যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী করছি ইতোমধ্যে বহু গবেষনা আর কাঁদা ছোড়াছুড়ি হয়েছে - এখন দেখা যাক আসলে কোথায় গড়বড় হচ্ছে। যখনই খবরটা গোচরে এলো - বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুতই একটা শট ফায়ার করলেন। এখানে উনার উচিত ছিলো আরো একটু ধৈর্য্য ধরা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের এমনিতেই ধৈর্য্য কম - তার উপর রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ক্ষেত্রেতো ধৈর্য্যে বালাই থাকেই না।
সাথে সাথে গর্জন সিংহ নামে খ্যাত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব (বছর খানেক ধরে পদের ভারে ভারাক্রান্ত) মির্যা ফকরুল আরেকটা শট নিলেন - আমরা না উনারাই চোর।
উনারা ভারত থেকে বস্তা ভরে টাকা এনে নির্বাচন করেছেন। এখানে মজার বিষয় হলো উনিও দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সত্যের সন্ধান করলে না - বরঞ্চ আরেকটা পত্রিকা কথিত প্রতিবেদনের উপর ভরসা করে বিপক্ষ দলের উপর এক হাত নিলেন - যে প্রতিবেদনে কোন সূত্র ছাড়াই গল্পটা প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে উনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগটাও একটা পত্রিকায় প্রকাশিত - তবে তার সুত্র হিসাবে পাকিস্তান হাইকোর্টের একটা চলমান মামলার ঘটনার যোগসুত্র পাওয়া যাচ্ছে - সেই বিষয়টা লক্ষ্য করলেন না।
এখানে বিএনপির মেধাশূন্য রাজনীতি আরো প্রকট হয়ে উঠলো। মির্যা ফকরুল পরের দিনই বললেন - পারলে প্রমান দেন।
কয়েকদিন পরে উনি কাগজ দেখিয়ে বললেন - এখানে প্রমান - কিন্তু বিএনপির নাম নাই। (তারমানে যে প্রমানিত হয় না বিএনপি টাকা নেয়নাই তা কিন্তু নয়। )
এই অবস্থায় এগিয়ে এলো জামায়াত/শিবিরের গবেষনা সেল। এরা যথারীতি গবেষনা করে বের করলো - যা বিএনপি/জামায়াতের বিরুদ্ধে - সেখানেই ভারত এবং হিন্দু জড়িত। এখানে খালেদা জিয়ার একটু প্রশংসা না করে পারছিনা।
বিএনপি যখন মেধাহীন রাজনীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছিলো - তখন খালেদা জিয়া শত সমালোচনার মুখেও যুদ্ধাপরাধী দলকে সংগে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের নিরাপরাধ হিসাবে জনসমুখে বত্তৃতা দিলেন। ফলাফল মেধাহীন বিএনপিকে উদ্ধারে এগিয়ে এসে জামায়াত খালেদার ঋনের শোধ করলো। এরা সোনার বাংলা ব্লগে একটা থিসিস প্রকাশ করলো - যা মুলত বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর অপেশাধারিত্বকেই বেশী প্রকট করে তুললো। আর বিএনপির নির্বোধগুলা সেই থিসিস কপি-পেস্ট করে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করলো।
খুবই পরিতাপের বিষয় যে - বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো সঠিকভাবে খবরটা প্রচার করতে পারেনি।
শুধুমাত্র ডেইলি স্টার ছাড়া। ডেইলি স্টার সুষ্পষ্টভাবে খবরের সোর্স উল্লেখ করে বলেছে যে তাদের পক্ষে খবরের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাকী মিডিয়া খালিজ টাইমসকে ভিত্তি খবরটা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আরো পেশাধারীত্বের পরিচয় দিলে ভাল হতো। এখানে প্রথম আলোর দায়িত্বহীনতাকে ক্ষমার অযোগ্য বিবেচনা করা যায়। আর ইলেকট্রনিক মিডিয়াতো ৫০০ টাকা খরচ করে দুইজন বাঁচাল এনে টকশো করেই দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে - তাদের কাছে কি আশা করি! এরা একজন সাংবাদিক পাঠিয়ে খবরাখবর নিতে পারতো।
যাই হোক খবর প্রকাশের অপেশাধারিত্ব কিন্তু খবরের সত্যতা বা অসত্যতাকে বিন্দুমাত্র হেরফের করে না।
(২)
এখন আসা যাক - এই খবরটা এতো গুরুত্ব পেলো কিভাবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুই দালাল মুই দালাল কথাগুলো বহু পুরোনো। কমিউনিষ্টরা রাশিয়ার অর্থ চলে - জামায়াত সৌদি - পাকি অনুদানে চলে। এমন কি ব্যক্তি বিশেষ সিআইএ বা কেজিবির বা আইএসআই বা র এর এজেন্ট - এগুলো হরহামেশাই বলা হয়।
সেহেতু যখন ইকোনমিস্ট "বস্তায় বস্তায়" টাকা এনে আওয়ামীলীগ জিতেছে বলে প্রতিবেদন ছাপলো - তখন মানুষ গা করেনি - শুধুমাত্র জামায়াত/বিএনপির ব্ত্তৃতার একটা পয়েন্ট বেড়ছে। আওয়ামীলিগও সঠিক পথে তার প্রতিবাদ করে ইকনোমিস্টের কাছে আপত্তি জানিয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি/জামায়ত জোটের নামে যখন পাকিস্তানে সম্পৃত্ততার খবর আসে তখন মানুষ সিরিয়াস হয়ে উঠলো এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও অসহায় বোধ করলো - যা বিএনপির গর্জন সিংহের দ্রুত বদলানো অবস্থান থেকেই সুষ্পষ্ঠ হলো। এখানে লক্ষ্যনীয় যে -
১) বিএনপি প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ দূর্বলতা দেখিয়েছে। এখনও এরা খালিজ টাইমসের কাছে খবরের প্রতিবাদ জানায়নি।
২) বিএনপির ভিতরে প্রতিক্রিয়া নিয়ে তেমন জোড়ালো যুক্তি না থাকায় এরা জামায়াতের থিং ট্যাংকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জামায়াত যথারীতি তাদের ফরমাট (ভারত এবং হিন্দু উপপাদ্য) ব্যবহার করে একটা থিসিস দিয়েছে। যাতে কোন ভাবেই মুল ঘটনাকে মিথ্যা প্রমান করে না।
৩) এখন পাকিস্তানের কোর্টের মামলার পুরো বিবরন প্রকাশ না হওয়ায় বিএনপি নানান ধরনের বিতর্ক করে পুরো বিষয়টা থামা চাপা দিতে চাচ্ছে।
৪) সবচেয়ে হাস্যকর হলো - জামায়াত গবেষনা সেলের আবিষ্কার ৫ কোটি বনাম ৫০ কোটির বিষয়টা যে মিলিয়ন এবং কোটির টাইপো - তা না বলে তাকে ষড়যন্ত্রের একটা ক্লু হিসাবে প্রচারের চেষ্টা করছেন এরা।
যদি এইটা ষড়যন্ত্রই হবে তাহলে এতো ছোট বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করার মতো বোকা সবাইনা।
৫) আরেকটা আর্গুমেন্ট দিচ্ছে এরা - পাকিস্তানে পত্রিকায় কেন খালেদার নাম আসলো না। একদমই আসেনি এইটা ঠিক না। তবে পাকিস্তানীদের কাছে আইএসআই'র খালেদাকে টাকা দেওয়া তো খুবই স্বাভাবিক মনে হবে। কারন ভারত বিরোধী সকল কাজ কর্মের জন্যেই আইএসআই বাজেট বরাদ্ধ থাকে।
সুতরাং ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভুমি ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো জন্যে অর্থ খরচ করার মধ্যে কোন অপরাধ করেনি আইএসআই - এটা হলো তাদের রুটিন কাজ। সুতরাং পাকিস্তানের পত্রিকাগুলো এই বিষয়ে কথা বলবে না। বরঞ্চ তারা আইএসআইএর রুটিন কাজে বাইরে গিয়ে যাদের অর্থ দিয়েছে তাদের নিয়েই চিন্তিত হবে।
যাই হোক - কেন মানুষ বিশ্বাস করবে যে খালেদা জিয়া আই এর আই এর টাকা নিয়েছেন?
মানুষের এই বিশ্বাসের বিষয়টি বুঝার জন্যে কোন পিএইচডি থিসিস দরকার নেই। জামায়াত পাকিস্তানপন্থী একটা দল আর বিএনপি পাকিস্তানের মিত্র।
এরা বাংলাদেশের মাটিকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্যে নিরাপদ করে রেখেছিলো বিগত দিনগুলোতে। যার সবচেয়ে বড় প্রমান ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মিজোরামের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা লালডেংগা মীরপুরে বসবাস করতে তা কার্যক্রম চালাতো -এই তথ্য সকলের জানা। আর আসামের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের সহায়তা করা ফরজ বলে বিশ্বাস করে বিএনপির নেতা/কর্মীরা। সুতরাং বন্ধুদের ক্ষমতায় আনার জন্যে বন্ধু হিসাবে পাকিস্তান সহায়তা করতেই পারে - এইটাতে খুব অবাক হবার কিছু নেই।
অন্যদিকে খালিজ টাইমসের খবরকে প্রপাগ্ন্ডা বলে উড়িয়ে দেওয়া মতো যথেষ্ঠ বিশ্বসযোগ্যতা বিএনপি জামায়াত জোট দেখাতে পারছে না।
সুতরাং সাধারন মানুষ সহজেই বিশ্বাস করবে যে খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনের খরচ হিসাবে আইএসআই থেকে ৫০ মিলিয়ন রুপী গ্রহন করেছেন।
সুতরাং রাজনৈতিক নেতা আর তাদের তাবেদারদের উচ্চস্বরে চিৎকার করে লাভ নেই। আমরা অপেক্ষায় আছি আসল সত্যটা জানার জন্যে। আশা করি সংশ্লিষ্ট মহল সকল দলিল পত্র হাজির করতে তৎপর রয়েছে।
বিএনপির উচিত জামায়াতের গবেষনা সেলের উপর নির্ভরশীল না থেকে বরঞ্চ যদি নিজেদের সৎ মনে করে তবে খালিজ টাইমসের কাছে প্রতিবাদ পাঠানো। নতুবা অথবা পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রসিডিং এর দিকে নজর রেখে নিজেদের গুটিয়ে রাখা এবং মামলা শেষ হওয়া পর্যণ্ত অপেক্ষা করা।
সত্য এমনই শক্তিশালী - যে শত মিথ্যা দিয়েও তাকে আড়াল করা যাবে না। সত্যকে অস্বীকার করাতো সবচেয়ে বড় বোকামী।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।