সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল
সুপ্রিয় দর্শক শ্রোতা আজকে আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি ঢাকা শহরের একেবারে প্রাণ কেন্দ্রে বরীন্দ্র সরোবরের আশে পাশে মনোরম নৈস্বর্গিক শোভা মন্ডিত খালেদ'স এ । যেখানে ক্লাসে তাত্ত্বিক আর ক্লাসের বাইরে যত্ন করে পৌরষত্ব জাহির করার ষোল কলা শেখানো হয়।
আমরা এসেছি এদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে। ওই খানে দেখা যাচ্ছে দুজন পড়ালেখার আলোচনা নিয়ে মগ্ন। চলুন কথা বলি ওদের সাথে।
"এই যে ভাই, কেমন আছেন?"
" তা জাইন্যা আপনের কি কাম? সাড়ে দশটা বাজে !"
"জ্বি আমি এসেছি ব্লগের পক্ষ্য থেকে আপনাদের সাক্ষাতকার নিতে। "
"ব্লগ? এইটা কি রে মাক্কু? "
"ব্লগ? কোন হালায় জানে? আবে সাড়ে দশটা বাজে। আমার তো কিছু ভালা লাগতাছে না। "
"ইয়ে কিছু মনে করবেন না ভাই। আপনারা দুজনই সাড়ে দশটা বলছেন।
এই সময় কি আপনাদের কোন পরিক্ষা হবার কথা?
" আপনে হালায় কি মদন নাকি? আরে ঠিক সাড়ে দশটায় আমার জানে মান এই রাস্তা দিয়াই যাইবো। "
" আবে তোর জানে মান মানে ? আমি কি মইরা গেছি গা? এক্কেরে কোপায়া দিমু। "
ইয়ে দর্শক, ইনারা নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতিতে লিপ্ত। এই ফাকে চলুন এইবার উপাচার্যের অফিসে।
"কেমন আছেন স্যার?"
"অ্যা? আমি কেমন আছি মানে কি? আপনি কে?"
" আমি বাচ্চু আপনাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এসেছি।
আপনার যদি একটা ইন্টারভিউ নেয়া যেতো। "
"অ্যা? ইন্টারভিউ? অবশ্যই অবশ্যই ! তা আপনার এই ইন্টারভিউটা কত জন মেয়ে দেখবে?"
"তা মনে করেন চার পাচশো তো হবেই ! আরো বেশিও হতে পারে। "
"অ্যা? তাই নাকি তাই নাকি? বেশ বেশ । দাড়ান দাড়ান প্যান্টের চেইনটা আটকে নেই, আর টাই টাও ঠিক করে নেই। এখন বলুন"
"আচ্ছা স্যার, এই মহান ব্রতে বলিয়ান হয়ে এই রকম একটা প্রতিষ্ঠান খুলবার চিন্তাটা কিভাবে এলো।
"
"অ্যা? ওহ... খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। বিভিন্ন কলায় সংক্লিস্টতা থেকেই অনেক অভিজ্ঞতা আমার। কিন্তু আমি আবার সাম্যবাদে ভীষনভাবে বিশ্বাসি। তাই সেই অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রজন্মের ছেলেদের কাছে পৌছে দেবার জন্যই এই উদ্যোগ। "
" এই দ্বায়িত্বশীল পদে থাকার সুবাদে নিশ্চই আপনাকে অনেক সিদ্ধান্ত নেবার সময় প্রচুর মাথা ঘামাতে হয়?"
"অ্যা? ওহ হ্যা ।
তাতো বটেই। দেখেন না। আমার ছেলে আমার ভাগ্নে আর আমার শালা, তিনজনই এখানে ভর্তি হতে চাইছে। এখন কাকে কি কি কায়দায় মানা করি, এই চিন্তায় অস্থির আছি। "
"আচ্ছা আপনাদের একটি ক্লাসরুম পরিদর্শন করা যাবে?"
"অ্যা? ওহ হ্যা হ্যা।
অবশ্যই। মোকসেদ ইনাকে প্রাইমারি ক্লাসে নিয়ে যাও। "
সুপ্রিয় দর্শক, দেশের বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ক্লাস চলাকালিন সময়ে ফাকি দেবার প্রবনতা দেখা যায়, সেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্লাস রুমই দেখছি মনযোগি ছাএদের ভীড়।
(ক্লাসের ভিতর ক্যামেরা ফোকাস, পড়ানোর শব্দ আসছে)
"সবাই বলো... ক তে কাম্না, খ তে খোলা, গ তে (বিপ বিপ) ঘ তে ঘাইগুতা, চ তে (বিপ বিপ) ছ তে (বিপ বিপ), জ তে জাবড়াইয়া ধরা, ঝ তে ঝাপটা ঝাপ্টি, ট তে টইটুম্বর, ঠ তে (বিপ বিপ) ড তে ডলা, ঢ তে ঢলাঢলি..."
"ইইয়ে আপনাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি কি শুধু বাংলায়?"
"না না তা কেন? ইংরেজিতেও আছে। একটু শুনিয়ে দাও তো ইনাকে।
"
" এ ফর (বিপ বিপ) বি ফর বিচ, সি ফর (বিপ বিপ), ডি ফর (বিপবিপ), ই ফর ইরোটিক, এফ ফর (বিপবিপ), জি ফর গার্ল...।
"ব্যাস ব্যাস আর বলতে হবে না। খুব ভালো খুব ভালো। তা আর কোন পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা হয়?"
"যুগটা যেহেতু ডিজিটাল, তাই অডিও ভিজুয়ালের সুব্যাবস্থা রাখা আছে। মোকসেদ, আভার যৌবন সিডির ৩ নম্বরটা চালাও তো।
বুজলেন, আমাদের ছাত্ররা যা শার্প। কোন পর্বে কি আছে একদম মুখস্থ বলে দিতে পারে। "
"থাক থাক থাক। বুঝতে পারছি। আর কোন ব্যাবস্থা?"
"আছে তো ।
মোকসেদ ইনাকে নাটক রুমে নিয়ে যাও তো !"
(নাটক রুমে মহিলা গলার চিৎকার)
"ছেড়ে দে ছেড়ে দে শয়তান"
"মুহাহাহা... ঠোমাকে ছাড়িয়া ডেবো? নেভার নেভার মাই ডালিং আলেয়া... আগে হামি ঠোমাকে প্রেম করিবে এর পর... মুয়াহাহাহা। "
"ইয়ে মোকসেদ ভাই, এটা কোন নাটকের রিহার্সেল?"
"ক্যান? এইটা নবাব সিরাজুদ্দৌলা নাটক !"
"ইয়ে দর্শক মন্ডলি, ওই দিক থেকে গানের আওয়াজ পাচ্ছি। চলুন দেখে আসা যাক। "
(গানের রুমে কোরাস চলছে)
"ওই ছেমরি তোর কপাল ভালো আমার চোখের নজর পইড়াছে...
লাল গোলাপি অঙ্গ তোমার, ** ** (বিপবিপ) আজকে তোরে খাইছি আমি বাধা দিবো কোন বান্দির পুত"
একটু ভালোবাসো, একটা কথা রাখো, ভালোবেসে একবার আমায় জামাই বলে ডাকো।
"ইইয়ে সুপ্রিয় দর্শক চলুন এবার প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের অফিসে।
(ভেতর থেকে মেয়েলি কন্ঠেরর হাসি)
"আমরা নিচ্ছি ছোট্ট বিরতি। "
(বিজ্ঞাপন)
"বিরতির পর স্বাগতম। আমরা বসে আছি প্রতিষ্ঠানে বাপ ভাই খালেদ বক্সির অফিসে। কেমন আছেন?"
"আপনি আসার আগে খুব ফাপড়ে ছিলাম। আপনি আসার পর একটু স্বস্তি পেলাম।
"
"সেটা ক্যামন?"
" আরে ভাই, রোজ রোজ এই আটার বস্তা কোলের উপর বসে থাকলে রান দুইটা আস্তা থাকে?"
"ওহ তা তো বটেই ! তা উনি?"
"খোমা তো দেখলেনই। ফিগারে ময়ুরিও ফেল। তাই একেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসাবে রাখা হয়েছে। "
"তা আপনি আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যাবসার চিন্তা মাথায় এলো কি করে?"
"ওই মিয়া, আর্ট কালচার করি বইলা কি বউ পুলাপান লইয়া আধা প্যাট খাইয়া থাকমু নাকি? এই আর্ট কালচারের কোন হালায় কইতে পারবো ওগো কোন আলাদা ধান্ধা নাই?"
"হু সেটাও কথা।
তা এই ইউনিভার্সিটি খুলার আইডিয়া কি করে আসলো?"
"দুঃখের কথা কি আর কমু কন? আমার চাবাইন্যা কথা আর বাইট্টা সাইজ, লগে চাইরকোন্না চেহারা নিয়া কতদিন চালাইতাম? এর মধ্যে অবর্ণা যেই ছ্যাকাটা দিছিলো। এমন কি দুই দিনের মাইয়াগুলিও দেখতাম বেইল দেয় না। মনের দুঃখে এই লাইনে। "
(এই সময় সেই সেই মহিলার প্রবেশ)
"এসো এসো ছিঃমা। আলাপ করিয়ে দেই।
ইনি বাচ্চু, পরিদর্শন করতে এসেছেন। "
"অ্যা ই খালু , কে বাচ্চু? কিসের বাচ্চু? এই ব্যাটা তো সামুর"
"কিইইইইইই... হায় হায় হায়... ওই মন্টু, জগলু, হারূন, হাবিব, কোই তোরা... জলদি আয়... বান হালারে ওই ধর ধর ধর ...।
"দর্শক, পরিদর্শনের গুস্টি কিলাই, নিজে বাচলে বাপের নাম। বিদায়...। "
(সম্পুর্ণ কাল্পনিক।
কারো সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ি নয়)
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।