ভার্সিটি পড়ার মানে হল চেতনা লোপ করে ঝিম মেরে পড়ে থাকা। অবশ্য আমাদের দেশে সবক্ষেত্রেই এই অবস্থা। চেতনা জাগ্রত হলে মহা সমস্যা হয়ে যায়। চেতনাহীনরা তখন মহাসমারোহে অন্যদের চেতনা হরণকরার জন্য উঠে পড়ে লাগে। আর এদেরকে সাপোর্ট দেয় ক্ষমতাবান এবং ক্ষমতা-লোভী কিন্তু বিবেকহীনরা।
অবশ্য এদের চেতনা থাকে।
ছোটবেলায় সহপাঠ বইয়ের একটি গল্পের কথা মনে পড়ে। কোন এক গরীব বোকা লোক একবার এক বড় হেকিমের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। তখন হেকিম তার এক ছাত্রকে পড়াচ্ছিল এবং বকছিল। গরীব লোকটি যাওয়ার সময় হঠাৎ শুনতে পায় হেকিম ছাত্রটিকে বলছে, কত গাধা পিটিয়ে মানুষ করালাম, আর তোকে পারবো না।
এটি শুনে গরীব লোকটি ভাবে তারও তো একটি গাধা আছে। যদি হেকিমের কাছে দিয়ে কিছু টাকা পয়সা খরচ করে গাধাটিকে মানুষ করা যায় তাহলে অনেক ভালো হবে।
যাই হোক পরে অনেক কাহিনী আছে। লোকটি তার গাধাকে দিয়ে যায় আর হেকিমও টাকার লোভে গাধাকে রাখে। যদিও শেষতক প্রতারণাই করে।
গল্পটির কথা মনে পড়লো এইজন্য যে, গরীব লোকটি-তো তার গাধাকে হেকিম বানানোর জন্য চেষ্টায় ছিল। আর আমাদের বড় বড় শিক্ষাপিঠগুলোতে ভালো ভালো শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়। কিন্তু যত দিন যেতে থাকে আস্তে আস্তে শিক্ষার্থীরা এক একজন ভারবাহী গাধায় পরিণত হয়। কোন চেতনা থাকেনা। সার্টিফিকেট একটা ভালো জিপিএ, ভালো চাকুরী এগুলোর কথা ভাবতে ভাবতে একসময় নিজের মানবীয় গুণাবলী বিসর্জন দিয়ে গাধাতুর গুণাবলী গ্রহণ করতে থাকে।
সবার জন্য হয়তো এটি পযোজ্য নয়। অনেক ভালো ছাত্র আছে যারা আমাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। কিন্তু আফসোস আমাদের সমস্যা সমাধানে তাদের বেশিরভাগই আগ্রহী নয়।
এত কথা বলে কাজ নেই। আমার কথা বলি।
আমি নিজেকে দেখলে এখন বুঝতে পারি ভার্সিটিতে পড়ায় আমি মোটামুটি সফল। ভার্সিটিতে আসার আগে ভার্সিটির উদ্দেশ্য এক মনে হত। কিন্তু এখন বুঝতে পারি আমি ভুল ভাবতাম। ভার্সিটিতে পড়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য আসলে অন্য। তা হল ভার্সিটিতে আপনি শিখবেন কিভাবে নানান পারিপার্শ্বিকতায় নিজের স্বার্থ দেখতে হয়, ভার্সিটিতে আপনি জানবেন কিভাবে অন্যায় দেখলে পাশ কেটে আশা যায়, এখানে আপনি শিখবেন কিভাবে মুখ-বুজে আত্মতৃপ্তি নিয়ে ঘুমানো যায়।
ভার্সিটির উদ্দেশ্য আসলেই মহৎ। আপনাকে পুরোপুরি গাধায় পরিণত করতে ভার্সিটির ভূমিকা অনন্য।
আমি এখন গর্বিত, আত্মতৃপ্ত। আমি এখন নিজেকে ভারবাহী গাধা বলে দাবি করতে পারি। এই লিখাটা লিখেই সম্পূর্ণ গাধা হয়ে যাবো।
মুখ বুজে ঝিম মেরে থাকবো সবসময়। আশে পাশে যাই হোক তাতে কিছু যায় আসেনা। আর ১.৫ বছরের মত থাকবো। এরপর একজন পরিপূর্ণ গাধা হিসেবে কোথাও আত্মপ্রকাশ করবো। আর যতদিন বাঁচি গাধা জীবন উপভোগ করবো।
জয়ন্তু!!! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।