somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিস্তল শাহ

২৩ শে আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌলভি এনায়েত আলী কদম শাহ তার সামনে বসা লোকটির ওপর যে প্রচণ্ড রেগে আছেন সেটা তার মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে না। সেটা বুঝা যাচ্ছে তার পা দেখে। তিনি পা দুটো ক্রমাগত নাড়াচ্ছেন। পা নাড়ানো তার প্রচণ্ড রাগের লক্ষ্মণ। রাগ জিনিসটা হলো আগুনের মতো। আগুন যেমন কোনো কিছু দিয়ে চাপা দিয়ে রাখা যায় না, রাগও চাপাচাপির জিনিস না। রাগ অগ্নিবৎ, মানুষের কোনো একটা দুর্বলতা দিয়ে সেটা প্রকাশ পাবেই। মৌলভি এনায়েত আলী কদম শাহর দুর্বলতা তার পা, সে দুটে ক্রমাগত নড়ছে। পা পুরোপুরি থামানোর জন্য তার ইচ্ছা হচ্ছে সামনে বসা লোকটির পাছায় কষে একটা লাথি মারতে। সেটা সম্ভব না। সম্ভব না বলেই তার রাগ আরো বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে তার পায়ের নড়ন।

কিন্তু সামনে বসা লোকটিকে কদম শাহর রাগের ব্যাপারে মোটেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে না। সে মেঝেতে বিছানো নরম কার্পেটে বসে আয়েশ করে দাঁত খিলাল করছে। তবে দাঁত খিলাল করার আদব তার জানা আছে। ডান হাত দিয়ে খিলাল করার সময় বাম হাত দিয়ে মুখটা আড়াল করে রাখতে হয়। সে সেটা করছে। সমস্যা অন্য জায়গায়। খিলাল করার পর দাঁতের ফাঁক ফোকর থেকে যে খাদ্যকণা বের হচ্ছে সেগুলো সে গিলে ফেলতে পারছে না। তার অভ্যাস নেই। সে খিলাল করে বহিরাগত জিনিসকে পিক করে থুতুর সঙ্গে ফেলে দেয়। কিন্তু এখানে তা পারছে না। পীর সাহেবের সামনে থেকে পিক করে থুতু ফেলার জন্য ওঠে যাওয়া বেয়াদবি। এমন মুহতারাম লোকের সামনে একটু বেয়াদবিও বিরাট গোনাহর কাজ। সে গোনাহর কাজ পারতপক্ষে করে না। গোনাহ করলে অন্তর মরে যায়। তার অন্তর মুর্দা না, জিন্দা। তার অনেক শাগরেদ তাকে জিন্দাদিল বলে ডাকে। জীবিত থাকতে জিন্দাদিল লকব পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

এমন সময় মৌলভি এনায়েত আলী কদম শাহ পা নাড়ানো বন্ধ করে ধমক দিলেন, এই তোমার মুখের মধ্যে কী? মুখ এমন চিপায়া রাখছো কেন?
লোকটি কোৎ করে ঢোক গিলে হাসি হাসি মুখ করে বললো, মুখের মধ্যে থুতু জমা হইছিলো। বেয়াদবি হওয়ার ভয়ে উইঠা গিয়া ফেলতে পারি নাই। তার কথার মধ্যে কোনো জড়তা নেই। জড়তা না থাকাটাও বেয়াদবি। পীর সাহেব এই বেয়াদবি ছাড় দিলেন।
: তুমি কি জানো তোমারে আমি কেন ডেকে আনছি?
: জি না হুজুর, আমার ধারণা-জ্ঞান অতি অল্প। অল্প বললে ভুল হবে, আমার ধারণা-জ্ঞান মাঝে মধ্যে ভয়াবহ উল্টা পাল্টা হয়। শুনেন, একবার হইলো কি...।
: এই থামো! আমারে জ্ঞান দিবা না। আমারে জ্ঞান দেয়ার জন্য তোমারে ডাকি নাই।
: বেয়াদবি মাফ করবেন হুজুর! আমি আপনাকে জ্ঞান দিতে আসি নাই, জ্ঞান নিতে আসছি। জ্ঞান হইলো মুমিনের হারানো ধন, যেখানে পাইবে কুড়াইয়া লও। হাদিসের কথা। ঠিক বললাম হুজুর?
: তোমারে জ্ঞান দিতে নিষেধ করলাম না!
: আর হবে না হুজুর।
: শুনলাম তুমি নাকি এলাকায় অস্ত্রের কারবার শুরু করছো? তোমার আস্তানায় নাকি প্রায়ই গুণ্ডা-পাণ্ডাদের আসা যাওয়া হয়? কথা কি ঠিক?
: হুজুর আপনে কামেল মানুষ আল্লাহওয়ালা লোক, আপনে সব জানেন। আপনেই বলেন, পদ্মার পাড়ে আমি খানকাহ বানাইয়া নিজের ইবাদত-বন্দেগি নিয়া থাকি। সারাদিন লোকজনের যাওয়া আসা। কে গুণ্ডা আর কে ফানা ফিল্লাহ, সেই খবর তো হুজুর আমি নাদান বলতে পারবো না। নানান কিছিমের লোকজন আসে নানা তদ্বির-মান্নত নিয়া। ইবাদত-বন্দেগি করে, জিকির-আজকার করে। এমন একটা ইবাদতের জায়গায় বসে আমি অস্ত্রের কারবার করবো, এইটা কি হুজুর কোনো বিশ্বাসযোগ্য কথা হইলো?
পীর কদম শাহ বুঝলেন, এই ঘুঘু অনেক ঘাটের জল খাওয়া। কথার তেলেসমাত তার শেখা হয়ে গেছে। এই লোকের সঙ্গে এখন লাইন ঠিক রেখে কথা বলা বৃথা। তার সঙ্গে কথা বলতে হবে বেলাইনে। পীর কদম শাহ বেলাইনের কথা শুরু করলেন।
: আমি অতো কিছু শুনতে চাই না। আমি শুধু জানি তুমি পীরগিরির তলে তলে বন্দুক-পিস্তলের কারবার শুরু করছো। এই কারণেই তোমারে সবাই ডাকে পিস্তল শাহ নামে। আমি কি বেঠিক বললাম?
: অর্ধেক ঠিক অর্ধেক বেঠিক। ...

('চলবে' লিখবো কি না বুঝতে পারছি না। অনেকদিন ধরে মাথায় ঘুর ঘুর করছিলো তাই লিখে ফেললাম। হুমায়ূনিক স্টাইলে লেখার কোশেশ করেছি। জাস্ট পরীক্ষামূলক, দেখি কীভাবে লিখতে হয়। এই আর কি... বিরাট দুঃসাহস টাইপের কাজ।)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৯:১৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথাটা খুব দরকারী

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ৩১ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:৩৪

কথাটা খুব দরকারী
কিনতে গিয়ে তরকারি
লোকটা ছিল সরকারি
বলল থাক দর ভারী।

টাকায় কিনে ডলার
ধরলে চেপে কলার
থাকে কিছু বলার?
স্বর থাকেনা গলার।

ধলা কালা দু'ভাই
ছিল তারা দুবাই
বলল চল ঘানা যাই
চাইলে মন, মানা নাই।

যে কথাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অতিরিক্ত বা অতি কম দুটোই সন্দেহের কারণ

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ৩১ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৩:৩০

অনেক দিন গল্প করা হয়না। চলুন আজকে হালকা মেজাজের গল্প করি। সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই৷ জোসেফ স্টালিনের গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। তিনি দীর্ঘ ২৯ বছর সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান নেতা ছিলেন। বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। সীমানা পিলার

লিখেছেন শাহ আজিজ, ৩১ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৮



বৃটিশ কর্তৃক এদেশে ম্যাগনেটিক পিলার স্থাপনের রহস্য।
ম্যাগনেটিক পিলার নিয়ে অনেক গুজব ও জনশ্রুতি আছে, এই প্রাচীন ‘ম্যাগনেটিক পিলার' স্থাপন নিয়ে। কেউ কেউ এটিকে প্রাচীন মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাথায় চাপা ভূত ভূত ভূতং এর দিনগুলি

লিখেছেন শায়মা, ৩১ শে মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৫৫


এই যে চারিদিকে এত শত কাজ কর্ম, ঝামেলা ঝক্কি, ক্লান্তি শ্রান্তি সব টপকে আমার মাথায় আজও চাপে নানান রকম ভূত। এক ভূত না নামতেই আরেক ভূত। ভূতেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের পাসওয়ার্ড অন্যকে দিবেন না ;)

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে মে, ২০২৪ রাত ৮:৫৭



কথায় আছে যে পাসওয়ার্ড এবং জাঙ্গিয়া অন্যকে দিতে নেই । মানুষ হিসাবে, বন্ধু হিসাবে প্রেমিক/প্রেমিকা হিসাবে অথবা আজ্ঞাবহ হওয়ার সুবাদে আমরা অন্যকে ব্যবহার করতে দিই বা দিতে বাধ্য হই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×