আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মেঘ, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করতে না পারলে সেটাও হবে আমাদের প্রাপ্য

গ্রাম-প্রকৃতি-সবুজ-সারল্য যেখানে মিলেমিশে একাকার, সেখানে ফিরে যেতে মন চায় বার বার। নিহত সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির একমাত্র সন্তান মেঘের জীবনটা আজ সত্যিই মেঘে ঢেকে গেছে। মা-বাবাকে নিয়ে আনন্দমুখর পৃথিবীটা চিরদিনের মতো স্তব্ধ হয়ে গেছে। মানুষরূপী কিছু জানোয়ার ওর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে ওর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কোলটি, বাবার স্নেহমাখা পরশখানি। মেঘের মুখখানা যতবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ততবার মনে হচ্ছে পৃথিবীর কোন শাস্তিই বোধহয় যথেষ্ট হবে না মানুষরূপী ঐ জানোয়ারগুলোর জন্য।

মেঘের বুকের না বলা কষ্টগুলো বার বার ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাদেরকে। যতবার মনে হয় মেঘ আর কোনদিন ওর মাকে খোঁজে পাবে না, ততবার মনে হয় ওর জন্য এমন নিয়তি বিধাতা কেন লিখলেন ? মা-বাবার স্নেহ ভালোবাসা ছাড়া ফুলের মতো একটি শিশু পৃথিবীর বিরুদ্ধ স্রোতে টিকে থাকবে কি করে ? জানিনা। হিসেব কিছুতেই মিলে না। পৃথিবীর যত ঘটন-অঘটনের মালিক একমাত্র বিধাতা। তিনিই ভালো বুঝবেন এর গুরু রহস্য।

কিন্তু অবুঝ শিশু মেঘের মুখের দিকে তাকালে আমাদের সমস্ত চিন্তা এলোমেলো হয়ে যায়। যখন ভাবি ইচ্ছে হলেই মায়ের কোলে ঝাপিয়ে পড়তে পারবে না এই শিশুটি। ইচ্ছে হলেই বাবার সাথে দুষ্টুমি আর খুনসুটিতে মেতে উঠতে পারবে না মেঘ। দরজায় কলিং বেলের শব্দ শুনে মা এসেছে, বাবা এসেছে বলে আনন্দে লাফিয়ে উঠবে না মেঘ। মেঘের এমন আনন্দমুখর পৃথিবীটা স্থবির হয়ে গেছে চিরদিনের জন্য।

এমনটা যারা ঘটিয়েছে, ঘটাতে পেরেছে তারা কতবড় পাষন্ড ভাবতেও অবাক লাগে। আরও ভাবতে অবাক লাগে এরা মানবকূলেই জন্ম নিয়েছে মানুষ নাম নিয়ে। অথচ ওদের নৃশংসতা পশুদের নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। এরপরও মেঘ বেঁচে থাকবে, বেঁচে থাকতে হবে ওকে। মায়ের স্নেহের ছায়া না পেলেও পাবে অনেক স্নেহের আশ্রয়।

সেই আশ্রয়ে মেঘ বড় হবে বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে। সেই দীর্ঘশ্বাস এক সময় প্রতিশোধের আগুন হয়ে মেঘকে তাড়িতে করবে। আমরা এখনও জানিনা মেঘের বাবা-মায়ের হত্যাকারীদের কি বিচার হবে ? কিংবা আদৌ হবে কি না। তবে যাই হোক মেঘ তার হারানো সম্পদ আর কোনদিন ফিরে পাবে না। এমনটা ভাবলেই বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।

বুকের ভিতর থেকে অজান্তেই উঠে আসে একটা দীর্ঘশ্বাস। সাথে সাথে মেঘের জন্য অগণিত শুভ কামনা। ভালো থাকুক মেঘ। সুস্থ থাকুক মেঘ। পৃথিবীর বুকে সুন্দরের ফুল ফুটাক মেঘ তার বাবা-মায়ের আশার পথ ধরে।

পৃথিবীর যে আলো-হাওয়া, আকাশ-প্রকৃতি আজ নীরব দর্শকের মতো মেঘের রিক্ত হওয়া দেখছে, তারাই মেঘের ভবিষ্যত জীবনের জন্য সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসুক। আর মানষরূপী ঐ পশুগুলোর জন্য নিয়ে আসুক অভিসম্পাত। কিন্তু আমরা কি করতে পেরেছি। একটি সভ্য স্বাধীন দেশের নাগরিক আমরা। অন্তত এমনটা দাবী করছি।

অথচ মেঘের স্নেহের কোলকে আমরা মেঘের জন্য ধরে রাখতে পারিনি। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার যুগে এমন বর্বর নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটেছে মেঘের জীবনে। মেঘকে সারাজীবন এর মূল্য দিতে হবে। শুধু মেঘ কেন ? আমি মনে করি বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে এর মূল্য দিতে হবে দিনের পর দিন। কারণ, মেঘের মা-বাবা কেউ কোন সাধারণ মানুষ ছিলেন না।

অথচ দেশের আইন তাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা দিতে পারেনি। এ আমাদের চরম লজ্জা। এ লজ্জায় মেঘের কাছে বার বার ক্ষমা চাওয়ার আছে আমাদের। মেঘ, পারলে তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করো। ক্ষমা যদি না করতে পারো সেটাও হবে আমাদের প্রাপ্য।

আমরা তা মাথা পেতে নিব। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।