ভাল কিছু লিখার প্রত্যাশায় লিখি.. চারিদিক ঝলমল করছে লাল নীল বাতির আলোয়। সবকিছূ সাজানো পরিপাটি। সবার কোলাহলে পরিপুর্ণ এক পরিবেশ। আমি আর নুপুর বসে আছি পাশাপাশি। নববধু হিসেবে নুপুর কে আজ অন্য রকম লাগছে ।
লজ্জায় যেন আমার মুখের দিকে তাকাতে পারছে না ও। আমি ও যে লজ্জা পাচ্ছি না তা নয়। কিন্তু নতুন বর বলে কথা। আমার লজ্জা পেলে চলবে কেমনে ?
যাই হোক ছোট খাট একটা মেয়ে নুপুর। কেবল এইচ,এস,সি তে পড়ছে ও।
শাড়ি পড়া আবস্থায় তাকে কখনো দেখি নি। আজ আমার বউ হিসাবে প্রথম তাকে শাড়ি পড়া আবস্থায় দেখছি। ছোট খাট একটা মেয়ে শাড়ি পড়ে আছে এ যেন দুনিয়ার কোন মানুষ নয় সয়ং আসমান থেকে নেমে আসা কোন পরী। যার সৌন্দর্য আমায় মুগ্ধ করেছে। যার সুন্দরের বর্ণনা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
আমার সাড়া হৃদয়ে তার জন্য ভালবাসার কম্পন চলছে। আমার মন অস্থির হয়ে উঠেছে তাকে ভালবাসার স্পর্শে জড়িয়ে নিতে।
লজ্জা যেন আমার হাত পা কে বেধে রেখেছে। আর নুপুর, সে তো এখনো আমাকে স্যার, স্যার করেই ডাকছে । আমি অবশ্য বারণ করে দিয়েছি স্যার না ডাকার জন্য।
সে ও যে আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে তার চোখে মুখে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । তার সুন্দর দুটি চোখের অপলক দৃষ্টি আমাকে ঘায়েল করছে বার বার। অথচ এত দিন কেন আমি বুঝতে পাড়ি নি ? এ যেন আমার জীবনের চরম ব্যর্থতা গুলোর একটি। কষ্টের গ্লানি পেরিয়ে আজ যেন সুখের ছোয়ায় আমি ভাসছি।
কিন্তু সে সুখের ছোয়ায় আর ভাসা হয়নি সেদিন আমার।
থেমে গেছে সবকিছু। তার আগেই যে সব কিছু উলট পালট হয়ে গেছে। প্রাকৃতির ডাকে সুন্দর একটি স্বপ্নের করুণ মৃত্যুই হয়েছিল সেদিন। হ্যাঁ পাঠক এতক্ষণ একটি স্বপ্নের কথাই আপনাদের বলছিলাম।
অত্ত:পর যখন নুপুরকে পড়াতে তাদের বাড়িতে গেলাম বুঝতে পারলাম তার জন্য আমার হৃদয়ে নতুন একটা জায়গা তৈরী হয়েছে।
তাকে আমি পড়াতে পাড়ছি না । সবকিছু যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে। নুপুর এর প্রতি প্রচন্ড আকষর্ণ বোধ করছি। ভয়ে তার দিকে তাকাচ্ছি না পর্যন্ত।
আমি দীর্ঘ চার বছর পড়াচ্ছি নুপুরকে।
কোনদিন ছাত্রী ছাড়া অন্যকিছু ভাবি নি। সেই আমাকেই একটা স্বপ্ন নুপুরের প্রতি দূর্বল করে দিল?
তাই মনকে শত কষ্টে বুঝিয়ে টিউশনি টা কোন কারণ ছাড়াই ছেড়ে দিলাম। নুপুরের পরিবার আমাকে রাখার জন্য সবোর্চ্চ চেষ্টা করেছে। এই কদরের কারণটা আমি জানি, আমার পড়ানোর এ সময়টাই এস. এস. সি তে নুপুর গোলডেন এ+ পায়েছিল। তাছাড়া নুপুর সুন্দরী হওয়ায় কোন শিক্ষককেই নুপুরের বাবা বেশী দিন রাখেন নি।
আমিই দীর্ঘ চার বছর পড়িয়েছি।
যাই হোক কেউ না জানলেও আমি জানি আমার টিউশনি ছাড়ার কারণ কি ? তাই তো নুপুর এর অভিবাবকদের কাছে একটা অব্যক্ত অনুরোধ, "আমায় ক্ষমা করুণ"। আমার উপর আপনাদের আস্থা রক্ষা করার জন্য এ রাস্তাটাই আমার খোলা ছিল.....নুপুর ও হয়তো ভেবে কোন কারণ বের করতে পারবে না। না হয় কারণ টা নুপুরের আজানাই থাকল........
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।