা শুনে আমরা খুব বিব্রতবোধ করতাম। কিন্তু তারা তো নেহাত পেটের দায়ে সেইসব এগুলো করতেন। আর আমাদের নারীদের সম্পর্কে আল্লামা (!) শফী সাহেবের মন্তব্য এর চেয়েও অনেক বেশি কুরুচিসম্পন্ন। তবে শুনেছি সাম্প্র্রতিককালে ‘মুড়ির টিন’ নামে কথিত গাড়িতেও নাকি ঐসব ক্যানভাসারদেরকে উঠতে দেয়া হয় না। তবে কি আল্লামা (!) শফী সাহেবের ব্যাপারেও একই স্ট্যান্ডার্ড প্রযোজ্য নয়! কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইদানীং আমরা দেখছি আল্লামা (!) শফী নামক গণশত্রুকে হেলিকপ্টারযোগে আনা-নেয়ায় ব্যস্ত অনেকেই। কারণ বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর মুদ্রিত মস্তক যতটানা মুজিব প্রেমিকদের কাছে এর চেয়ে ঢেড় বেশি মুজিব বিরোধীদের কাছে। কিন্তু আমরা ঠিক কতটুকু চিনেছি আকাশপানে উড়ে চলা ঐ গণশত্রুকে? আমরা জানি ফটিকছড়ির মতো দেশের অনেক স্থানেই মাইকে ডাক দিয়ে একদল নরপশুর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষদের হত্যা করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাড়ি-গাড়িসহ সবকিছু। কিন্তু যে ডাক আজ আমরা শুনতে পারছি আসলে তা বহু বছর আগের। বিশেষ করে আশির দশকে যখন দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ঠিক তখন গণশত্রুরা ধর্মের নামে বিরোধিতা শুরু করে জন্ম নিয়ন্ত্রণের। ঝাঁপিয়ে পড়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাঠকর্মীদের ওপর। বস্তুত ইসলাম ধর্ম ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়। আমরা বিশ্বাস করি ইসলাম ধর্ম একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান। কারণ পবিত্র হাদিস শরীফে জন্ম নিয়ন্ত্রণের আদি পদ্ধতি ‘আযল’ এর বিধান রয়েছে। তবু কেন আল্লামা (!) শফীরা জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে। এর কারণ একটিই, আর সেটা হলো— তাদের এমন একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন যারা হবে অন্ধ, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু এবং অশিক্ষিত। রাষ্ট্রীয় চরিত্র ও আমাদের উদাসীনতার কারণেই গণশত্রুরা জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছিল। আর ওই অন্ধ, পঙ্গু (মানসিক ভাবে), অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই মাইকে ডাক দিলে জড়ো হয়, তেড়ে আসে মানুষের ওপর হিংস্র জানোয়ারের মতো। অথচ আমরা যারা নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবি করে আসছি তারা মনুষ্যত্বের বিস্তার ঘটাতে পারিনি। আশির দশকে যখন দেশে এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো বিস্তার লাভ করছিল এবং বিশেষ করে নারীদের কর্মমুখী করে তুলার প্রয়াস শুরু হয়েছিল ঠিক তখন যে দুটি গোষ্ঠী বিশেষভাবে এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধর্মের নামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এর একটি দেশের সুদি ব্যবসায়ী এবং অন্যটি দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী। তাদের উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল নারীদের কর্মবিমূখ অশিক্ষিত ও পুরুষের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা। কারণ নারী নামক একটি জনগোষ্ঠীকে যদি কেবলমাত্র সন্তান উত্পাদন ও যৌন পীড়নের হাতিয়ার করে রাখা যায় এবং সর্বোপরি অন্ধ বধির (চিন্তাগতভাবে) করে রাখা যায় তাহলে গণশত্রুরা ইচ্ছে মতো মসনদ বহাল তবিয়তে থাকবেন। কিন্তু আমাদের অতি দুর্ভাগ্য আজও দেশের সর্বক্ষেত্রে সর্বশ্রেণীর নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেজন্য নারীদের ওপর বার বার আঘাত আসছে। যদিও গণশত্রুদের একান্ত কামনা- নারীরা আবার বাজারে আম, কাঁঠালের মতো বিক্রি হবে। কিন্তু কালের বিবর্তনে আর সেইদিন কখনই ফিরে আসবে না। কারণ দিন দিন বিদ্যুতের খুটি চলে যাচ্ছে গ্রামের ভিতরে এবং প্রযুক্তির সমপ্রসারণ হচ্ছে।Click This Link target='_blank' > -
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৩ সকাল ৮:৫০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাজার যুদ্ধ কতদিন চলবে?

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৮ শে মে, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার আগে মহাবিপদে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু৷ এক বছর ধরে ইসরায়েলিরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন৷ আন্দোলনে তার সরকারের অবস্থা টালমাটাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্যামুয়েল ব্যাকেট এর ‘এন্ডগেম’ | Endgame By Samuel Beckett নিয়ে বাংলা ভাষায় আলোচনা

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৮ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৮



এন্ডগেম/ইন্ডগেইম/এন্ডগেইম- যে নামেই ডাকা হোক না কেনও, মূলত একটাই নাটক স্যামুয়েল ব্যাকেটের Endgame. একদম আক্ষরিক অনুবাদ করলে বাংলা অর্থ হয়- শেষ খেলা। এটি একটা এক অঙ্কের নাটক; অর্থাৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় ১০ বছর পর হাতে নিলাম কলম

লিখেছেন হিমচরি, ২৮ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১

জুলাই ২০১৪ সালে লাস্ট ব্লগ লিখেছিলাম!
প্রায় ১০ বছর পর আজ আপনাদের মাঝে আবার যোগ দিলাম। খুব মিস করেছি, এই সামুকে!! ইতিমধ্যে অনেক চড়াই উৎরায় পার হয়েছে! আশা করি, সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পজ থেকে প্লে : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

লিখেছেন বন্ধু শুভ, ২৮ শে মে, ২০২৪ রাত ১১:১৫


.
একটা বালক সর্বদা স্বপ্ন দেখতো সুন্দর একটা পৃথিবীর। একজন মানুষের জন্য একটা পৃথিবী কতটুকু? উত্তর হচ্ছে পুরো পৃথিবী; কিন্তু যতটা জুড়ে তার সরব উপস্থিতি ততটা- নির্দিষ্ট করে বললে। তো, বালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামে ভুল থাকলে মেজাজ ঠিক থাকে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৮ শে মে, ২০২৪ রাত ১১:৫৫


বেইলি রোডে এক রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে একজন একটা পোস্ট দিয়েছিলেন; পোস্টের শিরোনামঃ চুরান্ত অব্যবস্থাপনার কারনে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডকে দূর্ঘটনা বলা যায় না। ভালোভাবে দেখুন চারটা বানান ভুল। যিনি পোস্ট দিয়েছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×