somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগ্রহশালার ঐতিহাসিক তথ্য আবিষ্কার

১১ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জেলা জলপাইগুড়ি থেকে ছড়িয়েছিল সিপাহি বিদ্রোহের আগুন: ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ শুধুমাত্র ব্যারাকপুর এবং বহরমপুরের সেনা ছাউনিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না । ওই বছরের এপ্রিলে মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসির পর বিদ্রোহের সেই আগুন ছড়িয়েছিল বঙ্গদেশের বিভিন্ন প্রান্তে । সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল চট্টগ্রাম, ঢাকা, জলপাইগুড়ি এবং ত্রিপুরাতেও । অথচ এই তথ্য কোনোদিনও পৃথিবীর আলো দেখেনি, না আছে পাঠ্যবইতে তার উল্লেখ । সযত্নে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক তথ্য । কিন্তু সম্প্রতি রাজ্য সংগ্রহশালার গবেষকরা প্রমাণ্য নথি সহ এই তথ্যের হদিস পেয়েছেন । এই গবেষণায় যুক্ত ঐতিহাসিক বরুণ দে জানিয়েছেন, 'সিপাহি বিদ্রোহের সময়কাল প্রকৃতপক্ষে অনেকটাই বিস্তৃত । উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশে সিপাহি বিদ্রোহ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা গেলেও সে অর্থে অজানা ছিল বাংলায় এর উত্থান ।' এর কারণ ব্যাখ্যায় বরুণবাবু দায়ী করেছেন চিরাচরিত সেই অপচেষ্টাকে, যার মাধ্যমে গোটা দেশে এই ধারণাকে চালু রাখা গেছে যে বাঙালিরা ব্রিটিশদের বশ্যতা স্বীকার করতে ভালোবাসতো । ঐতিহাসিক অমলেন্দু দের মতে, 'কোনো কোনো ভারতীয় ইতিহাসবিদ ব্যারাকপুর ও বহরমপুরের বাইরে বাংলায় সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল বলে ইঙ্গিত দিলেও যথোপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি । সেক্ষেত্রে এই নতুন তথ্য আমাদের ইতিহাসকে পুনর্নজর দিতে সাহায্য করে ।'

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগ্রহশালার ঐতিহাসিক এবং আধিকারিকরা পুলিশ ও গোয়েন্দা রিপোর্ট ঘেঁটে যে তথ্য পেয়েছেন, তাতে স্পষ্ট বাংলায় 'স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ' ( সিপাহি বিদ্রোহকে এই আখ্যাই দিয়েছিলেন দামোদর সাভারকার ) অনেক ব্যাপক আকার নিয়েছিল । সংগ্রহশালায় প্রাপ্ত এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বলছে, ১৮৫৭ সালের এপ্রিলে ব্যারাকপুর সেনা ছাউনিতে মঙ্গল ও ঈশ্বরী পাণ্ডের ফাঁসির পরপরই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আগুন দাবানলের মতো মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বঙ্গদেশে । ঐ বছরের সেপ্টেম্বরেই সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল অধুনা বাংলাদেশের চট্টগ্রামে । সিপাহিদের বিদ্রোহে মারা যান বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ সামরিক কর্তা । চট্টগ্রামে সিপাহিরা পরিকল্পনা করেছিল ট্রেজারি দখল নেওয়ার । অকস্মাৎ এই সেনা অভ্যুত্থানে হতভম্ব হয়ে পড়েন ব্রিটিশ আধিকারিকরা । এরপর বেশ কিছুদিন ট্রেজারি সেনা দখলে থাকার পর সংঘটিত সেনাবাহিনী দিয়ে বিদ্রোহে ইতি টানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি । জলপাইগুড়িতেও ঠিক এর দুই মাস পরেই সেনা বিদ্রোহ হয় । এক্ষেত্রে সিপাহীদের লক্ষ্য ছিল চলতি বিশ্বাসকে কার্যত ভ্রান্ত প্রমাণ করা ।
বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের সিপাহীরাই যে শুধু এই বিদ্রোহে নেই, তা প্রমাণ করার তাগিদ থেকেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন তারা । জলপাইগুড়ির সেনা ছাউনি কার্যত ধ্বংস করে এই বিদ্রোহে সাধারণ মানুষকেও জড়ো করেছিলেন সেনারা । এক্ষেত্রেও সেনা বিদ্রোহকে পরাস্ত করতে কলকাতা থেকে বিশাল বাহিনী উত্তরবঙ্গে পাঠিয়েছিল কোম্পানি । ১৮৫৮ সালের জানুয়ারিতে সেনা বিদ্রোহ শুরু হয় ত্রিপুরায় । এখানে সিপাহিদের সংঙ্গে সমর্থন ছিল রাজ পরিবারেরও ।

উল্লেখযোগ্য হল গবেষকরা হাতে পেয়েছেন সে সব শহিদ সেনাদের নাম যাদের জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল । পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগ্রহশালার নির্দেশক অতীশ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, 'অনেকেই মনে করেন মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসির সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় সিপাহি বিদ্রোহে ইতি পড়েছিল । কিন্তু এই নথি থেকে পরিষ্কার কোম্পানির সর্বশক্তিকে উপেক্ষা করে প্রতিটি সেনা বিদ্রোহ নিখুঁত পরিকল্পনায় সংঘটিত হয়েছিল এবং অন্য রেজিমেন্টের সেনারাও বিদ্রোহে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েছিল । আমাদের হাতে যা প্রমাণ্য তথ্য আছে তাতে স্পষ্ট চারটি সেনা বিদ্রহই ।'





সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে ভ্রমণটি ইতিহাস হয়ে আছে

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ১:০৮

ঘটনাটি বেশ পুরনো। কোরিয়া থেকে পড়াশুনা শেষ করে দেশে ফিরেছি খুব বেশী দিন হয়নি! আমি অবিবাহিত থেকে উজ্জীবিত (বিবাহিত) হয়েছি সবে, দেশে থিতু হবার চেষ্টা করছি। হঠাৎ মুঠোফোনটা বেশ কিছুক্ষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবারও রাফসান দা ছোট ভাই প্রসঙ্গ।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৮ ই মে, ২০২৪ ভোর ৬:২৬

আবারও রাফসান দা ছোট ভাই প্রসঙ্গ।
প্রথমত বলে দেই, না আমি তার ভক্ত, না ফলোয়ার, না মুরিদ, না হেটার। দেশি ফুড রিভিউয়ারদের ঘোড়ার আন্ডা রিভিউ দেখতে ভাল লাগেনা। তারপরে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মসজিদ না কী মার্কেট!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৩৯

চলুন প্রথমেই মেশকাত শরীফের একটা হাদীস শুনি৷

আবু উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীদের একজন বুদ্ধিজীবী রাসুল দ. -কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জায়গা সবচেয়ে উত্তম? রাসুল দ. নীরব রইলেন। বললেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকুতি

লিখেছেন অধীতি, ১৮ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:৩০

দেবোলীনা!
হাত রাখো হাতে।
আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে বিষাদ নেমে আসুক।
ঝড়াপাতার গন্ধে বসন্ত পাখি ডেকে উঠুক।
বিকেলের কমলা রঙের রোদ তুলে নাও আঁচল জুড়ে।
সন্ধেবেলা শুকতারার সাথে কথা বলো,
অকৃত্রিম আলোয় মেশাও দেহ,
উষ্ণতা ছড়াও কোমল শরীরে,
বহুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্প্রিং মোল্লার কোরআন পাঠ : সূরা নং - ২ : আল-বাকারা : আয়াত নং - ১

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ১০:১৬

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহর নামের সাথে যিনি একমাত্র দাতা একমাত্র দয়ালু

২-১ : আলিফ-লাম-মীম


আল-বাকারা (গাভী) সূরাটি কোরআনের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম সূরা। সূরাটি শুরু হয়েছে আলিফ, লাম, মীম হরফ তিনটি দিয়ে।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×