somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃআসমাউল বিশ্বাস
মেঘের ছায়া-- ভালো লাগা থেকে লেখালেখি, খারাপ লাগা থেকে লেখালেখি, কষ্ট পাওয়া থেকে লেখালেখি , আনন্দ ভেসে ভেসে লেখালেখি। nn'মায়ানগরীর বৃষ্টিকথন' প্রথম ও যৌথ কাব্যগ্রন্থ।

অনুধাবন

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
আজ রাসেলের সকাল টা শুরু হয়েছে একটু আলাদা ভাবে। অন্যদিন মায়ের ফোনে ঘুম ভাঙে। আজ আম্মা ফোন করেনি ,ফোন এ সময় দেখতে গিয়ে দেখল ফোন টা বন্ধ। বলতে গেলে ফোনটা আধা নষ্ট। বার বার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। চার্জ সংযোগ দিয়ে ফোন খুলে দেখল সকাল সাতটা বাজে। ফজরের নামায পড়া হচ্ছে না নিয়মিত। ভাবল উঠে ফ্রেস হয়ে নামায পড়বে । ক্বাযা হলেও নামায পড়ে নেওয়া তো ভালো। ভাবতে ভাবতে কেবল বিছানা ছাড়বে এমন সময় দরোজায় টোকা পড়লো ।
“রাসেল,দরোজা টা খোল’’। মজিদ ভাই বলল ।
মজিদ ভাই,হলের অন্যতম কাছের বড় ভাই। খুব ব্যস্ত মানুষ কিন্তু এতো সকালে উনি আমার কাছে কেন?
দরোজাটা খুলে দিলো রাসেল দ্রুত অন্যথায় রুমমেট দের ঘুমে ঝামেলা।পড়ে বকাবকি শুনতে হবে ওদের।
মজিদ ভাইঃ“কি ঘুম থেকে কেবল উঠলি ? তাড়াতাড়ি করে আমার রুমে আয়। কথা আছে।”
রাসেলঃ “আচ্ছা ভাই আসতেছি । আমি একটু ফ্রেস হয়ে আসতেছি।”
মজিদ ভাইঃ“আমি গেলাম,তাড়াতাড়ি আসিস।”
উত্তরের অপেক্ষা না করে মজিদ ভাই দরোজা থেকেই চলে গেলো। রাসেল খেয়াল করলো মজিদ ভাই এর মুখে কেন আলাদা ধরণের হাসি। ব্যস্ত মানুষেরা অট্ট হাসি দিতে পারে না । দেয় মুচকি হাসি। কিন্তু আজকের হাসি এমন ছিল না।অন্য ধরণের।
রাসেল দ্রুত ফ্রেস হয়ে নামায পড়ে নিল। রাতে খাওয়া হয়নি । ক্ষুদা লেগেছে খুব। কিন্তু নাস্তা করতে গিয়ে যদি দেরি হয়ে যায় মজিদ ভাই রেগে যেতে পারেন। রুমে তেমন খাবারও নেই । সন্দেশ এর মত এক ধরনের ছোট মিষ্টি ছিল একটা মুখে দিয়ে মজিদ ভাই এর রুমের দিকে পা বাড়াল রাসেল । মজিদ ভাই হলের অন্য ব্লকের তিন তলায় থাকেন।
একটু সময় লেগে গেলো রাসেল এর । দেরি হয়ে যাওয়ার জন্য ভয়ে ভয়ে রাসেল দরোজায় নক করলো ।
মজিদ ভাই ভিতর থেকে বললেনঃ“রাসেল ভিতরে আয়। দরোজা খোলা আছে।”
এই সকালে কেও রুমে আসবে না মজিদ জানে। দরোজার ও পাশে যে রাসেলই থাকবে না দেখেই বলে দেওয়া যায়। এর জন্য আলাদা ইন্দ্রিয় এর কোন দরকার নেই।

দেরি হওয়া নিয়ে মজিদ ভাই কোন কথাই বললেন না। আবারো সেই অবাক করা হাসি দিতে থাকলেন । মানুষ এর হাসিও মাঝে মাঝে ধাঁধাঁয় ফেলে দেয়। ভাইভা বোর্ডে যদি কোন স্যার হাসে আর ছাত্র যদি যে উত্তর দিয়েছে সে ব্যাপারে সিওর না থাকে তাহলে তার মাথার ভিতর একটা ঘূর্ণিপাক খায়। তেমন অবস্থা হোল রাসেলের।
মজিদ ভাইঃ“কি এমন তাকায় আছিস কেন? ৪র্থ পেজ খুলে দেখ। এই দেখ কি ঘটায় দিছিস তুই?” বলে দেশের অন্যতম একটা সেরা জাতীয় পত্রিকা হাতে ধরিয়ে দিলেন মজিদ ভাই ।
রাসেল ঐ পেজে গিয়ে বড় করে লেখা নিজের নাম দেখে। আর নিজের সেই আর্টিকেল দেখে। বড় করে লেখা “শিশু শ্রম আমাদের আঙিনায়” নিচে নিজের পুরো নামটা আবীর হুসাইন রাসেল।
চোখ ছলছল করতে লাগলো রাসেলের । কত দিনের ইচ্ছেটা আজকে পূরণ হোল। ছোট বেলা হতে ইচ্ছে ছিল সাংবাদিক হবার । ইচ্ছে ছিল সমাজের সব সত্য কথা গুলো প্রকাশ করে দিবে। আর পত্রিকার পাতায় জুড়ে থাকবে তার নাম । মনে হোল এইটাই তার জীবনের সবথেকে সেরা অর্জন। মজিদ ভাইকে জড়ায় ধরবে না কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না । পত্রিকার নিজের লেখা তাই পড়ার কোন দরকার হোল না। রাসেল নিজের নামটার দিকে ঠায় তাকিয়ে আছে। কতক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছে রাসের ঠিক নাই। মাথা তুলে দেখল মজিদ ভাই তার দিকে তাকিয়ে আছে । লজ্জায় পড়ে গেলো রাসেল। চোখের ছলছল করা পানি মিশিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকলো ।
মজিদ ভাই নিজেই আবেগ প্রবণ হয়ে গেলো । নিজের তিন বছর আগের সেই প্রথম লেখা প্রকাশ এর দিনের কথা মনে পড়লো । আবেগের ব্যাপার যে সবার ক্ষেত্রে সমান।
আবেগ কাটিয়ে কাশি দিয়ে বললেন,“এতেই যদি কান্নাকাটি শুরু করিস সামনে এগোবি কিভাবে ? যা কাছের মানুষদের সংবাদটা দিয়ে দে।’’
রাসেল সালাম করে রুম হতে বেরুতে যাবে এমন সময় মজিদ ভাই আবার পিছন হতে ডাক দিলেন।
মজিদ ভাই,“আমার মিষ্টি কখন হবে রে । দুপুরে আমাকে একবার কল করিস আরও একটা ভালো নিউজ পেতে পারিস।”
রাসেলঃ “আচ্ছা ভাই ফোন করবো ।”
এর থেকে কি ভালোসংবাদ হতে পারে রাসেলের জানা নেই। মাথায়ও আসতেছে না ।কেন জানি ভাবনাও আসে না মাথায়।
রাসেল কিছু বলতে পারল না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধন্যবাদ শব্দ । ভালোবাসি শব্দটা মুখে বলা নিষ্প্রয়োজন।চোখের যেখানে ভাষা আছে ,নীরবতায় যেখানে উত্তর আছে,যোগাযোগ হীনতায় যেখানে সংযোগ আছে সেখানে বাহ্যিকতার দরকার হয় না।

২।
রাসেল এর তাড়া কখন যে সে কাছের মানুষদের এই নিউজটা দিবে তার জন্যে। পকেট হতে ফোন বের করে দেখে ফোন আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ওপেন করে মা কে ফোন করলো। অবাক করা বিষয় সরাসরি এক কলেই ফোন সংযোগ পেল । বাড়ির নেটওয়ার্ক এতো সমস্যা যে একবার কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া দুষ্কর।
রাসেলঃ “আম্মা কেমন আছো তুমি কি করো ?”
মাঃ“বসে ছিলাম। কিছু করি না। তোমাকে আজ এতু খুশি খুশি লাগছে যে রাসেল।”
মা ভালো মন্দের প্রশ্ন এড়িয়ে যান সবসময়।রাসেলও এমন।
রাসেলঃ“হ্যাঁ আম্মা একটা ভালো নিউজ আছে। পত্রিকায় আমার একটা লেখা ছাপা হইছে।”
মাঃ“কোন পত্রিকায় ? কিসের উপর লিখে ছিলে?”
কণ্ঠ ভারী হয়ে গেলো রাসেলের আম্মার। চোখ ঝাপসা হয়ে গেলো। এরকম চোখের পানিত সুখের পানি । ছেলেটা তার বিভিন্ন ধাক্কা মোকাবেলা করতে করতে বড় হচ্ছে। একবার ভালো কিছু করার আগেই এসে যায় একটা ধাক্কা।
রাসেলঃ“আম্মা আমি ভাইয়া কে ফোন করে বলে দিচ্ছি। ভাইয়া দুপুরে তোমাকে দেখাবে। আব্বা কৈ ?”
মাঃ“তোমার আব্বা বিলে গেলো । কি যেন কাজ আছে। আসতে তো দুপুর হয়ে যাবে। আসলে আমি জানাব।”
রাসেলঃ“পারলে লোক পাঠায় বাড়ি আসতে বোলো আজকে একটু তাড়াতাড়ি। আম্মা আমি রাখতেছি। ক্লাসে যাব। রাখতেছি।”
সালাম দিয়ে রাসেল ফোনটা রাখল। ভাইয়াকে অবাক করার জন্য তেমন কিছু না জানিয়ে শুধু পত্রিকার নাম আর পেজ নাম্বার বলে রেখে দিলো। রাসেল জানে ভাইয়া পত্রিকা সংগ্রহ করবে এবং বাসায়ও নিয়ে যাবে।
মনে মনে ভাবতে লাগলো বাসায় কার কি অনুভূতি হচ্ছে এখন । মা কি ভাবছে এখন? নিশ্চয়ই আশে পাশের মহিলাদের দেখে খবর দেওয়া শেষ। ভাইয়া নিশ্চয়ই পত্রিকাটা আনতে লোক পাঠিয়েছে বা নিজে গেছে।দূরে থাকা কাছের মানুষ নিশ্চয়ই পত্রিকাটা বার বার উলটাচ্ছে। কত সব রং বেরং এর ভাবনা রাসেলের মাঝে এখন ।

৩।
রুমে এসে রাসেল অবাক করা সিদ্ধান্ত নিল। আজ সে ক্লাস করবে না। বিগত তিন বছরে ক্লাস হাজিরায় প্রত্যেকটায় ফুল মার্কস পেয়েছে। আজ চারটা ক্লাসই করবে না। এখন গোসল করে নাস্তা করে টিউশনি বাসায় ফোন করবে। যদি ছাত্র বাসায় থাকে তাহলে পড়াতে যাবে । ছাত্র আবার একটু ফাকি বাজ । সামান্য অসুস্থতার দোহাই দি স্কুল এ যায় না। মাঝে মাঝে ছাত্রের এই ফাঁকিবাজি রাসেলের কাজে লাগে । যেমন আজকে দুপুর বেলায় পড়াতে পারলে বিকালে মজিদ ভাইকে সময় দিতে পারবে।
একটু ঠাণ্ডা পড়ে গেছে ক্যাম্পাসে। গোসল করতে কষ্ট হোল রাসেলের। দুই বছর রাসেল এর ঠাণ্ডা জনিত অসুস্থতা বেশী দেখা যাচ্ছে। কাপড় বদলিয়ে রেডি হয়ে নাস্তা করতে গেলো রাসেল।
নাস্তা তেমন ভালো হোল না। দেরি হোলে হলে ভালো নাস্তা পাওয়া যায় না। নাস্তা শেষ হবার আগেই ছাত্রের ফোন । ছাত্রের অভ্যাস যখন তখন ফোন করে বিভিন্ন প্রশ্ন করা । মাঝে মাঝে বিরক্তি লাগে মাঝে মাঝে ভালো লাগে। তখন জ্ঞানী জ্ঞানী মনে হয় । কিন্তু আজ তাহলো না। ও আজ পড়বে না। ছাত্রের এক বন্ধুর বোনের বিয়ে। ও সেখানে যাবে। বিয়ে শব্দ টা কেমন জানি মনে হয় রাসেলের ভাঙ্গা গড়ার খেলা। নতুন বন্ধন গড়া পুরাতন বন্ধন ভেঙ্গে। কোথায়ও হাসি কোথায়ও কান্না।
রাসেল একটু ধমক দিলো ছাত্র দীপুকেঃ“সারাদিন বিয়ে,অসুস্থ ,কাজ আছে বলে সময় পার করতেছো । পরীক্ষা খারাপ হলে তো আমাকে বাদ দিবে। বাদ দাও দাও কিন্তু আমি দোষ ঘাড়ে করতে পারবো না কিন্তু ।”
বলেই ফোনটা কেটে দিলো রাসেল। ভালোই হোল। একান্ত নিজের মত করে হাটবে। হিমুর মত হাঁটলে কেমন হয় ভাবতে লাগলো রাসেল। যদি এমন হাটতে পারত হিমু,রূপা,শুভ্র,মিসির আলি,বাদল একসাথে থাকতো ,কতোই না ভালো হতো।

না কাওকে পেলো না। এমন কাওকে পাওয়া সম্ভব কি না রাসেল জানেনা। নিজের মত করে একা একা হাঁটল সারাদুপুর। মাঝে একপায়ের জুতাটা ছিঁড়ে গেলো রাসেলের। ছেড়া জুতা পায়ে হাটা খুব ঝামেলার । দুই পায়ের জুতাটা খুলে খালি পায়ে ক্যাম্পাসটা ঘুরলো রাসেল। মাঝে মাঝে ক্লাস হতে ফোন আসতে থাকলো। ইচ্ছা করে ফোন বন্ধ করে রাখলো সে। ফোন খোলা রাখা মানে নিজের সাথে হাজার জনকে সাথে রাখা ।


৪।
পা যেন আস্তে আস্তে ভারী হয়ে যাচ্ছে। পেটে খাবার না থাকলে মনও ভারী হয়ে যায় । দুপুরে ক্যাফেটেরিয়া গেলো রাসেল খাবার খেতে। কি যেন একটা অনুষ্ঠান হবে আজকে এখানে তাই আজকে খাবার পাওয়া যাবে না। ডেকারেটর কর্মীরা খুব ব্যস্ত।কি অনুষ্ঠান, কিসের অনুষ্ঠান জানার ব্যপারে অবশ্য রাসেলের আগ্রহ নেইও। ভার্সিটির গেটের প্রভাত হোটেলে এসে ডিম,ডাল আর ভাত এর অর্ডার দিলো।
বারবার মজিদ ভাই এর কথা মনে পড়তেছে তার। কতদিন তার রুমে গেছে। মজিদ ভাই বিভিন্ন পত্রিকার সাথে আছেন। প্রতিদিন উনার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় আসে। দেখে নিজেরও ছোট বেলার সুপ্ত ইচ্ছেটা পাখামেলা। যদি ভাই একটু সহযোগিতা করতো তাহলে সেও সাংবাদিক হতে পারত। কতদিন অনুরোধ করেছে তার একটা লেখা প্রকাশ এর জন্য।কতবার গল্প,কবিতা,আর্টিকেল জমা দিয়েছে। এক এক বার এক এক ধরণের ত্রুটি দেখিয়েছেন । হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি রাসেল কখনো। সামনের মাসে হাতে টিউশনির টাকা আসলে ভাইকে একটা ভালো বই গিফট করবে।তার কাছে গিফট এর জন্য বই শ্রেয়।
ভাবনার ছেদ করলো মাছি। মাছির রং সাধারণত কালো হয় এই মাছিটার রং লালচে। অবশ্য টা সম্বব হয়েছে তরকারীর সাথে মিশে যাবার জন্যে। মাথা গরম ছিল না,কিন্তু গরম করতে ইচ্ছে হোল।
গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলো রাসেলঃ“ওয়েটার।”
চিৎকার এর ধরণে দ্রুত ওয়েটার আসলো। আট হতে দশ বছর হবে এর বয়স।
“এইটা কি? খা তুই ” মাছি টা দেখিয়ে চোখ লাল করে রাসেল জিজ্ঞেস করলো।
ভয়ে ভয়ে আমাতা আমাতা করে কি যেন বলল রাসেল বুঝাতো দুরের কথা ওয়েটার নিজেও বোঝে নাই।
খাওয়া শেষ করে মানি ব্যাগ এ হাতদিয়ে দেখে মাত্র বিশটাকা। খাবার বিল সাতাশ টাকা। সাত টাকার কি হবে । লজ্জায় পড়ে গেলো সে। আর পকেট পুরো খালি করা যাবে না। পুরো খালি পকেটে নিজেকে বেশী বড়লোক মনে হয়। কারণ বেশী বড়লোকেরা কোন টাকা সাথে রাখে না। তাদের ক্রেডিট কার্ড,এটিএম কার্ড বিভিন্ন কার্ড আছে। টাকা রাখার প্রয়োজন হয় না।
পনের টাকা দিয়ে বললঃ“মামা,বার টাকা পাবে । বেঁচে থাকলে কাল নিবে। না থাকলে ছেড়ে দিবে। আর যদি না ছাড় আমি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ কে বলব আমাকে মাছির তরকারী খাওয়ায় টাকা নিয়েছে।”
কোন উত্তরের অপেক্ষায় না করে রাসেল বের হয়ে আসলো হোটেল থেকে।হোটেলর মামা প্রথমেই খালি পা দেখে অবাক হয়েছে। এর পর স্বভাবহীন গরমে। সব থেকে অবাক হয়েছে কথা গুলো শুনে।পিছন দিকে তাকানো যাবে না। তাহলে পরিবেশটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক পরিবেশ থাকা ভালো।
সোজা মুক্তমঞ্চের কাছে চলে আসলো রাসেল। দিনটা ভালোই যাচ্ছে। কাঁঠাল গাছের নিচে মঞ্চের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসলো। আর ভাবতে লাগলো আর্টিকেল টির কথা যেটা আজকের পত্রিকায় প্রকাশ হোল। আর যেখান হতে লেখার থিম টা এসেছিলো সেই দিনটার কথা।

৫।
তখনো ক্যাপাসে শীত আসেনি তেমন। বিকালে টিউশনি সেরে সেন্ট্রাল খেলার মাঠে এসে বসেছে রাসেল। সূর্য প্রায় ডোবে ডোবে অবস্থা। চারিদিকে সবাই আড্ডা দিচ্ছে। সাধারণত এখানে বসা হয় না রাসেলের । কপোত কপোতীদের আড্ডা দেওয়া দেখলে নিজেকে একা মনে হয়। গরীব আর বেকারদের জীবনে তো দোকা হওয়া ঠিক না।
হালকা মাথা ধরেছে তার আজ। তারপর রাসেলের আম্মা একটু অসুস্থ । একটা অপারেশন করার দরকার। অনেক টাকা পয়সার দরকার । এর আগেও একটা অপারেশন করা হয়েছে এর জন্য তার আম্মা একটু বেশী ভয় পাচ্ছে। যদি কিছু হয়ে যায়।
“ মামা,চা খাবেন? সিগারেট খাবেন?” ধ্যান ভঙ্গ হোল রাসেলের।
ডান দিকে আট বছরের মত বয়সী একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে সিগারেট এর প্যাকেট আর একটা কেটলি সাথে চার পাঁচটা কাপ নিয়ে।
“তোর নাম কিরে ?” রাসেল জিজ্ঞেস করলো।
“মামা, আমার নাম রিফাত”ছেলেটি বলল।
রাসেলঃ“রিফাত বস,আয় কথা বলি।”
রিফাতঃ“না মামা, বোসমু না,খাইলে কন, না খাইলে যামু।”
বলতে বলতে বসে পড়লো রিফাত। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি ত্তে নিশ্চয়ই ক্লান্ত।
রাসেলঃ“আচ্চা খামু,দে তো এক কাপ দে। আদা দিস আমার মাথা ধরেছে।”
রিফাতঃ“আদা নাই খাইলে খান, নইলে যামু। আইজ ব্যচতে পারি নাই বেশী।”
রাসেলঃ “থাক লেবুর চা তো দে।লেবু কম দিস।”

রিফাত চা বানাতে লাগলো। রাসেল এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রিফাতের দিকে। তার মনে হচ্ছে এই তো সেই পনের বছর আগের রাসেল। নিজের পতিচ্ছবি খুজে পেলো রিফাতের মাঝে। ছোট ভাইটাও দেখতে রিফাতের মত। রাসেলের ভিতর টা কেঁদে উঠলো।
“মামা,চা নেন।”হাতে উষ্ণ কাপের ছোঁয়াতে চেতনা ফিরে পেলো রাসেল।
রিফাতঃ“মামা,খাইতে থাহেন, আমি ব্যচতে লাগি।”
রাসেলঃ“না তোর বিক্রি করতে হবে না এখন। আমি হয় সব খাব না হয় বিক্রি করে দেবো তোর বাড়ি যাওয়ার আগে।”
শুনে একটু আশ্চর্য হোল রিফাত। ক্লান্ত না থাকলে হয়তো চলেই যেত চা বিক্রি করতে একটু পড়ে এসে বিল নিয়ে যেত।
রাসেলঃ“রিফাত,চা তো অনেক সুন্দর হইছে।তুই তো ভালো চা বানাস।আরেক কাপ দে তো।”
আসলে ক্যাম্পাস এর সবার চা অনেক টা একই। ঊনিশ পার্থক্য ধরা যায় না। মানুষ প্রশংসার পাগল। আমি তুমি সবাই। রিফাত দ্রুত চা বানাতে লাগলো । আরও যত্ন করে। আরও মনোযোগ দিয়ে।
রিফাতঃ“মামা,এই কাপ খাইতে লাগেন, আমি আদা নিয়া আস্তাছি।”
রাসেলঃ“ না, আদা লাগবো না। মাথা ব্যাথা ঠিক হয়ে গেছে তোর চা খেয়ে। তুই,পড়াশুনা কোন পর্যন্ত করিস? ”
রিফাতঃ“পড়াশুনা কইরত্তে অনেক ট্যাঁকা লাগে। আপনি দেবেন। ?”
এই ছোট্ট প্রশ্নে অনেক বড় একটা ধাক্কা খেল রাসেল। নিজেই কত কষ্ট করে পড়াশুনা করে আর সেখানে যদি এই প্রশ্ন আসে।
রাসেলঃ“তুই আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবি,পারবি না? আর চল তোর চা বিক্রি করে আসি।”
রিফাতঃ“ভাইয়া, তাইলে আমি কিন্তু তুমি কইরা কমু।”
রাসেলঃ “আচ্ছা,তোর যা খুশি ডাকিস।”
রাসেল আর রিফাত দুজনে চা বিক্রি করলো সারা সন্ধ্যা। সিগারেট গুলো পড়ে রইলো। কিন্তু রিফাতের মনে কোন ক্ষোভ নেই যেন। পরদিন রাসেলের অফ ডে ছিল রাসেল ক্লাসে গেলো না। সারাদিন রিফাতদের গেরুয়া গ্রামের বস্তি বাড়িতে কাঁটালো। খাওয়া দাওয়া করলো ওখানেই।

৬।
“এই রাসেল এখানে কি করিস?এ অবস্থা কেন ?”নিষাদ মাথাটা নাড়া দিয়ে ডাকল।
নিষাদ তার হলের অন্যতম কাছের বন্ধু। রাসেল এর ফোন অফ পেয়ে মজিদ ভাই নিষাদকে ফোন করে ।দু জনে সারা ক্যাম্পাস তন্নতন্ন করে রাসেলকে খুজেছে।
মজিদ ভাইঃ“আমি জানতাম,মানুষ কষ্টে পাগল হয়। তুই তো খুশিতে পাগল হলি। আমার বেশী কথা বলার সময় নেই। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়। অনুষ্ঠান একটু পরে শুরু।”
বলেই মজিদ ভাই চলে গেলো ক্যাফেটেরিয়া এর দিকে। ওদিক হতে বক্স এর সাউন্ড আসতেছে। লাইটিং একটু একটু দেখা যাচ্ছে।
নিষাদঃ“মামা,তুই তো ফাটায় দিলি। আজকে তুই তো অনেক টাকা পাবি।”
রাসেলঃ“ক্যামনে, কিভাবে?”
নিষাদঃ“তোর ঐ লেখাটা মজিদ ভাই একটা মানবধিকার সংস্থার গবেষণা সেক্টর এ জমা দিয়েছিল। ওরা বাচাই করে তিন জনকে। এই পুরষ্কার দিচ্ছে। তুই দ্বিতীয় পজিশনে। তুই পাবি পঁচাত্তর হাজার টাকা। ”
রাসেল যেন ঘোরের মধ্যে আছে।ছাত্র বয়সেই তার এতো বড় অর্জন কখনো ভাবতেই পারেনি। রাসেল লেখাটা নিজের দেখা ঘটনা আর ক্যাম্পাস এর বিভিন্ন জায়গায় কাজকরে হলে,ক্যান্টিনে বা ভ্রাম্যমাণ হকার আট হতে দশ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে লিখেছে। যারা আলোকিত এই বিশাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে থেকে বেড়ে উঠতেছে সেবা করতেছে জ্ঞান গুরুদের । নিজেরা থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে সামাজিক,পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারণে।
“চল,হলে চল রেডি হয়ে আসিস।” নিষাদ বলল।
হলে তো এর থেকে ভালো জামাকাপড় নেই । হলে যাওয়া না যাওয়া একই। তার থেকে টিএসসি থেকে ফ্রেস হয়ে অনুষ্ঠানে বসে যাওয়াই উত্তম।
রাসেলঃ“দোস্তো,এখন হলে যেতে ভালো লাগছে না। এইখানে ফ্রেস হই।আর পুরষ্কার আনতে যাওয়ার সময় না হয় তোর জুতা পরে যাব।”
ভিতরের ব্যাপারটা বুঝতে পারলো নিষাদ। তাই আর জোরাজুরি করলো না সে।

অনুষ্ঠান অনেক জমকালো হোল। প্রধান অতিথির কাছ হতে রাসেল পুরষ্কার হিসাবে একটা ক্রেস্ট আর নগদ টাকা নিলো। প্রত্যেক অতিথি রাসেলের প্রশংসা করলো । সভাপতি রাসেলকে পরে দেখা করতে বললেন।
একপাশে মজিদ ভাই দাড়িয়ে ছিলেন। রাসেল কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরল মজিদ ভাইকে। চোখে এবার পানি ধরে রাখতে পারলো না। দুঃখের অশ্রু বাধ না ভাঙলেও সুখের অশ্রু বাধ ভাঙে । ক্রেস্ট টাকা মজিদ ভাইয়ের হাতে দিলো।
মজিদ ভাইঃ“পাগল,তোকে আরও বড় হতে হবে। আর এইগুলো তো তোর প্রাপ্য। আমার না। যা হলে যা শীতের কাপড় পড়ে বের হইস। রাতে আমরা আড্ডা দিব।”

৭।
অনুষ্ঠান শেষে নিষাদ আর রাসেল বের হয়ে আসলো। শীত লাগতেছে দুজনেরি । রাস্তায় এসে নিষাদ একটা রিক্সা থামালো। দুজনে দুপাশ থেকে দ্রুত উঠে পড়লো।
“যান মামা,বঙ্গবন্ধু হলে যাব।” রাসেল বলল।
নিষাদঃ “রাসেল,আজকে একটা পার্টি হয়ে যাবে নিশ্চয়ই? কি বলিস?”
রাসেলঃ“ তা হবেই। তোরা ছাড়া আমার আছে কে ? আমার তো আর গার্ল ফ্রেন্ড নাই যে তাকে নিয়ে খাওয়াবো।”
নিষাদঃ“তাইলে,কালকে আমরা একটা চাইনিজ এ যাই।”
রাসেলঃ“আগেতো শীত থেকে বাঁচি। যদি আরও ভালো কোথাও খেতে চাস তাও পারিস আজকে রাত আট টায় বেরবো । তখন সব জানাবো ।”
বলে মুচকি হাসি দিলো রাসেল।

রিক্সাওলা এমন ভাবে একটা লম্বা চাদর আর একটা মাফলার দিয়ে আছে ভালো করে বুঝাই যাচ্ছে তাকে। চাদর আর মাফলার দেখে শীত যেন আরও বেড়ে গেলো ওদের। রিক্সা ঢাল বেয়ে দ্রুত নিচে নামে বাতাস জোরে গায় লাগে। শীতও বেড়ে গেলো। ঢাল বেয়ে যখন নেমেছে তখন অনেক দ্রুত উঠতেও তাই অনেক ধীর হচ্ছে । দুজনের মেজাজ খারাপ হচ্ছে । সারাদিনের ক্লান্তিতে কারোরই নেমে হাটতে ইচ্ছে হচ্ছে না।
নিষাদ রাগারাগি করা শুরু করে দিলো। শীত যে ওর বেশী লাগছে।
“এই মিয়া জোরে টানেন না ক্যান?” নিষাদ রাগী গলায় বলল।
“মামা,টানবার চেষ্টা তো করতাছি।”রিক্সাওলা কাপাকাপা গলায় বলল।
ঢাল পেরুলো অনেক কষ্টে। হলের দিকে মোড় ঘুরার সাথে রিক্সার চেইন গেলো পড়ে। মেজাজ কন্ট্রোল করতে পারলো না রাসেল একটা গালি দিয়ে বসলো। “চালাতে পারস না আইচোস কেন রাস্তায়।” নিষাদ দুই একটা গালিও ছেড়ে দিলো।
রিক্সাওলা কোন কথায় বলল না।

চেইন ঠিক করে হলের দিকে এগুতে থাকলো রিক্সা। হলের গেইট এর কাছে আসতেই চেইন এবার গেলো কেটে। হল বেশী দূরে ছিল না। হেটে যেতে কোন সমস্যা নেই। কারোরই তবু নিষাদ থামতে পারলো না। কষে একটা চড় দিলো রিক্সাওলার মুখে। টেনে মাফলার আর চাদর খুলে ফেলল।

রিক্সাওলার দিকে তাকাতেই হাত থেকে ক্রেস্টটি পড়ে গেলো রাসেলের। ভাঙ্গা কাঁচ টুকরা গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো নিষাদ। প্রচণ্ড শব্দের পরো রাসেল ক্রেস্টটির দিকে তাকাল না। চোখ হতে ধীরে ধীরে অশ্রু বেরুতে লাগলো ।নিজের লেখার সাথে নিজেকে মিলাতে লাগলো রাসেল । যেরকম একটা ক্লিষ্ট কিশোর কল্পনা করে লেখার জন্য তাঁর আজকের এতো অর্জন সেই কিশোরই মনে হোল রিক্সাওলা। নিজের ব্যবহারে নিজেকে একটা ঘৃণার পাত্র মনে হচ্ছে তার। সন্ধ্যার ছায়া নেমে গেছে ক্যাম্পাস এ। অতিথি পাখি গুলো হলের পাশের বৃদ্ধ মেহগনি গাছে এসে ভিড় করতে শুরু করেছে। নিষাদ ভাড়াটা মিটিয়ে রাসেলকে নিয়ে হলের ভিতরদিকে যেতে চাইলো। রিক্সাওলা কিশোর একবার রাসেল এর দিকে তাকায় একবার ভাঙ্গা ক্রেস্ট এর দিকে তাকায়। সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। আবেগ অনেক সময় মানুষের কাছে ধরা দেয় না।

৮।
নিষাদ নিজের রুমে চলে গেলো । রুমে গিয়ে বেশীক্ষণ অপেক্ষায় করলো না রাসেল। কয়েকশো টাকা মানি ব্যাগ এ পুরে নিলো। সাথে পুরষ্কার এর সব টাকা রাখল। বের হয়ে গেলো রুম থেকে সাদা চাদর আর সাদা কালো মিশ্রণের একটা মাফলার নিয়ে।
কুয়াশা খুব পড়তে শুরু করেছে। বেশী দূর দেখা যায় না। ঠাণ্ডাও খুব বেশী না হলেও কম না। রাস্তার দুই পাশের গাছের পাতা থেকে টপ টপ করে কুয়াশার পানি পড়ছে রাস্তার। তবু হাটতে হাটতে সেই প্রভাত হোটেলে আসলো।
আবার রাসেল কে দেখে হোটেলের মালিক উঠে দাড়ালো। কেন দাড়ালো হয়তো সেও জানেনা।মানুষ মাঝে মাঝে এমন কিছু করে যা কেন করে সে নিজেও জানেনা।
“ভাই,এই নেন আপনার বার টাকা। আর আপনার ওয়েটার কৈ ? ” রাসেল বলল।
টাকাটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে মালিক তাকায় রইলো। স্বাভাবিক কিছুও মানুষকে অবাক করে দেয় মাঝে মাঝে।
ওয়েটার আরালে দাড়িয়ে ছিল। ভয়ে ভয়ে সামনে আসলো।
“তোর নাম কি ? তোর বাসা কৈ রে ?”রাসেল জিজ্ঞেস করলো।
“আমার নাম রাকিব। গেরুয়া থাকি।” ওয়েটার বলল ।
“চল তোদের বাসায় যাব।” রাসেল বলল।
মালিক এর কাছ থেকে রাকিব এর ছুটি নিয়ে রাসেল বের হোল হোটেল থেকে। রাকিব এর সাথে গেরুয়া যাওয়ার পথে ওর জীবন কথা শুনল রাসেল। পৃথিবীতে এরকম সব রাকিব-রিফাত এর জীবন কাহিনী একই মনে হল। যেন কষ্টের ফটো কপি।
গেরুয়া বাজারে দেখা হোল ঐ রিক্সাওলার। রিক্সাওলার সাথে কথা বলে নিলো । রিক্সাওলার নাম আশিক। বয়স বার। বাবা অসুস্থ তাই সে এখন ধরেছে রিক্সার হাল। তিনজন গেলো রিফাতদের বাড়ি। ডেকে তুলল বাড়ির সবাইকে। গরিবেরা সন্ধ্যার সাথে সাথে ঘুমায় যাতে কেরোসিন খরচ বাঁচে।
রাসেল রিফাত এর বাবাকে ডেকে বাজার করতে পাঠাল। হাতে ধরিয়ে দিলো বাজার করার মত কয়েকশো টাকা। আর ফোন করলো নিষাদ আর মজিদ ভাইকে রিফাতদের বাড়ির ঠিকানা দিয়ে ওখানে আসবার জন্য।
সবাই মিলে আড্ডা হবে। যে আড্ডা কেও কোনদিন দেয় নি। বাজার চলে আসলো। রিফাত এর মা রান্না শুরু করলেন। গোল হয়ে বসলো সবাই ছোট্ট একটা আগুনের ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে। রাসেল রিফাত,রাকিব আর আশিকের হাতে তুলে দিলো পঁচিশ হাজার টাকা করে মোট পঁচাত্তর হাজার টাকা। যাদেরকে ঘিরে লিখে রাসেল এতো টাকা পেলো তাদের জীবনে যদি টাকা গুলো কোন কাজে আসে তাই ই হবে রাসেলের সার্থকতা। ওরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না।
ইতোমধ্যে এসে নিষাদ আর মজিদ ভাই উঠানের কিনারায় দাড়িয়ে সব দেখছিলেন।
রাসেল দেখে ফেললে উনারাও এসে বসলেন শীত নিবারণ এর আগুন এর পাশে। কিন্তু তা যেন শীত নিবারণ না ক্যাম্পফায়ার এর মত আনন্দঘন পরিবেশ করেছে। রান্নাঘর হতে ছুটে আসছে মাংসের ঘ্রাণ। কতদিন যে এই বাড়ি হতে মাংসের ঘ্রাণ বের হয় নি তা শুধু রিফাতরা জানে। কুয়াশায় চাঁদের আলো আসছে না রিফাতদের উঠানে। তবু খড় আর পাতার আগুনে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু চিকচিক করে।

৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**অপূরণীয় যোগাযোগ*

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ২৮ শে মে, ২০২৪ ভোর ৫:১৯

তাদের সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল ৬ বছর আগে, হঠাৎ করেই। প্রথমে ছিল শুধু বন্ধুত্ব, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা গভীর হয়ে উঠেছিল। সে ডিভোর্সি ছিল, এবং তার জীবনের অনেক কষ্ট ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজার যুদ্ধ কতদিন চলবে?

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৮ শে মে, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার আগে মহাবিপদে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু৷ এক বছর ধরে ইসরায়েলিরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন৷ আন্দোলনে তার সরকারের অবস্থা টালমাটাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অজ্ঞ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৮ শে মে, ২০২৪ সকাল ১১:৫২


ভাবতে পারো
৮০ টুকরো হতে হয়;
ভাবতে পারো
জ্বলে পুড়ে মরতে হয়!
ভাবতে পারো
কতটুকু লোভ লালসা
থাকলে পরে
এমন হবে বলো দেখি;
ভাবতে পারো
কেমন জন্ম মৃত্যুর খেলা;
জানি আমি
তুমি কিছু ভাবতে পারবে না
কারণ তুমি অজ্ঞ
মৃত্যুর পরে একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্যামুয়েল ব্যাকেট এর ‘এন্ডগেম’ | Endgame By Samuel Beckett নিয়ে বাংলা ভাষায় আলোচনা

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৮ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৮



এন্ডগেম/ইন্ডগেইম/এন্ডগেইম- যে নামেই ডাকা হোক না কেনও, মূলত একটাই নাটক স্যামুয়েল ব্যাকেটের Endgame. একদম আক্ষরিক অনুবাদ করলে বাংলা অর্থ হয়- শেষ খেলা। এটি একটা এক অঙ্কের নাটক; অর্থাৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় ১০ বছর পর হাতে নিলাম কলম

লিখেছেন হিমচরি, ২৮ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১

জুলাই ২০১৪ সালে লাস্ট ব্লগ লিখেছিলাম!
প্রায় ১০ বছর পর আজ আপনাদের মাঝে আবার যোগ দিলাম। খুব মিস করেছি, এই সামুকে!! ইতিমধ্যে অনেক চড়াই উৎরায় পার হয়েছে! আশা করি, সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×