আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কবি আর মায়ার গল্প! ৫

স্বপ্নরা ডানা মেলুক ইচ্ছে মত ..নীল আকাশে. পর্ব ৫ম! অনেক ভেবে চিন্তে একটা ছাতা নিয়ে বেরিয়েই পরলো মায়া! প্রচন্ড বৃষ্টি এবং সেই সাথে বাতাস! ..কিছুদুর যেতেই কবিকে চোখে পরলো মায়ার। চুপচাপ দারিয়ে বৃষ্টির মাঝে..কাধে একটা ব্যাগ..ছাতা ছারাই! আস্তে কাছে গেল মায়া..দুজনেই চুপ! কারো মুখে মথা নেই! অসহ্য নীরবতা .. মায়াই শুরু করলো... মায়া: বৃষ্টিতে ভিজতেছো কেন? ছাতা নেই ?? আমার টা ইউজ করবা? কবি: না লাগবে না! মায়া: লাগবে না কেন? আমি জানি তোমার ব্যাগে ছাতা আছে..বের করো না হলে আমিও ভিজব এখন! (চুপচাপ ছাতা বের করলো কবি) কিছু কি বলতে চাও? কি হইছে? কবি: মায়া কিছু কথা বলা প্রয়োজন তোমাকে আমার! মায়া: বলো..আমি শুনতেছি.. কবি: আমার খুব খারাপ সময় যাচ্ছে মায়া.. মায়া: কেন? কি কারন!? কবি: তুমি জানো আমার সময় কেন খারাপ যাচ্ছে..না জানার ভান করো না! মায়া আমাকে ভুল বুঝো না! আমি কোন কিছুর জন্য তোমাকে দোষ দিচ্ছি না! গত বেশ কিছুদিন ধরেই আমি নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে যাচ্ছি.. বেশ কিছুদিন ধরেই আমি প্রিয়াকে আগের মত সময় দিতে পারছি না! নানা কারনেই পারছি না!..আমার ফাইন্যাল সেমিস্টার যাচ্ছে..পড়াশুনার চাপ..কাজের চাপ..তার উপর বাংলাদেশ আর এখানকার টাইম ডিফারেন্স..এই সব কারন গুলোর মধ্যে তুমিও আরেকটি কারন! তোমার সাথে যখন থাকি তখন প্রিয়ার কথা খুব কম মনে পরে... মায়া: ওয়েট! আমি একটা কারন মানে?? আমি কি কখনো তোমাকে বলেছি প্রিয়াকে কল করো না .টাইম দিও না??? কবি: আগেই বলেছি ..আমাক ভুল বুঝ না! তোমার কোন দোষ নেই!! আমার দোষ! আমি পারছি না আমাকে বুঝতে!! মায়া আমি কনফিউজ! আমি কখনোই চাই নি আমার জন্য কেউ কখনো কষ্ট পাক!! যে মানুষটাকে আমি এত ভালোবাসি তাকে আমি গত কিছুদিন ধরে অবহেলা করে যাচ্ছি! আমার জন্য সে মেয়েটি অপেক্ষা্য প্রহর গুনে গেছে! কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়েছে...অথচ আমি তো সুখেই ছিলাম মায়া! আমি তাকে কষ্ট দিতে চাই না! পারবো না!! আর এখানে যে মানুষটি আমার পাশে রয়েছে তাকেও আমি কষ্ট দিতে চাই না!! আমি কি করব বলতে পারো?? মায়া আজকে আমি তোমার কাছে একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছি! আমি জানি তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিবে না! কাল রাত থেকে আমি অনেক ভেবেছি! এই মুহুর্তে তোমার জন্য-আমার জন্য এর চেয়ে ভালো স্যলুশন আমি আর দেখছি না.. যা বলবো মন দিয়ে শোন মায়া! আমি তোমার ভালোর জন্যই বলছি! আমি চাই আজকের পর থেকে তুমি আর আমি কোন ধরনের যোগাযোগ রাখবো না! কোন ধরনের ই না! না ফোন না ফেসবুক না মেইল না দেখা করা.. না ম্যাসেজ করা! আমরা দুজনের কেউই কারো সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও করবো না! মায়া আমি জানি আমি অনেক নিষ্ঠুর শুনাচ্ছি! কিন্তু মায়া ভেবে দেখ ..তোমার জন্যই ভালো! তুমি যত আমার কাছ থেকে দুরে থাকবে তত তোমার কষ্ট কম হবে!!.একদিন না একদিন তো আমাদের দুরে চলে যেতেই হবে। সেই যাওয়াটা যত সময় নিয়ে হবে তত তোমার কষ্ট বেশি হবে। ... আমি দিন দিন তোমার জন্য একটা মায়ায় জরিয়ে যাচ্ছি! আমি কোন মায়ায় জরাতে চাই না মায়া!! আমি পারবো না!..... মায়া...কিছু বলো.. (মায়া এত্তক্ষন পাথরের মত চুপ করে শুনছিল...একটা শব্দ বের করে নি মুখ দিয়ে) মায়া: তেমন কিছু বলব না! কিছু বলার নাই! আমার মনে হয় তুমি যা বলছো ঠিক ই বলছো! আমরা এখন থেকে কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করবো না! এটাই বোধহয় ভালো। তুমি-আমি আর তার জন্য ও :-) তুমি কোন টেনশন নিও না! আমি ফাইন! সবকিছু কুল :-) (কবি চুপ করে গেল! ...কবির চোখে পানি! অপলক শুধু তাকিয়েই রইলো মায়ার দিকে) কবি: মায়া তুমি এত ভালো কেন?? তোমার কি আমার উপর রাগ হয় না? মায়া কছু বললো না! শুধু মিষ্টি করে হাসলো! আর বললো মায়া: একটা রিকোয়েস্ট আছে আমার...তুমি কখনো আমার জন্য মন খারাপ করবা না! চোখের পানি তো মোটেও ফেলবা না! যদি কখনো আমাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে হয় তখন তুমি চোখের পানি ফেলবা! ঠিক আছে? ..আচ্ছা তোমার কি এখনি আমি কষ্ট দিতে ইচ্ছে করছে??? আজব কবি!! চোখ মুছ! এক থাপ্পর দিব! তুই এমন ক্যান!!? কোথায় আমি কাঁদব! না ..উনি মেয়েদের মত বিহেব করতেছে...অসহ্য তুমি! ! কবি হেসে ফেললো! "আমি এখন তাহলে 'তুই' ? " বললো কবি।

"হু। আচ্ছা এখন এসব নাটক বন্ধ কর! বাসায় যা...আমিও যাই..রাত হয়ে যাচ্ছে। টেনশন করিস না। সব ঠিক আছে!! আমি জানতাম এমন সময় আসতেছে যখন আমি তোমার মত একজন বন্ধু কে হারাবো! কিন্তু দোষ তো আমারি! না আমার তোমার প্রতি কোন ফিলিংস আসে না তোমার আমার কাছ থেকে দুরে চলে যাবার প্রয়োজন পরে। আমি সরি কবি।

কবি: এইযে! দিলা তো আবার মন খারাপ করিয়ে!! তুমি কেন সরি হবা মায়া!! কখনোই সরি হবা না! তুমি জানো না তুমি কতটা স্পেশাল! যে মানুষটা তোমার জীবন সাথী হবে সে কতটা ভাগ্যবান হবেন। তোমার জন্য দোয়া রইলো..সব সময় এমন করে হাসতে থেকো আর ভালো থেকো! খুব ভালো! তুমি আর দশটা মেয়ে থেকে অনেক আলাদা..জীবন কে কখনো সিরিয়াসলি নেও না! অনুরোধ একটাই...কখনো নিজেকে চেন্জ করো না! এভাবেই থেকো। ভালো থাকবে! কষ্ট পাবে কম! মায়া কোন উত্তর দিল না..শুধু নীশব্দে হাসলো... তার পর দুজন দুই দিকে চলে গেল..মায়া একবার ও পেছনে ফিরে তাকালো না.. তাকালে হয়তো ওর কবি মায়ার চোখের পানি দেখতে পারতো কারন কবি ফিরে ফিরে পেছনে তাকাচ্ছিল......... (এর পর কি গল্প আরো চলা উচিত?? প্রশ্ন রইলো :-) ) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।