" কেউ তোমার দিকে পাথর ছুড়ে মারলে , তুমি তার দিকে ফুল ছুড়ে মারো...তবে ফুলের সাথে সাথে ফুলের টবটাও ছুড়ে মারতে যেন ভুল না হয় "
ডাচ-বাংলা ব্যাংক। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংক। যাদের সারা দেশে ১১৮টি শাখা আছে। টাকা তোলার জন্য আছে ২০৭৯টি এটিএম বুথ, যার মধ্যে ১০৩০টি ঢাকাতেই। তাদের মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন সহ নানা ধরনের সেবা চালু আছে।
তারা বাংলাদেশের সর্বোচ CORPORATE DONER. তারা প্রতি বছর ১০২ কোটি টাকা অর্থ শিক্ষাবৃত্তি হিসাবে দেয়।
যাই হোক আমার লেখার বিষয় তাদের কি আছে বা তারা কি কি কাজ করে তা নয়। আমার লেখার বিষয় হচ্ছে তারা যে প্রতারণা করছে তা নিয়ে। ফেসবুক এবং ব্লগ দুনিয়ায় এই নিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তাই, আপনাদের জন্য সব কিছু একসাথে নিয়ে এসেছি।
আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার DBBL এর গ্রাহক। এর মাঝে অনেক গ্রাহক বিভন্ন রকমের প্রতারণা কিংবা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। এর কয়েকজন ব্লগ এবং ফেসবুক এ তাদের করুণ কষ্টের কথাগুলো শেয়ার করেছেন আপনাদের সাথে। আরও অনেক ঘটনা আছে যা আমাদের অজান্তে ঘটে যাচ্ছে। তাই আমি চেষ্টা করেছি, ওই সব ভুক্তভুগিদের কথা আপনাদের কানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
আমি আশা করছি আমার এই উপস্থাপনা আপনাদের ভালো লাগবে এবং এই হয়রানির কথাগুলো আপনারা আপনাদের আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করবেন। এবং তাদেরকে সদা সতর্ক থাকতে বলবেন।
কারন মনে রাখবেনঃ " Prevention is better than cure "
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
১. ব্লগার তালুকদার জাহিদঃ ডাচ-বাংলা ব্যাংক এর গ্রাহকদের গলাকাটা সিদ্ধান্ত এবং কিছু কথা..................
" যাদের ডাচ-বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে তারা এর জ্বালা-যন্ত্রনা সম্পর্কে কম-বেশি অবগত আছেন। কারণে-অকারণে কার্ড আটকে যাওয়া, ১০০ টাকার নোট এটিএম এ না পাওয়া, সর্বোপরি বার্ষিক ৬০০-৮০০ টাকা ফি কেটে নেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। এ স্বত্বেও আমরা সাথে আছি এর সহজ ট্রানজাকসন এবং এটিএম বুথের সহজলভ্যতার জন্য।
বৃহত্তর সুবিধার স্বার্থে আমরা এই অসুবিধাগুলো প্রায়ই মানিয়ে নিয়েছি।
যাহোক গত পরশু টিএসসি তে টাকা তুলতে গিয়ে প্রথমেই মনিটরে টাকা-পয়সা নিয়ে কিছু একটা দেখলাম। প্রথমে তেমন কিছু মনে করি নাই। কিন্তু টাকা উঠানো শেষে আবার চোখ পরতেই মাথা গরম......
সেখানে লেখা—আগামী ১ জুলাই হতে যাদের সঞ্চয়ি হিসাব তাদের অ্যাকাউন্টে সবসময় ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা এবং চলতি হিসাবধারীদের ২০০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০০ টাকা সবসময় জমা থাকতে হবে। মানে এই ২০০০ বা ৫০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ফিক্সড জমা রেখে তারপরের উপরিভাগ লেনদেন করা যাবে।
উল্লেখ্য যে আগে সঞ্চয়ি হিসাবের জন্য ৫০০ টাকা এবং চলতি হিসাবের জন্য ২০০০ টাকা ফিক্সড রাখতে হত।
এখন কথায় আসি, টাকা কি এতই সহজ যে চাইলেই পাইলাম আর ইচ্ছামত জমা রাখলাম? আর আমরা যারা ছাত্র-ছাত্রী তাদের অবস্থা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। আমার মতো ছাত্র-ছাত্রী যারা দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকা শহরে শুধুমাত্র পড়ালেখার জন্য এসেছেন তাদের কাছে দু’হাজার টাকা তো পাহাড় সমান। আর আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি এবং হলে বা মেসে থাকি তাদের বেশিরভাগের পুরো মাসের খরচই প্রায় ২০০০ টাকা!! এখন ২০০০ টাকা যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই রেখে দেয় তাহলে আমরা তুলবো কী আর খাবোই বা কী এবং মাসই বা চলবে কী করে?? অনেকে হয়তো না জেনে নিশ্চিতভাবেই এ ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি হবে। আর বাড়ি থেকে এই বাড়তি টাকাটা চাইবোই বা কী করে? কম বেতনের চাকুরিজীবীদেরও একই অবস্থা।
এখন আমরা দেখি যে কী জন্য আমরা (ছাত্র-ছাত্রীরা) বাড়ি থেকে পাঠানো ২০০০/৩০০০ টাকা ব্যাংকে রাখি? এই জন্য রাখি যে হলের বা মেসের রুম থেকে টাকা চুরি হয়ে যাবে (এরকম ভুরি ভুরি ঘটছে) এবং পকেটে থাকলে ছিনতাই বা পকেটমারিং হবে এই ভয়ে। আরও একটা কারণ এই ব্যাংকে টাকা রাখার যে সহজেই যখন-তখন ২০০-৫০০ টাকা এটিএম থেকে আমরা উঠাতে পারি।
আমি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা বলতে পারি না কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়েন তারা নিশ্চই দেখেছেন যে কিভাবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক গ্রাহক (ছাত্র-ছাত্রী) ভিক্ষা করেছে। কার্জন হল, টিএসসি, ডাস চত্তর, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, কলা ভবন এমনকি ঢাবির প্রত্যেকটি হলে গিয়ে গিয়ে ভিক্ষুকের মতো ডেকে ডেকে ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাকাউন্ট ওপেন করিয়েছে একমাত্র ৫০০ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা রাখা এবং এটিএম ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার কথা বলে। তাতে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছে।
ডেকে ডেকে আদর করে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে এখন তাদের টুটি চেপে ধরেছে। এখন এই ছেলেমেয়ে গুলো কী করবে?
ব্যাপারটি নিয়ে গত পরশু ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম সেখানে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সবাইকে অনুরোধ করেছিলাম যার যার ব্রাঞ্চ এ গিয়ে কতৃপক্ষকে অভিযোগ জানাতে। আমি গতকাল গিয়েছিলাম মতিঝিল ফরেন এক্সচেইঞ্জ ব্রাঞ্চে। কথা বললাম এক কর্মকর্তার সাথে, তিনি বললেন এই সিদ্ধান্ত সবার জন্য করা হয়েছে।
অনেকেই ক্ষেপে গেছেন এবং অভিযোগ করছেন। আমরা ম্যানেজমেন্টকে বলেছি কিছু হয়নি। এখন আপনারা গ্রাহকরা সবাই মিলে একটা পদক্ষেপ নিলে হয়তো কিছু ফল পেতে পারেন।
আমি বুঝতে পারছি না ব্যাংক এত টাকা জমা রেখে কী করবে? তাহলেও ছাত্রছাত্রী হিসাবধারীদের কথাটা কী একবারও ভাবা উচিত ছিল না? ভাববেই বা কী করে? এরা যে কর্পোরেট ব্যবসায়ী মুনাফা বা প্রফিটই তাদের কাছে সব কিছু। যাহোক, তারপরেও সবাই একটু চেষ্টা করুন প্রতিবাদ জানাতে তাতে যদি কিছু হয়!!! না হলে আর কী, শেষ অস্র তো আছেই... গনহারে ক্লোজ।
"
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
২. ব্লগার মিসটিক ফিউচারঃ আসুন ডাচ বাংলা ব্যাংকের পশ্চাদ্দেশে লাথি মারি
" বহু শখ করে ডাচ বাংলা ব্যাঙ্কে একাউন্ট করেছিলাম। এই মাসে একাউন্ট বন্ধ করে দিবো।
কারনগুলো হচ্ছে:::
১. ১০০টাকার নোট আর পাই না। মাঝে মাঝে ৫০০টাকার নোটও পাওয়া যায় না।
২. শত শত বুথ থাকতে পারে সারাদেশে।
কিন্তু কাজের সময় এর ৯০% গুলোতেই হয় টাকা থাকে না নাহয় নেটওয়ার্ক প্রবলেম থাকে
৩. কার্ড আটকিয়ে যাবার মত ঘটনা অনেক ঘটছে, যদিও আমি এখনও এর মুখোমুখি হই নি। ভাগ্য কিছুটা ভালো বলেই মনে হচ্ছে।
৪. টাকা না দিলেও ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে নেবার মত ঘটনা ঘটেছে, যা ফেরত পেতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে।
৫. বছরে ৬০০টাকা চার্জ কেটে নেবার কথায় আমি একাউন্ট খুলেছিলাম যা পরবর্তীতে কোনোরকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই দ্বিগুন করা হয়েছে
৬. সবকিছু মেনে নিয়েও এর সাথে ছিলাম। কিন্তু গত মাসখানেক যাবত ক্যাম্পাসে ক্যম্পাসে ঘুরে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে এরা শত শত স্টূডেন্টদের একাউন্ট খুলিয়েছে।
আর এখন তারা হঠাত করে মিনিমাম ব্যালেন্স ৫০০টাকা থেকে ৪গুন বৃদ্ধি করে ২০০০টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরপর এই জোচ্চোর ব্যাঙ্কের সাথে থেকে আর লাভ নেই। তাই একাউন্ট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। নাহলে জুলাই মাসে একাউন্ট বন্ধ করতে গেলে জমা ৫০০টাকা তো দিবেই না, উলটো আরও ৬০০টাকা পরবর্তী অর্ধ বছরের জন্যে চেয়ে বসতে পারে।
ছাত্র থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের জনসাধারনকে ১০০০ টাকায় একাউন্ট খোলা এবং ৫০০ টাকা একাউন্টে রাখা বাধ্যতামুলক নিয়মে গনহারে একাউন্ট খুলিয়ে এখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে এদের বিপদে ফেলে ব্যাংক তার রিজার্ভ বাড়িয়ে নিতে চাওয়ায় এমন উদ্দেশ্য কতটুকু যৌক্তিক!!!
এবার গনহারে সবাইকে একাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় তাহলে সকলে গনহারে এই ব্যাংক এর একাউন্ট ক্লোজ করে বুঝিয়ে দিন এটা ইংরেজ আমল নয়, যে বাঙলার মানুষের মাথায় যার যখন খুশি কাঁঠাল ভেঙ্গে খাবে।
তাই আসুন আমরা দলে দলে ডাচ বাংলা ব্যাঙ্কের একাউন্ট বন্ধ করে দেই।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মত এইগুলারে আবারও পশ্চাদ্দেশে লাথি দিয়া প্যাভিলিয়ানে ফেরত পাঠিয়ে দেই।
'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
৩. ব্লগার কর্নেল সামুরাইঃ DBBL কার্ড আছে? ধরা না খাইতে চাইলে জানুন....
" DBBL এর ATM অলিতে, গলিতে, মোড়ে সবখানে। সার্ভিস এলাকা ভেদে জঘন্য থেকে সহনীয় সবই আছে।
অবশ্য আমার এলাকায় ভালা সার্ভিস দেয় বলে বহুদিন থেকে ব্যবহার করি। বাট, গতবছর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কিছু চার্জ আপগ্রেড করেছে বলে সব খরচাপাতি বহুগুন বেড়েছে।
সংক্ষেপে DBBL এর সেভিংস একাউন্টের বর্তমান চার্জ জানাইতেছি। ধরা খাবার আগেই জানুন।
সেভিংস একাউন্ট মেইনটেনেন্স চার্জ (ছয় মাস পর পর কাটবে)
১. গড়ে ৪৯৯৯ টাকা বা এর কম ব্যালেন্স থাকলে এই চার্জ পুরাই মউকুফ!! ফ্রি খাইতে পারবেন বছরের পর বছর!
২. গড়ে 5000 থেকে 25,000 টাকা ব্যালেন্স থাকলে ৬ মাস পর পর ১০০ টাকা+১৫% ভ্যাট= ১১৫ টাকা কাটবে।
৩. গড়ে 25,000 এর উপ্রে ব্যালেন্স থাকলে ৬ মাস পর পর ৩০০ টাকা+১৫% ভ্যাট= ৩৪৫ টাকা কাটবে।
৪. ইন্টারনেট ব্যাংকিং ২০০ টাকা+১৫% ভ্যাট=২৩০ টাকা নেবে
৫. এসএমএস ব্যাংকিং এখনো ফ্রি।
এবার আসেন এটিএম কার্ডের ব্যাপারেঃ
১. Nexus Classic যেটিতে আগে বছরে ২০০ টাকা দিতে হত সেটি এখন বছরে ৪০০ টাকা কাটবে
২. Visa Electron কার্ড আগের মত ৫০০ টাকাই আছে (ভাবতেছি পুরান কার্ড ফেলায় Maestro নেব। ১০০ টাকার ডিফারেন্স দিয়া Classic কুন দুখে! VISA নিতে যায়েন না। আমার ভিসা ২ মাসেই নষ্ট হয়া গেছে।
খুবই বাজে কোয়ালিটির কার্ড)
৩. Maestro মেস্ট্রো কার্ড আগের মত ৫০০ টাকাই আছে।
[
(সাথে ১৫% ভ্যাট তো আছেই। )
এর সাথেঃ
Excise Duty নামের সরকারী ট্যাক্স তো নিয়মিত কাটা হবেই!
DBBL এর Visa বা Maestro কার্ড ব্যবহারকারীরা জেনে রাখুনঃ
১. DBBL এর বুথ থেকে টাকা তোলা আপনার জন্য ফ্রি বাট..
২. DBBL এর সাথে চুক্তি আছে এমন বুথ থেকে টাকা তুললে প্রতি ট্রানজিশনে ১০টাকা+ভ্যাট এবং
৩. বাংলাদেশের যেকোনো বুথ (Visa চিহ্নিত বা Maestro) থেকে টাকা তুললে 150 টাকা বা 2.50% (+ভ্যাট) যেইটা বেশি হয় কাইট্টা লইবো!
৪. বিদেশে গিয়া এইসব Visa বা Maestro কোনটাই ব্যবহার করতে পারবেন না। এগুলা শুধু লোকালি বাংলাদেশের জন্যই। বিদেশে টাকা তোলার জন্য অন্য কার্ড ইস্যু করতে হবে।
সুতরাং, সাধু সাবধান!!! "
'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
৩. টেক টিউনস ব্লগঃ এবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক পরিহার করার পালা ...
" ডাচ-বাংলা ব্যাংক বর্তমান সময়ে অনেকটাই জনপ্রিয় বিশেষ করে ছাত্রদের কাছে। কেননা মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে একাউন্ট খোলা এবং চালানো যায়। কিন্তু বর্তমানে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভবত ১লা জুলাই থেকে ৫০০ টাকার বদলে ২০০০ টাকা একাউন্ট এ থাকতে হবে। ATM কার্ড ব্যবহার করার মাধ্যমে যে কোন জায়গা থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব।
এবং জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু কয় জনের ক্ষমতা রয়েছে এই দুই হাজার টাকা ব্যাংক এ অলসভাবে ফেলে রাখার। আর এই টাকা জমা থাকলে তাদের ব্যাপক সুবিধা। যখন খুশি ইচ্ছে মত টাকা কেটে নেত্তয়া যায়। ৫০০ টাকার বদলে ২০০০ টাকায় এই সুবিধা বেড়ে যাবে আরো বেশি।
গণহারে রাস্তাঘাটে একাউন্ট খোলা হয়েছে। বুথে গেলে নেটত্তয়ার্ক সমস্যা কিংবা টাকা শেষ। আর ১০০ টাকার নোট সেটি অমাবস্যার চাদ। ৫০০ টাকা তুলে সেটি ব্যবহার করা অনেক ঝামেলার ব্যাপার। এদিকে তাদের কোন নজর নেই।
দেড় বছর আগে আমার নামের বানান ঠিক করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ব্যাংক এর কর্মীর ভুলের জন্য আজ আমাকে এর বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। আজ পর্যন্ত ভুল সংশোধন করা হয়নি। এখন আবার ৫০০ থেকে ২০০০, ৫০০০ টাকা নিয়ে কাহিনী শুরু হয়েছে।
অনলাইনে যারা কাজ করেন এই ব্যাংক এর মাধম্যে লেনদেন করেন বিদেশ থেকে।
তবে মাঝে মধ্যেই হুটহাট করে ডলার গায়েব হয়ে যাত্তয়ার ঘটনা ঘটে। অন্য ব্যাংকগুলো পিছিয়ে নেই। ফ্রিল্যান্সারদের কষ্টের টাকা চুষে চুষে খাচ্ছে।
ব্যাংক এ সুযোগ সুবিধার কারণে অনেকেই লেনদেন করার জন্য বেছে নেয় বেসরকারী ব্যাংকগুলো। সরকারী ব্যাংক এ একাউন্ট খোলায় ঝামেলা বেশি।
কিন্তু বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে সহজেই পারা যায়। জনপ্রিয়তা বেশি। আর এটিকে পুজি করেই এখন তাদের রক্ত চোষার পালা।
এবারে প্রতারণার সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে ফেললো ডাচ বাংলা ব্যাংক! এখন ভাবতে হবে, কারা বড় প্রতারক, ডেস্টিনি নাকি ডাচ বাংলা ব্যাংক। দিনের পর দিন ধরে গোপনে গোপনে এই ব্যাংকটি যে মানুষের জমানো অর্থ লুট করে নিচ্ছে, এবং তার কোন প্রমাণও থাকছে না, এর জবাব কে দেবে?
এই ব্যাংকের এটিমএম গুলোতে মাঝে মাঝেই কার্ড আটকে যায়, এবং কার্ড আটকে থাকার পরে বেশ কিছু লোকের হাজার হাজার টাকা চুরি যাবার মত ঘটোনাও ঘটেছে, এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষও এই নিয়ে কোন সমাধান দেয় নি।
গত কয়েকমাসে তারা বিভিন্ন বেসরকারী, সরকারী কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে রীতিমত ধর্ণা দিয়ে কয়েকলক্ষ মানুষকে তাদের ব্যাংকের গ্রাহক বানিয়েছে। কথা ছিল ব্যাংকে ৫০০ টাকা থাকলেই হবে। কিন্তু গত তিন চারমাসে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক বানিয়েই তারা এখন বেমালুম ভোল পালটে ফেলছে, তারা এখন বলছে একাউন্টে আগামী ১ জুলাই হতে যাদের সঞ্চয়ি হিসাব তাদের অ্যাকাউন্টে সবসময় ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা এবং চলতি হিসাবধারীদের ২০০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০০ টাকা সবসময় জমা থাকতে হবে। মানে এই ২০০০ বা ৫০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ফিক্সড জমা রেখে তারপরের উপরিভাগ লেনদেন করা যাবে। উল্লেখ্য যে আগে সঞ্চয়ি হিসাবের জন্য ৫০০ টাকা এবং চলতি হিসাবের জন্য ২০০০ টাকা ফিক্সড রাখতে হত।
"
'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
৪. ব্লগার প্রাগৈতিহাসিকঃ DBBL- এর অভিনব প্রতারণা।
" বাইরের দেশগুলোতে ব্যাংকগুলোর উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে কাষ্টমারদের আরো বেশী বেশী ভালো সার্ভিস দেয়া যায় যাতে তারা সহজে ট্রানজেকশন করতে পারে এবং ব্যাংকের আরো কাছে আসতে পারে ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোর সেবার নমুনা দেখলে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে তাদের উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে কাষ্টমারদের আরো বেশী বেশী কষ্ট দেয়া যায়।
এইবার আসেন আসল ঘটনায়।
ইদানিং DBBL তাদের কাষ্টমারদের সাথে অভিনব প্রতারনা শুরু করেছে।
২/৩ মাস আগে থেকেই ব্যালান্স জানতে এবং টাকা উঠানোর পর রশিদ নিলে ৩ টাকা করে কেটে রেখে দেয়। বর্তমানে তারা কাষ্টমারদের বিরক্তি উৎপাদনের জন্য আরো কিছু সুন্দর উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। DBBL- এর বুথে গেলে গার্ড আগেই বলে দেয় হয় মেশিন নষ্ট, নাহয় মেশিনে টাকা নাই, নতুবা টেকনিক্যাল প্রমলেম, মোট কথা বেশীরভাগ সময়ই বুথ সচল থাকে না। আর সর্বোপরি বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার ঝামেলা তো আছেই।
তেমনি গতকাল অফিস থেকে ফেরার পথে ভাবলাম, বিদ্যুৎ যেহেতু আছে যাই কিছু টাকা তুলে নিয়ে আসি।
আমাদের এলাকায় দুটি বুথ আছে। প্রথমে একটিতে গেলাম। বুথে ঢোকার আগেই গার্ড তার স্বভাব-সুলভ ভঙ্গিতে বলে উঠলো মেশিন নষ্ট। এমনিতেই ৩৫/৪০ মিনিটের পথ জ্যামে পড়ে আসতে দুই ঘন্টা লাগলো, তারপর গার্ডের মুখের মধুর বাণী শুনে মেজাজ উঠে গেল সপ্তমে। গার্ডকেই বললাম, মেশিন নষ্ট হইলে আপনি এখানে বসে বসে কি করতেছেন, মাছি মারতেছেন? বুথ বন্ধ করে বাড়ি যেয়ে ঘুমান গিয়ে।
দ্বিতীয়টাতে যেয়ে শুনি কার্ড ঢুকতাছে মাগার টাকা বাইর হইতাছে না। কি আর করুম, মনের দুঃখ মনে চাইপা বাসায় চলে আসলাম।
এই হলো আমাগো দেশের ব্যাংকগুলোর সেবার নমুনা। আইসেন আমরা সবাই মিলে DBBL- এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি এবং বলি ---------------------------------------
DBBL- এর পোন্দে দিয়ে বাঁশ বলো সাবাশ সাবাশ। "
'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
আরও অনেককিছু আছে যা লেখা যায়।
কিন্তু লিখলাম না। আপনারা যারা গ্রাহক তারা জানেন সব।
এখন আমার কথা হল তারা আমাদের যে সকল সেবা দেওয়ার কথা তা কি কতটুকু ঠিকমত দিতে পারছে?
তারা তাদের রির্জাভ বাড়ানোর মাধ্যমে লাভবান হবে, কিন্তু আমরা যারা সাধারণ জনগণ তারা কি লাভবান হব?
আর তারা তাদের সেবা কি এমন জাদুকরী উন্নতি করেছে যে সার্ভিস চার্জ এক লাফে ৪-৫ গুন করার মত সিদ্ধান্ত নিল?
তাই এই সকল কারনে আমার মত ছাত্রের পক্ষে বাসসরিক এই চার্জ বহন করা সম্ভব না বিধায় আমার ACCOUNT-টি CLOZE করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসুন আপনারাও সিদ্ধান্ত নিন, কি করবেন????
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।