আমাকে খুঁজে নাও, অথবা একা থাকো গত বইমেলায় প্রায় প্রতিদিন বইয়ের ঘ্রাণ নেওয়ার লোভে ছুটে যেতাম। সেখানে লেখকদের চেহারা একটু আধটু দেখে ফেলতে পারলেই মনে মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করতাম। পকেটের তখন ভীষণ দূরাবস্থা। খালি পকেটে বইমালায় যাই আর চা-সিগারেট খেয়ে পকেটের খালিত্বকে আরো মহান করে তুলি। সেদিন কি মনে করে বাংলা একাডেমীর স্টলে ঢুকে গেলাম।
গিয়ে দেখি ৫০% ডিসকাউন্টে বই বিক্রি হচ্ছে। সাহস করে কিছু বই কিনে ফেললাম। কিনে ফেলা বইগুলোর মধ্যে একটা বই হল- বৈঠকী ছড়া। লেখক- এখলাস উদ্দিন আহমদ। দাম- আটটাকা (চারটাকায় কিনেছি, ৫০% ডিসকাউন্ট ছিল বলে)
বাসায় এনে বইগুলো আর সময়ের অভাবে পড়া হয়ে উঠেনা।
চাকরির জগত থেকে ছুটি পাইনা। যতটুকু পাই ক্লান্তিতে ঢলে পড়ি। গতকাল একপ্রকার রাগ করেই পড়ে ফেলি বইটি। মজা পেয়ে গেলাম। ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
১৯৭৫ এর আগস্টে প্রকাশিত এই বইটির পুরোটাই দারুন সব বৈঠকী ছড়া দিয়ে ভর্তি।
বাজারদরের সাথে কর্তা-গিন্নীর অভিযোগময় জীবনের উত্তাপের পারদ যে উঠানামা করে তা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা না। শুরুতেই আছে এমন একটি ছড়া-
"হাট বাজারে জ্বলছে আগুন ঘরের উনোন নিভন্ত,
গিন্নি চেঁচানঃ তোমার হাতেই কয়লা সোনার জীবন'ত।
কর্তা ভাবেনঃ হায়রে! বলদ-
থেকেই গেলাম, কিন্তু গলদ-
কোথায় যে ছাই, পাইনা হদিস। দোগধে মরি জীবন্ত।
। "
সামনে ঈদ। আর ঈদের সময় সকল কর্তার ভাবনা ফুটে উঠেছে এই ছড়ায়-
"ঈদ পেরোতেই ট্যাঁকটি গায়েব হেঁসেলে চাল বাড়ন্ত,
মাস-মধ্যেই দেনার দায়ে নাক বরাবর গাড়ন্ত।
বৌয়ের জুতো, কিনতে শাড়ী-
খিঁচ ধরেছে হাত পা মাড়ি-
দোর পাহারায় পাওনাদারে, গিন্নি হাঁকান বাড়ন তো। ।
"
এসবের সাথে সাথে মজার সব ছড়া আর ছবি দিয়ে ভর্তি বইটা। শিল্পী আবুল মনসুর এর আঁকা ছবিগুলোর সাথে ছড়াগুলো মিলে দারুন জমে গেছে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।