somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসা চিরকালের

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারের বসন্ত একটু অন্যরকম। প্রতিবার যেমন উষ্ণতার ছোঁয়া নিয়ে আসে ঠিক তেমনটি নয়। খনা'র সেই বিখ্যাত বচন, "যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পূণ্যি দেশ"- এবারের বসন্তকে একটা ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। প্রাণের আকুতি মেশানো এবারের বসন্ত বাহারি রঙের ফুলে ফুলে সেজেছে বটে তবে তার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে মেঘলা শাড়ীর আঁচলে ঢাকা ধূসরঘন আকাশ, ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির ছন্দের কোমল নৃত্য, হালকা হিমেল হাওয়ার চকিত ঝাপটা- কেঁপে ওঠে শরীর। সব মিলিয়ে এক অনুপম ভাললাগার রেশ। শীত চলে গেলেও শীতের আলসে ভাবটা এখনও কাটেনি।

বসন্ত দিনের সূচনালগ্নে দিনভর বৃষ্টি অথচ জল থৈ থৈ অবস্থা নয়। তেমনটা হলে, ছোট্ট একটা ডিঙ্গি নিয়ে কিশোর বেলার সেই নাবিক হবার চেষ্টাটা আবার করা যেত। কিন্তু তাতো হবার নয়, হবার কোন সুযোগও নেই। সময় এবং বয়স সবকিছুকে দূরে ঠেলে দেয়। পুরোনো স্মৃতিগুলো তাই শুকনো পাতার মত মনের আঙ্গিনায় যত্রতত্র পরে থাকে। সুর কেটে গেলে যেমন গানের মূচ্ছর্ণার আমেজটা আর আগের মত থাকেনা, ঠিক তেমনই জীবনের সুর কোথায় কেটে গেলে বেঁচে থাকার আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। চলার পথে কেমন স্থবিরতা এসে যায়। ইচ্ছাশক্তি কমে যায়। কান্তির ছায়া নেমে আসে। বিষন্নতা পেয়ে বসে অকারণে। কারও প্রতি নির্ভরতা আগল সঁপে দিতে মন চায়।

"আমি কোনদিন কিছু ছিলাম না এবং আমার কোন অভিলাষ ছিল না। অথচ আমার ভেতরে পৃথিবীর তাবৎ স্বপ্ন----"

আমার প্রতিদিনের স্বপ্নগুলো যদি অবারিত দিগন্ত ছুঁযে যেতে পারতো, আমার ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো যদি রঙিন সূতোয় ফুলতোলা রুমালের মত ভালবাসার চিহ্ন হয়ে যেত, আমার চেনা-জানা ভাললাগাগুলো যদি ময়ূরী আকাশের নীচে সন্ধ্যা প্রদীপ হয়ে জ্বলতো এবং আমার চারিপাশের মানুষের হৃদিক সম্পর্কগুলো যদি বহতা নদীর মত চির স্রোতস্বীনি হতো- তবে কী আমরা শ্রাবণের মেঘের মতো প্রতিদিন ভেতরে ভেতরে এরকম ঝরে যেতাম? তবে কী আমাদের হৃদপিন্ড এরকম গলে যাওয়া বরফের মত ক্ষয়ে যেত- দুঃখ, কষ্ট আর বেদনা বিন্যাসে? প্রগাঢ় ভালবাসা আর অগাধ মমত্বে সবাই যদি এক সূতোয় গাঁথা হতাম তবে হয়তো আমাদের জীবন ও ভাবনা এমনটা কুয়াশাচ্ছন্ন কখনোই হতোনা।

স্পর্ধিত মধ্যাহ্নের মতই জীবন একসময় ডুবে যায় মহাকালের অতলে। প্রজ্জ্বলিত সূর্য ডুবে যায় কোন এক দূর দেশে কিংবা কোন এক মেরুতে। আমরাও তেমনি হারিয়ে যাই পৃথিবীর পথে প্রান্তরে নয়তো মাটির অভ্যন্তরে। এই যে বেঁচে থাকা সেতো একগুচ্ছ রক্তজবার মতোই সময়ের সূতোয় জীবনকে বেঁধে রাখা, আর মনের মায়াবী বাঁধনে অন্যদের জড়িয়ে থাকা। জীবনের ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে আসা বিষন্নতা, নিঃসঙ্গতা কখনও কখনও গাংচিল হয়ে নির্জন উপকুলে কান পেতে বসে থাকে ভালবাসার শিলাপাত শোনবার ব্যকুল আশায়। সেখানেও ক্ষীপ্রগতির বিদ্যুৎ ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় আমাদের মনে লালিত কোমল অনুভূতিগুলো, লালিত স্বপ্নগুলো। কেঁপে ওঠে হৃদয় সমুদ্র। আশার তটে হতাশার প্রবল ঢেউ আছড়ে পরে। নিরন্তর মনের পাড় ভাঙ্গতে থাকে। আহত হই, বিপর্যস্ত হই সময়ের কাছে। অগ্নীকোণ থেকে ছুটে আসা প্রবঞ্চক হাওয়া এলোমেলো করে দেয় আমাদের নাক্ষত্রিক প্রেম-ভালবাসা। বুঝতে পারি জীবন মানেই ভাঙ্গা-গড়ার নীরব খেলা।

তবুও আমরা ভালবাসি। পাই ঈশ্বরের ভালবাসা। পলিমাটির সৌরভ পাই মৃত্তিকা গভীরে। মরুদ্যান পাই বিস্তির্ণ মরু-প্রান্তরে। সবুজ পাতার বনভূমি জমা করে সজল মেঘরাশি। আকুল হাহাকারে ভরা খরা ভূমি জেগে ওঠে বৃষ্টির ছন্দে, ফসলে, নানা বর্ণে। নবান্নের ডাক শুনি কৃষকের হাসি মুখে। শিশির এবং রৌদ্রের নমনীয়তায় আবারও উচ্চারণ করি সুবচন। আমাদের হৃদপিন্ডের ডান-বাম অলিন্দে আবারো কর্ষণ করি মানুষের জন্য ভালবাসা। বেঁচে থাকা যদি জীবন হয় আর জীবন মানে যদি হয় ফুল ফোটানোর খেলা- তবে সেই কারণেই অজস্র প্রতিকুলতা সত্ত্বেও আমরা রোপন করি ভালবাসা। ফোটাই ভালবাসাকে বরণ করার অজস্র গোলাপ আর মন রাঙানোর জন্য অসংখ্য শিমুল. পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া। বিষন্নতার অর্গল ভেঙ্গে কাছে টানি প্রিয় কোন মানুষকে-- যাকে ভালবাসি, ভালবাসি এবং শুধুই ভালবাসি।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৩০
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডেল্টা ফ্লাইট - নিউ ইয়র্ক টু ডেট্রয়ট

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:২৬

আজই শ্রদ্ধেয় খাইরুল আহসান ভাইয়ের "নিউ ইয়র্কের পথে" পড়তে পড়তে তেমনি এক বিমান যাত্রার কথা মনে পড়লো। সে প্রায় বছর দশ বার আগের ঘটনা। নিউ ইয়র্ক থেকে ডেট্রিয়ট যাবো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ল অব অ্যাট্রাকশন

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:৪৫

জ্যাক ক্যান ফিল্ডের ঘটনা দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। জ্যাক ক্যানফিল্ড একজন আমেরিকান লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার। জীবনের প্রথম দিকে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। আয় রোজগার ছিলনা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ ছিলনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চরফ্যাশন

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৫৯



নয়নে তোমারি কিছু দেখিবার চায়,
চলে আসো ভাই এই ঠিকানায়।
ফুলে ফুলে মাঠ সবুজ শ্যামলে বন
চারদিকে নদী আর চরের জীবন।

প্রকৃতির খেলা ফসলের মেলা ভারে
মুগ্ধ হয়েই তুমি ভুলিবে না তারে,
নীল আকাশের প্রজাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কর কাজ নাহি লাজ

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৬ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৪


রাফসান দা ছোট ভাই
ছোট সে আর নাই
গাড়ি বাড়ি কিনে সে হয়ে গেছে ধন্য
অনন্য, সে এখন অনন্য।

হিংসেয় পুড়ে কার?
পুড়েপুড়ে ছারখার
কেন পুড়ে গা জুড়ে
পুড়ে কী জন্য?

নেমে পড় সাধনায়
মিছে মর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন গঙ্গা পানি চুক্তি- কখন হবে, গ্যারান্টি ক্লজহীন চুক্তি নবায়ন হবে কিংবা তিস্তার মোট ঝুলে যাবে?

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৬ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:২৬


১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ফারাক্কা বাঁধ শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে খরা ও মরুকরণ তীব্র করে, বর্ষায় হঠাৎ বন্যা তৈরি করে কৃষক ও পরিবেশের মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। পানি বঞ্চনা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×