আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এত অনুভূতিতে আঘাত.।। আমি ও কিছু অনুভুতি তে চুলকানি দিলাম.।।।

........................ বাংলাদেশের একজন মুসলিম বাঙালি হিসেবে অন্তরে ইসলাম, স্বভাবে বাঙ্গালিয়ানা জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত হইয়াছি। তো অন্তর চায় সহিষ্ণুতা রেখে সব কিছু সহ্য করতে। কারন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ ( সা )বলেছেন, অন্যায় দেখলে হাত দ্বারা বাধা দিতে, তা না পারলে কথা দ্বারা, আর তা ও সম্ভব না হলে অন্যায়কারীর প্রতি মনে ঘৃণা রাখতে হবে। আমি কোন জ্ঞানী গুণী, কোন হাদিসের নাম উল্লেখ করে কোটেশন দিব, সেই মুরোদ আমার নাই। একজন মুসলমান হিসেবে পরিবার থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি, তার আলোকেই হাদিস টি বললাম।

হাত দ্বারা বাধা দেয়ার শক্তি আমার নাই। কথা দিয়ে বাধা দিব তাও তো ভয়ঙ্কর ব্যাপার, কখন না জানি কার কোন অনুভুতি আঘাত প্রাপ্ত হয়। তাই অন্তর বলে মনে ঘৃণা রাখতে অন্যায় কারির প্রতি। কিন্তু অন্যায়কারী সুনির্দিষ্ট ভাবে কোন গোষ্ঠী সেটাই তো বুঝতে পারতেছি না। এখন হয়ত অনেকে বলবেন, আপনার মত অপদার্থ বা বেকুবের সাথে কথা বলার সময় বা রুচি মাত্র নাই।

তা অবশ্যই। আমার প্যাঁচালে অংশ নিয়া আপনারে কেও বিরাট জ্ঞানীর খেতাব দিবে না। আর সবাই তো খ্যাতি চায় ই। আমি নিজে ও হয়ত এই পোস্ট লিখছি, যেন কিছু মানুষ রে আমার অরুচিকর , জ্ঞানহীন লেখা দ্বারা পটিয়ে কিছু ভাল মন্তব্য পাইয়া মন এর কুরকুরি মিটাই তে পারি। এরকম ভাবাই তো স্বাভাবিক।

তা আপনি যা ভাবেন, ভাবতে পারেন। মুলত স্বভাব দোষে বাঙ্গালিয়ানার কিছু দুষ্ট প্রবিদ্ধি জন্মগত ভাবেই পেয়েছি। তাই অন্তরের বাধা সত্ত্বেও কিছু চুলকানি দিতে হাজির হয়েছি। এত ভনিতার দরকার ছিল না, কিন্তু মার্কেটিঙের যুগ। তো মুল প্রসঙ্গে আসি, দেশে তো এখন চার প্রকারের ইসলাম বিরাজ করিতেছে।

জামাতি ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম, শাহাবাগি মুক্ত চিন্তার ইসলাম, আর সব শেসে আমার মত অবাল শ্রেণির মানুষের জন্য শুধু অন্তরে ইসলাম। তো এনারা সবাই নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করিতেছে। আমি ও তাই, নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করি, যদি ও ইসলামের সব বিধি বিধান মেনে চলতে পারি না, আবার ইসলাম সম্পর্কে বিসধ জ্ঞান ও আমার নাই। জামাত ইসলাম ঃ ইনারা বেপক দউরানির ভিতরে আছে। ইনারা নামাজ রোজা করে।

ইনাদের দলের বিরাট জ্ঞানী নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে কিছু ফাঁসি প্রাপ্ত হইয়া, আবার কিছু বিচারের অপেক্ষায় চোদ্দ সিকে অবস্থান করিতেছেন। দলের মুক্ত নেতা কর্মীরা এই বিচারে গোস্বা করিয়া নানা ধরনের ধ্বংস মুলক কাজ করিতেছেন। তারা হয়ত বলবেন, পুলিশ নাস্তিক হইয়া গিয়াছে। তারা নির্বিচারে জামাত শিবির মারিতেছে। এই কারনে তাদের মারা ফরজ।

কথা আমার সেটা না, আপনারা এত যে জেহাদের নামে আন্দোলন করিতেছেন, এটা আসলে কিসের জন্য? ইসলাম রক্ষার জন্য নাকি আপনাদের পেয়ারা নেতাদের রক্ষার জন্য? হয়ত বলবেন দুইটাই। তো মানলাম। কিন্তু আপনাদের নেতাদের মুক্ত করবেন ভাল কথা, কিন্তু তারা কি আসলেই ধোঁয়া তুলসি পাতা নাকি সবি সরকারের ষড়যন্ত্র? নাকি মনে করেন, যে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে তারা যে হত্যা জজ্ঞ চালিয়েছে তা অতি জায়েজ কাজ। মুক্তিযুদ্ধের ফলে বাংলাদেশ পাকিস্তান এর মত বেপক ইসলামি রাষ্ট্র থেকে পৃথক হয়েছে, সেই সময় এই অন্যায় কাজে ভারতের সহযোগিতায় যারা মুক্তি কামি ছিল, তারা নাস্তিক , মালাউন - নিরপরাধ হলে ও তারা পাকিস্তানের সাথে থাকতে না চাওয়ায় বেপক অন্যায় আর ইসলাম বিরোধী কাজ করেছিল। তাই আপনাদের পূর্বসূরিরা তাদের হত্যা করে ইসলামের খেদমত করেছিল।

ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস, সেই খেদমতের ফলে আজ তারা অপরাধি। তাদের বিচার হচ্ছে, তাই না? ভাল তো। আপনারা ও আপনাদের পূর্বসূরিদের দেখানো আমল করছেন। নাস্তিক , বিধর্মী বধ করছেন। আপনাদের ইসলাম এ তাকবীর আর নামাজ রোজা ছাড়া আর কিছু কেন খুজে পাই না।

আমাদের নবীর ( সাঃ) এর আখলাক এত অনপস্থিত কেন? ইনারা আবার এক অকেজো রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক ফায়দা লাভের মহে সমর্থন পুষ্ট। হেফাজতে ইসলাম ঃ ইনারা নামাজ রোজা করেন। খুব বেশি ধ্বংস জজ্ঞ এখন পর্যন্ত করেন নি। আধুনিকতা থেকে তারা একটু দূরে। এতে আমার বিন্দু মাত্র অভিযোগ নেই।

আধুনিকতা মানে অশ্লীলতার চর্চা নয়। কিন্তু আধুনিকতার ছাঁচে ইসলাম ও জড়িয়ে গেছে। তারা এ ব্যাপারে অবগত নয়। বাস, ট্রাক, মাইক, মোবাইল ফোন এসব ব্যাবহার করেই তারা ইসলাম এবং আমাদের নবী (সাঃ) কে অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন ঢাকায়। ইসলাম কে রক্ষায় তারা আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন।

কিন্তু তারা কি জানেন না, বাস এ কত আজে বাজে মানুষ চলাফেরা করে? মানুষ ফোনে কত আজে বাজে কথা বলে? মাইক দিয়ে গান বাজনা বাজান হয়? তাহলে তারা এসবের প্রতিবাদ হিসেবে এগুলো ধ্বংস করেন না কেন? নাকি মাহামুদুর রাহমানের মত এসব নিয়া কেও লেখে না, তাই প্রতিবাদের দরকার নাই? ব্লগ আধুনিক প্রযুক্তির একটা অংশ। এখানে ও যে অনেক নিরপেক্ষ ইসলাম প্রেমিক মানুষ ধর্ম নিয়া আলোচনা করে, ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ করে তা "আমার দেশ" লেখেও নাই। আপনারা জানেন ও না। ব্লগ কি সেটা জানেন? হ্যাঁ এটা স্বীকার করছি আপনাদের দাবি ইসলাম সম্মত। যদি বলি এ যুগে ইসলামের এসব দাবি অমানবিক, তাহলে বেপারটা মুনাফেকি হয়ে যায়।

কিন্তু ইসলাম কি আমাদের ধর্ম বিশ্বাস জোড় করে অন্নের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার শিক্ষা দেয়? আর আমাদের ধর্ম অবমাননা করলে তার ফাঁসি দিতে হবে, এটা কি আমাদের কোরআন এ আছে? ভালবাসা দিয়ে ইসলামের পরিচয় হউয়া উচিত, তলোয়ার দেখিয়ে নয়। নাকি আইয়ামে জাহেলিয়্যাতের চেয়ে অ এখন অবস্থা খারাপ? আমাদের নবীজি যতটা সম্ভব যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছেন বলে জানি। শাহাবাগি ইসলাম ঃ ইনারা ও অধিকাংশই মুসলমান। মুলত এরা মুক্ত চিন্তায় দিক্ষিত শিক্ষিত গোষ্ঠী। ধর্ম চর্চা ইনাদের কাছে বেক্তিগত বিষয়।

আমি ও বেক্তিগত ভাবে তাই মনে করি। এই গোষ্ঠী ধর্ম বিদ্বেষী নয়। দেশপ্রেম টা সত্যিকার অর্থেই বলিয়ান এই গোষ্ঠীর মাঝে। তারা সবার আগে দেশ কে কলঙ্ক মুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি করছে। কিন্তু দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যেমন দেশ কে কলঙ্ক মুক্ত করার দাবির সাথে দেশের আর ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সমাধানের দাবি গুলো ও তুলে ধরা উচিত, যা তাদের মাঝে অনুপস্থিত।

তাদের দেশ প্রেম কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের বেবসার পুঁজি হচ্ছে কিনা তারা সেই ব্যাপারে সচেতন জবাব দেয় নাই। সবশেষে আসে আমাদের মত আবাল শান্তি কামি মানুষের ইসলাম। আমরা হয়ত ইসলাম সম্পর্কে অত অগাধ জ্ঞান রাখি না। পারিবারিক শিক্ষায় আমরা পেয়েছি ইসলাম এর শান্তির শিক্ষা, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে শিখেছি দেশ কে ভালবাসার শিক্ষা। আমার ধর্ম ও শিক্ষা দেয়, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

আমার ধর্ম ও দেশ কোনটাই হত্যা, ধর্ষণ, ধংস যজ্ঞের শিক্ষা দেয় না। কথায় আছে, " অসির চেয়ে মসি বড়। " কিন্তু যদি যাদের অসির ডগায় এত জ্ঞান, তারাই যদি জ্ঞানের পাণ্ডুলিপি ভুলভাবে উপস্থাপন করে, তাহলে ভবিষ্যৎ সত্যি ই অনিশ্চিত। ইহা পরীক্ষার খাতা নহে, তাই সাধু চলিত মিলাইয়া লিখিলাম। সব শেষে , রাজাকারের ফাঁসি চাই, ধর্ম অবমাননা কারিদের শাস্তি চাই।

অন্যান্য ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পরিবেশ চাই, মানুষের নিরাপত্তা চাই। সকলের মানসিকতা আর ও বেশি মানবিক হোক, এটাই কাম্য। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।