somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তথাকথিত ব্লগীয় শালীনতা

১০ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ৩:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে রূচিশীল মানুষের শীতঘুম কাটিয়ে জেগে উঠে কিছু কথা বলে ঘুমিয়ে যায়। বোকাইয়ের পোষ্ট নিয়ে একটা সস্তা স্ট্যান্টবাজী হলো, এইসব রঙ্গরসিকতা এবং রূচিশীলতার ঘ্যাঁনঘ্যাঁনানি দেখলে ভালোই লাগে, ব্লগে সবাই নিজের কথা লিখতে আসে, যেহেতু অনেক মানুষের মধ্যেই স্থুল অর্থে মিল বিদ্যমান তাই তারা স্বমতের মানুষ খোঁজে, এভাবেই মানুষে মানুষে ঐক্য গড়ে উঠে, অন্য সময় হলে সেটা হতো রাজনীতির ময়দান, এই ভার্চুয়াল জগতে সেটাসমমনা ব্লগার। বেশ অনেকদিন আগে অশীলতা নিয়ে জলঘোলা হলো, কিন্তু অশীলতার সংজ্ঞা আর পরিধি নিয়ে কেউ একটা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিলো না, এমন মানুষ নির্মিত দেয়ালের ক্ষেত্রে যা হয় তাই হলো এখানে, স্যান্ডো গেঞ্জি পড়া টগবগে তরুনীর যৌনউত্তেজক ভঙ্গি দেখেও যেহেতু সম্পুর্ন ঢেকে থাকা, কিংবা ইষৎ প্রকাশিত এবং কামোত্তেজক তাই তা গিলে ফেললো শোভন মানুষেরা, কোনো পোষ্ট মুছে তা বড় গলায় জানাইলো না কেউ, আবার প্রায় অষ্পষ্ট ন্যাংটা প্রকৃতিবাদিদের ছবি দিয়ে যেখানে আতশীকাঁচেও কোনো মানুষকে পৃথক করা সম্ভব না তা দেখে কারো অশালীন জিহবা ঝুলে গেলো চোয়াল পর্যন্ত এবং তার উত্তেজিত মস্তক পোষ্ট ডিলিটের মতো একটা নেহায়েত ব্যাক্তিগত অভিরূচিকে সগর্বে জানানোর জন্য প্ররোচিত করলো মানুষকে।

এবার মানুষের লেখার ভাষা নিয়ে হাতাহাতি শুরুখয়েছে, ব্লগের অনেক বিষয়ের পোষ্টই ব্যক্তিগত অনুভব সেই অনুভবের প্রতিক্রিয়ায় যা বলা হবে তা ব্যক্তিগত আক্রমনের বিষয় হয় েযাবে, কেউ কেউ একেবারে অহেতুক পারিবারিক টানাটানি শুরু করলো, কেউ বক্তাকে একচোট ধুঁয়ে দিলো। কিন্তু ভন্ডকে ভন্ড বলা আর রাজাকারকে রাজাকার বলার মতো স্পষ্ট অবস্থান গ্রহনকেও বাঁধাগ্রস্থ করার কারন কি।
মানুষের ভেতরটা উন্মুক্ত হতে হবে কিন্তু সর্বগ্রহক সার্বজনীনতা কোনো মতেই সরল কোনো মতবাদ নয়, একমাত্র ধান্দাবাজেরই সবার মতের সাথে সহমতত্ব থাকে, বাকি বসার একটা আদর্শিক অবস্থান থাকে, সেখান থেকে তারা নিজেদের অবস্থান ডিফেন্ড করার চেষ্টা করে, আমি গাছেরও খাই তলাও কুড়াই ধাঁচের মানুষ গাছের গুন গায় মাটিরও পূজা করে।
আমি নিজে যা বিশ্বাস করি না তা প্রচার করা এবং সেই প্রচারনায় অহেতুক অনেক রকম আতিকথন সটতার লক্ষন নয়, এর পরও কেউ কেউ জনপ্রিয়তার লোভে এমন কাজ করতে চাইছে। তারা সবাইকে সান্তনা দিতে চাইছে, আমি তোমার সাথে আছি, এবং আমি আপনাদের সাথেও আছি- এমন মোনাফেক মানুষদের বিষয়ে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।
এখন যখন মানুষের উচ্চারনের সহবত শেখানোর ক্লাশ শুরু হলো তখন আমার অবস্থান এর বিরুদ্ধে। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য তার যেমন অভিরূচি তেমন ভাবে ভাব প্রকাশ করবে-
শ্রদ্ধা অর্জন করাটা নিজের মতাদর্শের প্রতি প্রণত থাকার সাথে সংযুক্ত একটা বিষয়, তবে নিজের মতাদর্শটা খুঁঝে পাওয়াটাই একটা বিষম সমস্যা। একবার খুঁঝে পেলে সেটাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম, প্রয়োজনে পালটা আক্রমন সব সময়ই শ্রদ্ধার কাজ।
যেসব রাজাকার চেতনার মানুষ নিজের রাজাকারি নিয়ে লজ্জিত নয় এবং যারা বড়াই করে নিজেদের রাজাকার পরিচয় দেয় তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকা যায় যহজেই, লড়াইয়ের সময় পক্ষ চেনার বিষয়টা থাকে, কিন্তু কিছু আপাত অক্ষতিকর বিষ্ফোট যখন মতপ্রকাশের জায়গাটাকে সংকুচিত করতে থাকে তখন মতের অমিলের জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না।
অবশেষে কোনো ধরনের মতভিত্তিক বাদানুবাদের কোনো সুযোগ থাকে না, এই সব আপাত নিরীহ সর্বগ্রাসী বিস্ফোট নিয়ে চিন্তিত হওয়া এবং আপাত শালীন ব্লগানোর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানিয়ে বলতে চাইছি
যারা নিজের আদর্শের জন্য শ্রদ্ধা পেয়েছে তারা আমার লেখা নিয়ে যতই বাজে মন্তব্য করুক তাদের প্রতি শ্রদ্ধাটা কমবে না বরং বাড়বে, অন্তত তারা আমাকে আমার ভুলভাবনা থেকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে পারে, কিন্তু সবার গ্রহনযোগ্য এবং চাটুকার শ্রেনীর মানুষের কাছ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারাটাই একটা বড় মাপের অর্জন জীবনে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মসজিদ না কী মার্কেট!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৩৯

চলুন প্রথমেই মেশকাত শরীফের একটা হাদীস শুনি৷

আবু উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীদের একজন বুদ্ধিজীবী রাসুল দ. -কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জায়গা সবচেয়ে উত্তম? রাসুল দ. নীরব রইলেন। বললেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সচিব, পিএইচডি, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মুখ থেকে আপনি হাদিস শুনতে চান?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:৪৫


,
আপনি যদি সচিব, পিএইচডি, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মুখ থেকে হাদিস শুনতে চান, ভালো; শুনতে থাকুন। আমি এসব প্রফেশানেলদের মুখ থেকে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, বাজেট,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকুতি

লিখেছেন অধীতি, ১৮ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:৩০

দেবোলীনা!
হাত রাখো হাতে।
আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে বিষাদ নেমে আসুক।
ঝড়াপাতার গন্ধে বসন্ত পাখি ডেকে উঠুক।
বিকেলের কমলা রঙের রোদ তুলে নাও আঁচল জুড়ে।
সন্ধেবেলা শুকতারার সাথে কথা বলো,
অকৃত্রিম আলোয় মেশাও দেহ,
উষ্ণতা ছড়াও কোমল শরীরে,
বহুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক- এর নুডুলস

লিখেছেন করুণাধারা, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ৮:৫২



অনেকেই জানেন, তবু ক এর গল্পটা দিয়ে শুরু করলাম, কারণ আমার আজকের পোস্ট পুরোটাই ক বিষয়ক।


একজন পরীক্ষক এসএসসি পরীক্ষার অংক খাতা দেখতে গিয়ে একটা মোটাসোটা খাতা পেলেন । খুলে দেখলেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্প্রিং মোল্লার কোরআন পাঠ : সূরা নং - ২ : আল-বাকারা : আয়াত নং - ১

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ১০:১৬

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহর নামের সাথে যিনি একমাত্র দাতা একমাত্র দয়ালু

২-১ : আলিফ-লাম-মীম


আল-বাকারা (গাভী) সূরাটি কোরআনের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম সূরা। সূরাটি শুরু হয়েছে আলিফ, লাম, মীম হরফ তিনটি দিয়ে।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×