প্রকীর্ণ করি অর্ণে আলোক বিসর্গী বীথিকায় বছর দুয়েক পূর্বে স্কুলজীবনের বন্ধুরা মিলে গিয়েছিলাম নেত্রকোনার বিরিশিরি। যাত্রা শুরু করেছিলাম যখন, ভোরের আলো ফুটেছে কি ফোটেনি। সোমেশ্বরী নদীর তীরে আমাদের টুয়েলভ সিটার এসে থামল যখন, তখন ঘোর দুপুর। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। মনে হল, চাঁদের ঈশ্বরীর গায়ে বুঝি আগুন ধরে গেছে।
তীরে সারি সারি সুদৃশ্য নৌকো আর পায়ের নীচে সহস্র বছরের পুরনো মাটি, সোনারঙ বালুকা। এই বালুবেলার কোথাও বুঝি পড়ে ছিল এক পেট্রিফায়েড নারকেল গাছ, যার কথা পড়েছিলাম বইয়ে। শেষতক আর খুঁজে পাইনি। যাহোক। এসব দেখে ফিরে এসে নদীটাকে নিয়ে যে অর্বাচীন কবিতাটি লিখে ফেলেছিলাম, তা বিনয়ের সঙ্গে উপস্থাপন করছি।
চাঁদের রাণীর সনে সেই হল দেখা
যখন বিভার সুর মাঝ নভে একা
দেখিয়া শুধাই, ওগো ইন্দু-বিজনে
একি সৃজিয়াছো তুমি নিপুণ অননে!
দুই কূলে সুপ্রাচীন অটবী কানন
শ্যামল শাখীরে ডাকি করিছে ধারণ
বালু তটরেখা গেছে কনকের বেশে
আবছায়া পাহাড়ের মেঘালয় দেশে।
চড়ায় দাঁড়িয়ে সারি জলের কৃত্ত
ঊর্মি ভাঙিছে তায় পয়ার নৃত্য
অর্ণঃ ঝলকে চাহে রবির কিরণে
অচল সারির ঘেরা এই তপোবনে।
চন্দ্র-নিধিকা নদী সোমের ঈশ্বরী
অমরা বিভায় তব ঐ বিভাবরী
চাঁদের মকুর-পট করিল সৃজন
পাথুরে মৃতির তরে পশিল নৃ-জন।
শ্রেয়া এ ঈশার সনে ফের হবে দেখা
দ্বিজরাজ বিধু যবে মাঝ নভে একা
ফিরিয়া কইনু তায় ইন্দু সুজনে,
আসিব অতনু হয়ে রাখিয়ো গো মনে।
যারা এখনও বিরিশিরি যাননি, সোমেশ্বরীকে দেখেননি, তাদেরকে বলে বোঝানো যাবে না এর কাব্যের অতীত সৌন্দর্য।
বাড়িয়ে বলছিনা একটুও। নিচে দুটো ছবি দেয়া হল। ফটো ক্রেডিট- বন্ধু শোয়াইব মাহমুদ।
*
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।