মাংস ছেড়ে সবজি খাচ্ছে কুকুরের দল! অদ্ভুত শোনালেও বাস্তবে তাই হচ্ছে। তীব্র তাপদাহ আর অসহ্য গরমের প্রভাব পড়েছে র্যাবের ডগ স্কোয়াডে থাকা ৬০টি কুকুরের খাদ্য তালিকায়। গরমে তারা ঢক্ঢক্ করে খাচ্ছে স্যালাইনের পানিও। জুটেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ।
গতকাল শুক্রবার র্যাবের উপ-পরিচালক, মেজর আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'চলতি গরমে কাহিল হওয়ার আগেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
বিশেষ করে অপরাধ তদন্ত কাজে ও যে কোনো স্পর্শকাতর অভিযান চালানোর জন্য এই ৬০টি কুকুরের গুরুত্ব আছে। তাই আমাদের এই
বিশেষ পরিচর্যা। '
জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর পুলিশ স্টাফ কলেজের পেছনের ভবনেই ডগ স্কোয়াডের থাকার ব্যবস্থা। গরম বাড়তে থাকায় রাজধানীর শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই কাহিল অবস্থা। র্যাবের ডগ স্কোয়াডের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে ২০ ফিট বাই ১২ ফিটের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ।
মেজর আসাদুজ্জামান সমকালকে জানান, প্রতিদিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের স্যালাইন পানি খাওয়ানো হচ্ছে। গরুর মাংস কমিয়ে সবজির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। মুরগির মাংস দেওয়া হচ্ছে পরিমিত। শুকনো খাবারের মধ্যে বিশেষ ধরনের বিস্কিট দেওয়া হচ্ছে দিনে তিন-চারবার। সবজির মধ্যে আলু, শসা, গাজর, লাউ আর মিষ্টি কুমড়া থাকছে নিয়মিত।
সমকালকে তিনি বলেন, স্কোয়াডের ৬০টি কুকুরই সুস্থ আছে।
গরমে বিদেশি কুকুরের বাড়তি নিরাপত্তা ও পরিচর্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান খান সমকালকে বলেন, 'গরমে যে কারো বাড়তি পরিচর্যা দরকার। ডগ স্কোয়াডের বিদেশি কুকুরদের জন্য তো আরও বেশি পরিচর্যা দরকার। এদের পানিযুক্ত খাবার বিশেষভাবে দেওয়া দরকার। এ ছাড়া পানি সরবরাহ নিয়মিত রাখতে হবে।
গরমে পেটের পীড়া রোগসহ দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। '
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে আনা এই এলিট কুকুরদের গায়ের তাপমাত্রা সাধারণত ১০০ থেকে ১০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে গেলে তাদেরও তাপমাত্রা বেড়ে যায়। দিনে বেশ কয়েকবার তাপমাত্রাও মাপা হচ্ছে। তাপমাত্রা বেশি বেড়ে গেলে বাড়তি হিসেবে মজুদ আছে 'আইস প্যাক ট্রিটমেন্ট'।
গরমের দুপুরে ট্রেনিংয়ের দৌড়ঝাঁপের মাত্রাও কমেছে। সকালে যে প্রাতঃরাশ খাওয়ানো হচ্ছে তা পানির মিশ্রণে দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার তাপমাত্রা গত এক সপ্তাহে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠছে। সহসা বৃষ্টি না হলে এই গরম অব্যাহত থাকবে। দেশের সাতটি বিভাগের ওপর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় তীব্র গরমের সঙ্গে জুটি বেঁধেছে আর্দ্রতা।
ঢাকায় গত দুই দিন হালকা বৃষ্টি হলেও দুপুরে খাড়াভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সূর্যকিরণ এবং উচ্চ বাষ্পীয় ভবনের কারণে ভূমি থেকে মাটি শোষণ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে কেবল ঝড়োবৃষ্টি। আর ঝড়োবৃষ্টির দিকেই তাকিয়ে আছে র্যাবের এলিট ডগ স্কোয়াড! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।