আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কবি আর মায়ার গল্প! ৪

স্বপ্নরা ডানা মেলুক ইচ্ছে মত ..নীল আকাশে. যেখান থেকে শেষ করেছিলাম সেখান থেকেই শুরু করি... কবি: তুমি এত ভালো কেন মায়া? এতটা কেন? তুমি যদি আর সাধারন দশটা মেয়ের মত হতে তাহলে কিন্তু আমার কষ্টটা হতো না! আর অন্যায় কেন বলছো!! এখানে অন্যায় এর কি আছে? নিজেকে কখনো কোনকিছুর জন্য ছোট করবা না! তুমি খুব চমৎকার একটা মেয়ে! আচ্ছা একটা প্রশ্ন.. তুমি কি চাও আমি কিছু করি? মায়া: না! আমি চাই না! কবি: (কিছুটা অবাক হয়ে) কেন? মায়া: কবি..একটা কথা সব সময় মনে রেখো..তুমি অন্য কারো! কেউ একজন তোমার জন্য অধীর আগ্রহে এতটা সময় ধরে অপেক্ষা করে আছে! আর তুমিও যার জন্য ঠিক ততটাই আগ্রহ নিয়ে বসে আছো! আমি কখনোই চাইবো না অন্য কারো মনের মানুষ কে চুরি করে নিতে..সারা জীবন একটা অপরাধ বোধ কাজ করবে মনের মধ্যে! যা আমি বইতে পারবো না! আর তাছারা কেউ যদি আমার জন্য তার ভালোবাসার মানুষ কে ছেরে আসতে পারে তাহলে গ্যারান্টি কি যে অন্য কারো জন্য আমাকে ছেরে যাবে না? বলো!! ? তোমাকে পাবার স্বপ্ন আমি কখনোই দেখি নি! কিন্তু তোমাকে হারালে অন্য কেউ সেই কষ্ট সইতে পারবে না! মায়ার যে শক্তি আছে...প্রিয়ার সে শক্তি নেই কবি! কবি: এই খানেই তোমার সাথে অন্যদের পার্থক্য! তোমার জায়গায় আমি হলে চোখ-কানবন্ধ করে আমার ভালোবাসার মানুষ কে চাইতাম! অন্য কারো কথা চিন্তা করতাম না!! তুমি এমন কেন মায়া?? আমি সব সময় চাই আমার সব বন্ধুগুলো জীবনে সুখি হোক! তাদের মনের মত জীবন সঙ্গী পাক। কিন্তু তোমার সাথে এমন কিছু হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি! আমাকে মাফ করে দিও মায়া! আমার জন্য তোমার কষ্ট পেতে হলো!! ....মায়া! তোমার হাতটা একটু ধরতে পারি..? মায়া: না! আমার এখন যেতে হবে কবি! সন্ধ্যা হয়ে আসছে! কবি আর মায়া উঠে দারালো...যাবার সময় কবি মায়ার মাথায় হাত রেখে বললো "ভালো থেকো মায়া! সব সময় খুব ভালো থেকো!" মায়া বিনিমনে শুধু হাসলো..মুখে কিছু বললো না! এর পর কি হইলো??? হুমমম কি যে হইলো...হুমম আচ্ছা মনে হইছে :-) এর পর যেন তাদের মাঝে বন্ধুত্ব আরো এক ধাপ বেরে গেলো...যদিও তারা নিজেদের নিয়ে কখনো কোন কথা বলে না..যে কোন ভাবে দুই জনেই এড়িয়ে যায় কিন্তু মনের দিক থেকে যেন বুঝা পোড়া আরো বেড়ে গেল..বিশেষ করে কবি..মায়াকে যেন যে কোন খোলা বইয়ের মত একটানে পড়ে ফেলতে পারতো! মায়ার মন খারাপ হলে বুঝতে পারতো...মায়ার মেজাজ খারাপ হলে বুঝতে পারতো..মায়া কখন কেন কোন কারনে হাসছে কিনবা কখন কোথায় কি কারনে কি বলছে সব যেন এক নিমিষে বুঝে ফেলতো! মায়ার একবার জ্বর হলো! ভীষন জ্বর ..তার উপর ক্লাস প্রজেক্ট...কবি মায়ার হয়ে প্রজেক্টের সব কাজ করে দিল..মায়াকে নিজ হাতে খাইয়ে দিল..যতক্ষন না মায়া সুস্থ হলো.তার জন্য চিন্তা হতে লাগলো...তখন ই হঠাৎ করেই কবির মনে হলো.." একি শুধুই বন্ধুত্ব! নাকি তার থেকে একটু বেশি? আগে তো কখনো কারো জন্য এভাবে মায়া লাগে নি! চিন্তা হয় নি! তবে মায়াকে নিয়ে কেন?" শুধু মনে মনেই ভেবে গেলো..মায়াকে কিছু বললো না কবি! মায়ার সাথে অবিরত ফোনে কথা বলা..অকারনে কথা বলা..মায়াকে হাসাতে কিনবা হাসতে দেখতেও কেন যেন ভালো লাগে আজকাল কবির..মায়া চুপ হয়ে গেলে কবি ভাবতে শুরু করে দেয়.. মায়া সুস্থ হয়ে উঠলো..মায়াও বুঝতে পারছিল যে কবি চেন্জ হচ্ছে..বুঝেও কিছু বললো না মায়া..চুপচাপ কবির কান্ড কারখানা দেখে যাচ্ছিলো... মায়ার বিশ্বাস খুব শিঘ্রী কবি কিছু বলবে..সেই কিছুটা খুব যে সুখকর হবে তা মনে হচ্ছে না..কেন যেন ঝড়ের আগে যেমন সব কিছু নিশ্চুপ হয়ে যায় তেমন মনে হতে লাগলো মায়ার! একটা আতঙ্ক সব সময় তারা করে বেরাচ্ছে তার মাঝে... আকাশ অনেক মেঘলা!! এক সন্ধ্যায় মেঘলা আকাশের বৃষ্টি নামলো!! হঠাৎ ই কবির ফোন! "মায়া! তোমার সাথে কথা আছে!! অনেক গুরুত্বপুর্ন!! আজকেই বলতে হবে" "বলো!" চুপচাপ বললো মায়া। "না!! ফোনে নয়! আমি আসছি!! তুমি কি একটু বেরোতে পারবা! আমি তোমার বাসার সামনে!" বললো কবি! "বাসার সামনে মানে? বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে কবি! আর এই সন্ধ্যায় আমি কি বলে বেরোবো বাসা থেকে??? আজব!! " খানিকটা বিব্রত মায়া। "জানি না কিভাবে বেরোবা! আমি বাইরেই আছি। কথা না বলে যাচ্ছি না!" কবির জেদ! তার ধারনা মায়া আসবেই! কবি ডাকলে মায়া না এসে পারবে না!! .. ওদিকে মায়া নিরুত্তর...বুঝতে পারছে না কি করা উচিত! .... (চলবে...)

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।