somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মত যাত্রীদের জিম্মিদশা কাটবে কি?

০৬ ই নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের মত যাত্রীদের জিম্মিদশা কাটবে কি?


আমাদের মত রাজধানীর যাত্রীদের কি হবে? আমাদের এই জিম্মিদশা কাটবে কবে? এই জিম্মিদশা কাটিয়ে উঠার জন্য বর্তমান সরকারের কি কিছুই করার নেই? আগামী বছরের জানুয়ারির এক তারিখ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অটোরিকশার নতুন এই ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি অটোরিকশা মালিকদেরও দৈনিক জমার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা মালিক-চালকদের আবেদনের পরিপ্রেেিত গত বৃহস্পতিবার তথা ৪ নভেম্বর সরকার এ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বলাবাহুল্য, এ নিয়ে চতুর্থ দফায় সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় রয়েই গেলো। যদিও কর্তৃপ আশ্বাস দিয়েছেন যে-অতিরিক্ত ভাড়া নেয়াসহ যে কোনো ধরনের যাত্রী হয়রানি করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্দেহ-সংশয়ের কারণ হলো-এর আগেও যতোবার এই ত্রিচক্রযানটির ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে, তখনো ঠিক একইভাবে তাদের দ্বারা যাত্রী হয়রানি না হওয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন যে-অটোরিকশার কারণে কী পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের।

জানা গেছে-যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সেখানে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে সিএনজি প্রথম ২ কিলোমিটারের ভাড়া ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৭ টাকা এবং বিরতিকালের জন্য প্রতি মিনিট ১ দশমিক ২৫ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি ৬০০ টাকা করে দৈনিক জমা পাবেন গাড়ির মালিকরা। বর্তমানে পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৬ টাকা, বিরতিকালের জন্য প্রতি মিনিট ১ টাকা ও মালিকদের জন্য দৈনিক জমা ৪৫০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কর্তৃপ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে- যারা কর্তৃপরে এ সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন তাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার কথাও বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে-এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অটোরিকশা মালিক শ্রমিকের একটি চুক্তিসই হবে খুব শিগগিরই।

দেখা যায়, সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী যাত্রীদের ােভ-অভিযোগের অন্ত নেই। প্রথমত সিএনজি চালকরা কখনই মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে চায় না। প্রায়ই দেখা যায় অটোরিকশাগুলোতে মিটার নেই অথবা থাকলেও তা বিকল। আবার সচল থাকলেও তারা মিটারে যাবে না। অভিযোগ রয়েছে- চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের মিটারগুলো বিকল করে রাখে। দ্বিতীয়ত, নগরীর অভ্যন্তরে যাত্রীদের চাহিদামতো স্থানে চালকদের যেতে বাধ্য থাকার নিয়ম থাকলেও তারা সেখানে যায় না। এ েেত্র চালকদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছেই জিম্মি যাত্রীরা সব সময়। এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা-সংঘর্ষ সব সময় লেগে থাকে। শেষ পর্যন্ত যাত্রীরা অসহায় হয়ে চালকদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে একরকম বাধ্যই হন। পাশে ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে সাহায্য চেয়েও না পেয়ে তাদের আর এই অরাজক পরিস্থিতির কাছে নিজেদের সমর্পণ করা ছাড়া উপায় কী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝেমধ্যে যে কোনো তৎপরতা দেখায় না- তা নয়। কিন্তু তাদের তৎপরতায় এ অবস্থার কোনো উন্নতি হয়েছে কিংবা যাত্রী হয়রানি বন্ধ হয়েছে- তা বলা যাবে না।

বাড়তি ভাড়া আদায় সম্পর্কে অটোরিকশা চালকরা সব সময়ই যুক্তি দেখায়- গাড়ির মালিকরা তাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি জমা নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- মালিকদের বাড়তি টাকা আদায়ের খেসারত যাত্রী সাধারণকে দিতে হবে কেন? সরকারের পে যারা মালিকদের জমার টাকা নির্ধারণ করে দেন তারা কি বিষয়টা সম্পর্কে অবহিত নন? তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না কেন? আর মিটারে যদি যানটি নাই চলে তাহলে ঐ বস্তুটির ব্যবহার কী? দফায় দফায় ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে কিন্তু সেবার মান বাড়ানো তো দূরের কথা যাত্রীদের জিম্মিদশাই কাটছে না।

আমরা চাই, যোগাযোগমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ এবার অটোরিকশা মালিক-চালকদের উদ্দেশে এ সংক্রান্ত যে নিয়মনীতির কথা বলেছেন-তা পালনে তাদের বাধ্য করা হবে। মিটার অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ভাড়া ও রাজধানীর যে কোনো স্থানে যাত্রীদের চাহিদামতো তাদের যেতে বাধ্য করা হবে।

অর্থাৎ এ সংক্রান্ত নিয়মনীতি পালনে আগের অবস্থার পুনরাবৃত্তি হবে না-কর্তৃপকে সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা আর অটোরিকশায় কোনো যাত্রী হয়রানি দেখতে চাই না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামে পর্দা মানে মার্জিত ও নম্রতা: ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক

লিখেছেন মি. বিকেল, ১৯ শে মে, ২০২৪ রাত ১:১৩



বোরকা পরা বা পর্দা প্রথা শুধুমাত্র ইসলামে আছে এবং এদেরকে একঘরে করে দেওয়া উচিত বিবেচনা করা যাবে না। কারণ পর্দা বা হিজাব, নেকাব ও বোরকা পরার প্রথা শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরসি নাশিন

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৯ শে মে, ২০২৪ সকাল ১১:১৫


সুলতানি বা মোগল আমলে এদেশে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল৷ আশরাফ ও আতরাফ৷ একমাত্র আশরাফরাই সুলতান বা মোগলদের সাথে উঠতে বসতে পারতেন৷ এই আশরাফ নির্ধারণ করা হতো উপাধি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আর আদর্শ কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৯ শে মে, ২০২৪ সকাল ১১:৩৭

তার বিশেষ কিছু উক্তিঃ

১)বঙ্গবন্ধু বলেছেন, সোনার মানুষ যদি পয়দা করতে পারি আমি দেখে না যেতে পারি, আমার এ দেশ সোনার বাংলা হবেই একদিন ইনশাল্লাহ।
২) স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যাবে যদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৯ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৩:২৯

সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা।

কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা।।

ক্ষুদ্র আশা নিয়ে রয়েছে বাঁচিয়ে, সদাই ভাবনা।

যা-কিছু পায় হারায়ে যায়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বসন্ত বিলাসিতা! ফুল বিলাসিতা! ঘ্রাণ বিলাসিতা!

লিখেছেন নাজনীন১, ১৯ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৪:০৯


যদিও আমাদের দেশে বসন্ত এর বর্ণ হলুদ! হলুদ গাঁদা দেখেই পহেলা ফাল্গুন পালন করা হয়।

কিন্তু প্রকৃতিতে বসন্ত আসে আরো পরে! রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া এদের হাত ধরে রক্তিম বসন্ত এই বাংলার!

ঠান্ডার দেশগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×