আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আজ ভোট, ইসির আস্থা অর্জনের পরীক্ষা

রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে আজ ভোট। ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চার সিটিতে ১২ লাখের বেশি ভোটার তাঁদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে।
নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য আজ চার সিটির নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে।


বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট শুরু থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আসছিল। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই নির্বাচন বর্তমান কমিশনের জন্য আস্থা অর্জনের পরীক্ষা। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সাধারণ মানুষের কাছে কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং বিষয়টি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশনকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
ইতিমধ্যে বিএনপি দলীয়ভাবে চার সিটিতে সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তারা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরাও একই রকম অভিযোগ তুলে বলেছেন, প্রশাসন সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তারা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু আছে, সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।
নির্বাচন উপলক্ষে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের গতকালের ও আজকের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার সচিব মোহাম্মদ সাদিকসহ অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা অফিস করেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চার কমিশনারের কেউই অফিস করেননি। এ নিয়ে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কমিশন সচিবালয় জানায়, সিইসিসহ চার কমিশনার আজ কমিশনে বসেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দাপ্তরিকভাবে কমিশনার আবদুল মোবারক খুলনা, আবু হাফিজ রাজশাহী, জাবেদ আলী বরিশাল এবং মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সিলেট সিটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সচিব মোহাম্মদ সাদিক গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আশা করা যায়, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন।

শেষ মুহূর্তে প্রার্থী-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সম্পর্কে সচিব বলেন, এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। সরাসরি কমিশনে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়াটা সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়।
চার সিটি মিলিয়ে ৬৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪২২টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি এসব কেন্দ্রে সীমিত আকারে ওয়েবক্যাম বসানো হয়েছে।


কমিশনের প্রস্তুতি: কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, চার সিটিতে ভোট গ্রহণের জন্য এবার ১২ হাজার ৮০ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৫৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, তিন হাজার ৮০৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং সাত হাজার ৬১৮ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা (পোলিং অফিসার)।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ এবং আনসার ভিডিপি মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ২৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই চার সিটিতে ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) ও স্ট্রাইকিং (অপেক্ষমাণ) ফোর্স হিসেবে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‌্যাব, কোস্টগার্ড, ব্যাটালিয়ন আনসার ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে চার সিটিতে ১১৮টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া চার সিটিতে ২১ প্লাটুন বিজিবি এবং আলাদাভাবে খুলনা ও বরিশালে পাঁচ প্লাটুন কোস্টগার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। আজ ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরও আরও দুই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবে। নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে মোট ৯১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি সিটিতে পাঁচজন করে বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষকও মাঠে থাকবে বলে কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে।
কমিশন সচিবালয় জানায়, প্রতি সিটির একটি করে ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটাররা মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমে তাঁদের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের নাম জানতে পারবেন।
রাজশাহী: রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ৮৬ হাজার ৯১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫ জন এবং নারী এক লাখ ৪৩ হাজার ৫২২ জন।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত এ এইচ এম খায়রুজ্জামান তালা প্রতীক নিয়ে, বিএনপি-সমর্থিত মো. মোসাদ্দেক হোসেন আনারস এবং মো. হাবিবুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে। সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ৬৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ১৫৫।
খুলনা: খুলনা সিটির ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার চার লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২৪ হাজার ৫০৪ এবং নারী দুই লাখ ১৬ হাজার ৬২ জন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত তালুকদার আবদুল খালেক তালা প্রতীক নিয়ে, বিএনপি-সমর্থিত মো. মনিরুজ্জামান আনারস এবং দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. শফিকুল ইসলাম।

১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ৪৫ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ১৩৭ জন।
বরিশাল: এই সিটির ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার দুই লাখ ১১ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ সাত হাজার ৬২৫ এবং নারী এক লাখ তিন হাজার ৬৩২ জন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শওকত হোসেন টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে, বিএনপি-সমর্থিত আহসান হাবিব আনারস প্রতীক নিয়ে এবং দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে মাহমুদুল হক খান। সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ৪৫ এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ১১৬ জন।


সিলেট: এই সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ এবং নারী এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫ জন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বদরউদ্দিন আহমদ কামরান আনারস প্রতীক নিয়ে, ১৮ দল-সমর্থিত আরিফুল হক চৌধুরী টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে এবং তালা প্রতীক নিয়ে ছালাহ উদ্দিন। সংরক্ষিত নয়টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ১৩৯ জন। ।

সোর্স: http://www.prothom-alo.com     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।