আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তেল আসলে চুলের জন্য কতটা দরকারি

Engineer Ashikujjaman Ashik তেলে চুল তাজা, তেল আসলে চুলের জন্য কতটা দরকারি? তেল কি চুলের খাবার? মোটেও না। তেল আসলে চুলকে তেলতেলে রাখে। মানে একটু চকচকে করে রাখা, এই যা। আরেকটা কাজ অবশ্য হয়। তেল একধরনের পরিষ্কারক।

চুল ও মাথার ত্বকে কিছু ময়লা থাকে যেগুলো পানিতে দ্রবীভূত নয় তেলে দ্রবীভূত। এসব ময়লা তেলে দ্রবীভূত বলে তেল মাখার পর চুলে শ্যাম্পু করলে সহজেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। চুলে তেলের কাজ বলতে এটুকুই। তবে উল্টোটাও হয়। তেল ময়লা আটকাতেও সাহায্য করে।

তাই বিজ্ঞাপনে যতই বলুক এই তেলে আছে অমুক ভিটামিন…ভাববেন এটা শুধুই বিজ্ঞাপনের চটক। আসলে চুলের রং কি হবে? কোঁকড়া না সোজা হবে, লম্বা বা ঘন হবে কি না এসব কিছুই বংশগত বা জেনেটিক। চুলের খাবার দিতে হয় ভেতর থেকে। প্রচুর পরিমাণে পানি খান। এবং পুষ্টিকর খাবার খান।

শাক-সবজী খান, চুল সুন্দর থাকবেই। অনেকে বলেন আগের যুগে দাদী নানীরা তেল ব্যবহার করেই ঘণ চুল পেতো, কিভাবে? কারণ তখন ক্যামিকাল যুক্ত খাবারের প্রচলণ ছিলো না বললেই চলে। টাটকা খাবারে পুষ্টিমানও বেশী। ফ্রীজ ছিলো না বিধায়, টাটকা খাবার খেতো মানুষ যার কারণে তখন মানুষের শক্তি-পুষ্টির অভাব ছিলোনা। এখন মানুষ দিন দিন ফাস্টফুডের দিকে ঝুকে পড়ছে, এছাড়াও অনেকে না জেনেই চুলে নানান জিনিষ প্রয়োগ করছে, যা কিছুদিন পরেই চুলে জন্ম দেয় টাক কিংবা উঁকি দেয় পাকা চুল।

চুলে তেল ব্যবহারের সময় একটু গরম করে নিন। তারপর হাতে নিয়ে বা তুলোয় ডুবিয়ে ভালো করে ঘষুন। গরম তুল চুলের ভেতর গিয়ে কিছুটা পুষ্টি দেয় সত্য, কিন্তু তার চেয়ে নব্বই গুণ বেশী কাজ করে পুষ্টিকর খাবার। সুপ্রাচীনকাল থেকে তেলের বহুল ব্যবহার ছিল। সচেতন মানুষের শরীরের সুস্থতাও।

প্রচলিত নারকেল তেল, সয়াবিন তেল, জলপাই তেল, সরিষার তেলের পাশাপাশি এখন যোগ হয়েছে সূর্যমুখীর তেল, তিলের তেল, নিম তেল, তিসির তেল, ভুট্টার তেল। এসব তেলের সঙ্গে আবার ফুল, লতাপাতার মূলের নির্যাস যোগ করে সুগন্ধিযুক্ত উপকারী তেলের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। আসুন জেনে নিই কি তেল কি কাজ করে, অলিভ অয়েল : শুষ্ক তালু প্রাণ ফিরে পায় অলিভ অয়েলের গুণে। তবে চুলে লাগানো যাবে না। অলিভ অয়েল অতিরিক্ত শুষ্ক ও ছোপ ছোপ ত্বক কোমল ও মসৃণ করে তোলে।

নারকেল তেল :সৌন্দর্যচর্চায় বিশেষ করে চুলের যত্নে যুগে যুগে সেরা হিসেবে খ্যাত নারকেল তেল। চুলের গোড়া শক্ত করে এই তেল। এ ছাড়া ত্বকে মালিশ করলেও উপকার পাওয়া যায়। ত্বকের ব্লিচ হিসেবে নারকেল তেল যে ব্যবহৃত হতে পারে তা আমরা অনেকেই জানি না। নারকেল তেল দিয়ে নিয়মিত মাসাজ করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

পিগমেন্টেশনের সমস্যা দূর করে। এছাড়া চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায়। ক্যাস্টর অয়েল : চোখ ও ভ্রু ঘন করতে নিয়মিত দু/তিন ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল ধৈর্য ধরে লাগান। আমন্ড অয়েল : চোখের নীচে কালি দূর করতে ও ব্যথা, ফোলা ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে এ তেলটি। সরষে তেল : গরম করে তালুতে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন।

দেখবেন খুশকি একেবারেই সেরে যাবে। সরিষার তেল ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে পারে। শীতে ফাটা ত্বকে এর মালিশ খুব উপকারী। শিশুর ত্বকেও খাঁটি সরিষার তেলের ম্যাসাজ অন্য রাসায়নিকযুক্ত তেলের তুলনায় নিরাপদ। ঠান্ডার সময় উষ্ণতাও দেয় এই তেল।

ঠান্ডা, কফ, মাথাব্যথা—এসব কমাতে সরিষার তেলের ম্যাসাজ উপকারী। এপ্রিকট অয়েল : ময়েশ্চারাইজার ও ত্বকের পুষ্টির জন্য এপ্রিকট অয়েল খুবই উপকারী। ইভনিং প্রিমরোজ : অ্যাকনে, একজিম, খুশকির ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। ক্যারট অয়েল : বয়সের ছাপ কমানো ও পুড়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হতে পারে এ তেল। অ্যাভোকাডো : নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে।

হ্যাজেলনাট অয়েল : ত্বকের শৈথিল্য দূরু করে কোষ উৎপন্ন করে। তিলের তেল ছোট ছোট সাদা ফুল থেকে হয় কালচে তিলের দানা। এ দানার গুণাগুণের শেষ নেই। এ থেকে হয় তিলের তেল। তিলের তেলের ব্যবহারে ত্বক হয় সজীব।

যাঁদের ত্বকে রোদে পোড়া ভাব রয়েছে, তাঁদের ওই পোড়া দাগ দূর করতে পারেন এ তেল ম্যাসাজের মাধ্যমে। এই তেল ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হয়। মাথাও ঠান্ডা থাকে। শীতের সময় রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য কর্পূর তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে উষ্ণতা পাওয়া যায়। তিলের তেল চুলের খুশকিও দূর করে।

এ জন্য সপ্তাহে একবার নারকেলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করতে পারেন। তিসির তেল ত্বকের কোমলতা ফিরিয়ে আনতে ত্বকে ম্যাসাজ করতে পারেন তিসির তেল। এতে ত্বকের ভাঁজগুলো ধীরে ধীরে কমে যায়। তিসির তেল খেতেও পারেন। এতে মেধা বাড়ে।

চোখের দৃষ্টির জন্যও ভালো। জলপাই তেল যাঁদের কোলস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাঁদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই। এ তেলের রান্না যেমন ভালো, ত্বকে এর ব্যবহারও উপকারী। যাঁদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নির্দ্বিধায় এ তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। শিশুর ত্বকেও নিরাপদ।

জলপাই তেল মাথার ত্বকের খুশকি দূর করার জন্যও উপকারী। বাদাম তেল পুষ্টি আর শক্তি—এ দুটো একসঙ্গে পেতে বেছে নিতে পারেন আমন্ড বাদাম তেল। চেহারায় লাবণ্য ছড়ায় এ তেল। মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। শরীরে ম্যাসাজ করতে পারেন ময়েশ্চারাইজার হিসেবে।

চিনাবাদামের তেল খেতেও পারেন বিস্কিট বা কেকের সঙ্গে বেক করে। সূর্যমুখী তেল এই তেলের সুবিধা হলো, ত্বকে ব্যবহার করলে কোনো অস্বস্তিকর তেলতেলে অনুভূতি হয় না। বরং বেশ ভালো বোধ হয়। ত্বক সজীব ও লাবণ্যময় করতে সূর্যমুখীর তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। নিম তেল যাঁদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা আছে, তাঁরা নিম তেল ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে দুই দিন।

দু-এক ফোঁটা নিম তেল খেতেও পারেন প্রতিদিন। এসেনশিয়াল অয়েল তেলের ব্যবহার শুধু খাওয়া আর রূপচর্চায় সীমাবদ্ধ নেই। এখন মনকে প্রফুল্ল করতেও তেলের ব্যবহার দেখা যায়। তেলের সঙ্গে বিভিন্ন গাছের ফুল, লতাপাতা, মূলের নির্যাস মিশিয়ে এখন তৈরি করা হচ্ছে এসেনশিয়াল অয়েল। সুগন্ধির পাশাপাশি বেশ উপকারীও এটি।

আমরা তেলের সঙ্গে বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ও সুগন্ধি যোগ করে পেতে পারি সজীবতা ও সতেজতা। যেমন:  লবঙ্গ, রোজমেরি, লেবু একসঙ্গে তেলে মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে সতেজ হওয়া যায়।  জায়ফল, কমলা, ভ্যানিলা একসঙ্গে তেলে মিশিয়ে ম্যাসাজ করে আপনার স্নায়ুবিক চাপ কমিয়ে ফেলতে পারেন।  ক্যামোমাইল, ল্যাভেন্ডার, গোলাপের নির্যাস তেলে মিশিয়ে শরীরের আবর্জনা দূর করুন।  ত্বকের উজ্জ্বলতা আনতে তেলে লেবুর নির্যাস ও জেসমিন যোগ করে ম্যাসাজ করতে পারেন।

নানারকম এসেনশিয়াল অয়েল পাবেন যেকোনো সুগন্ধির দোকানেই। এছাড়া নানা বিউটি পার্লারেও এসব তেল কিনতে পাওয়া যায়। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।