আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বই প্রকাশনা নিয়ে কিছু কথা

কি করি আজ ভেবে না পাই বই পড়ার অভ্যাসটা কমে গেলেও ইচ্ছা কমে নি। বই নিয়ে কিছু চিন্তা অল্প কথায় লিখছি। ১। বই প্রকাশকের উদ্দেশ্য নিশ্চয় এইরকম- তার বইগুলো যাতে সর্বোচ্চ পরিমাণে বিক্রীত হয় এবং এতে তার সর্বোচ্চ পরিমাণে লাভ হয়। যদি তাই ই হয় , তবে একটা জনপ্রিয় বই এর মূল্য অহেতুক রকমের ধার্য করে সম্ভাব্য পাঠকদের ( যাদের বই কেনার ইচ্ছা প্রবল কিন্তু অতিরিক্ত দাম দেখে হতাশ হন) দূরে সরানোর এত চেষ্টা কেন আমি বুঝতে পারি না।

২। বই সাধারণ মানের কাগজে ছাপলে খরচ যেমন কমে আসে তেমনি পাঠকেরও সাধ্যের মধ্যে থাকে, সেই বই অযথাই খুব উচু মানের কাগজে ছেপে অনেক বেশি দাম রেখে লাভটা কোথায় সেটাও আমার মাথায় ঢোকে না। ৩। উচ্চবিত্ত পাঠকদের জন্য হার্ডব্যাক এবং অপেক্ষাকৃত কম সামর্থ্যের মানুষদের জন্য পেপারব্যাক এডিশন করে দাম নাগালের মধ্যে রাখলে ক্ষতিটা কোথায় ?( বিদেশী বড় বড় প্রকাশনী এই উপায়েই ভাল ভাল বই প্রকাশ করে) ৪। বানানবিভ্রাট একদিকে যেমন বিরক্তির উদ্রেক করে তেমনি বানান সম্পর্কে ভুল ধারণার ও জন্ম দেয়।

ভাল প্রুফ রিডার রাখলে অনাকাঙ্খিত বানান ভুল সহজেই শুধরানো যায়। কিন্তু ভাল তো দূরে থাক, অনেক প্রকাশনীতে প্রুফ রিডারই থাকে না। ৫। পাঠকদের দায়ও অবশ্য কম নয়। কিন্তু নোটবই মুখস্ত করে পরীক্ষায় পাস করায় বিশ্বাসী পাঠক সিলেবাসের (ছিলা-বা৺শ) বাইরের বই কিনতে কতটুকু আগ্রহ দেখাবেন তা কিছুটা হলেও অনুমেয়।

এক্ষেত্রে সেইসব পাঠকের সামনে কম মূল্যের 'মূলো'টা ঝুলিয়ে প্রকাশক তার পাঠকের সংখ্যা অনেক গুণ বাড়াতে পারেন( নিঃসন্দেহে তা হবে একই সাথে একটা মহৎ এবং আর্থিক দিক থেকে লাভজনক উদ্যোগ)। ৬। কমিশনভিত্তিক বই বিক্রি না করে যদি নির্ধারিত লিখিত দামে বই বিক্রি করা হয় সেক্ষেত্রে ঐ প্রকাশনীর গ্রহণযোগ্যতা পাঠকের কাছে বহুগুণ বেড়ে যায়। ৭। বই পড়ার জন্য যেমন পরিবেশ দরকার তেমনি বই কেনার পরিবেশটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ।

কাজেই বইয়ের দোকানগুলোতে 'টাকা দেন বই নেন' এরকম না করে সুন্দর পরিবেশে ঘুরে ঘুরে বই দেখে বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিলে ভাল হয়। বেশকিছু দোকানে এরকম ব্যবস্থা থাক্লেও অধিকাংশই অভিজাত দোকান। মাঝারি বা কম আয়ের পাঠকদের জন্য এই সুযোগ আরও বাড়ানো যায়। ৮। বইমেলা আমদের প্রাণের মেলা।

কিন্তু বইমেলাকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ বই প্রকাশ না করে বছরের অন্যান্য সময়েও ভাল ভাল বই প্রকাশ করলে অফ-সিজন বলে কিছু থাকবে না প্রকাশনাশিল্পে। আমার জানামতে বাংলাদেশের নামী-দামী প্রকাশনীসমুহের স্বত্বাধিকারীরা সবাই সাহিত্যিক না হলেও সাহিত্যবোদ্ধা। যেনতেন উপায়ে লাভ করার জন্য কেউই এই ব্যবসাতে আসেন নি। উপরন্তু, দেশের পাঠকসংখ্যা বাড়ানর ক্ষেত্রে এইসব উদ্যোগ শুধু পাঠকের জন্যই ভাল হবে না বরং তাদের লাভের পরিমাণকেও বাড়িয়ে দেবে( উইন-উইন সিচুয়েশন এর বাংলা কী হতে পারে??? )। বই প্রকাশনাশিল্পের ধারে কাছে না থেকে বাইরে থেকে বলাটা হয়তো কঠিন।

তারপরেও মানুষের জীবন আরও বই-ঘেষা হয়ে ওঠাটাই মনে হয় জাতি হিসেবে আমাদের উপরে ওঠার রাস্তাটা আরো সুগম করবে। (একজন আনাড়ি লেখকের লেখা প্রথম ব্লগ । । । ) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।