আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কবি আর মায়ার গল্প! ২

স্বপ্নরা ডানা মেলুক ইচ্ছে মত ..নীল আকাশে. আচ্ছা এইবার শোনা যাক গল্পের পরের পর্ব। :-) এর পর মায়া আর কবি খুব স্বাভাবিক ভাবেই যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল..কবি প্রায়ই মায়াকে তার ভালোবাসার মানুষের কথা জিগ্গেস করতো..আর মায়া শুধু হাসতো..তেমন কিছু বলতো না। একদিন কবি বললো " আচ্ছা মায়া , তার নাম কি?" মায়া বললো "কেন? তোমাকে না বলছি তাকে নিয়ে কোন কথা আমি বলবো না!" কবি "শুধু নামটাই তো " মায়া " তার নাম মেহেদি" এর পর থেকে শুরু হলো কবির সারাদিন মেহেদি মেহেদি করা..মায়ার সাথে কথা হলেই বলতো মেহেদি ভাইয়া ভালো আছে তো? মেহেদি ভাইয়াকে আমার সালাম দিও। ব্লা ব্লা ব্লা...শুনতে শুনতে মায়ার অসহ্য লাগছিল..একদিন রেগে গিয়ে বলেই ফেললো "কবি। স্টপ ইট! তার নাম মেহেদি না।

আমি মিথ্যা বলেছি!" কবি মুচকি হেসে "মায়া, আমি জানতাম তার নাম মেহেদি নয়! জেনেশুনেই তোমার কানের কাছে বারবার নামটা উচ্চারন করেছি..যাতে তুমি এক সময় না এক সময় নিজের মুখেই স্বীকার করো যে তুমি মিথ্যা বলছিলে। ..মায়া, একটা রিকোয়েস্ট ..আমার সাথে কখনো মিথ্যা বলবা না! আমি মিথ্যা জিনিসটাকে খুব ঘৃনা করি!" " তুমি জানো আমি এই মানুষটা নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না। কিন্তু তুমি অবিরত তার কথা বলে যাচ্ছ! তুমি যদি জানো আমি তাকে নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না আর যদি বলিও দেন মিথ্যা বলবো! তাহলে তুমিই তো আমাকে বাধ্য করছো মিথ্যা বলতে কবি!" মায়া বললো। "আচ্ছা আর বলবো না" কবি। এর পর মায়া খানিকটা ব্যস্ত হয়ে পরলো পরাশুনা আর কাজ নিয়ে... হঠাৎ ই একদিন কবি ওকে ম্যাসেজ করে জানতে চাইলো মায়ার মনের মানুষটি কেমন আছে.. মায়া উত্তর দিল " সে আছে ভালো, নীরবে নীভৃতে, সন্ঙোপনে, সবকিছুর আড়ালে..আমার মনের মাঝে" কবি বেশ কিচ্ছুক্ষন চুল থেকে বললো.."আচ্ছা কাল তুমি কলেজে আসছোতো? তোমার সাথে কথা আছে!" "হু আসবো" মায়ার উত্তর।

তার ঠিক দুদিন পর মায়ার মিডটার্ম পরীক্ষা ছিল..কবির কাছ থেকে কিছু জিনিস বুঝে নেয়ার ছিল..কথামত দজনের দেখা..কিন্তু পড়ানোর চেয়ে বোধহয় কবির মায়ার সাথে কথা বলাতেই বেশি আগ্রহ ছিল.যে.কোনভাবে সে জানতে চাইছিল কে সেই ব্যক্তি যাকে মায়া এতটা ভালোবাসে। কিন্তু মায়াও কম নাছোর বান্দা নয়...কোনভাবেই বলবে না কে সেই মানুষ। সেই দিন সেই চেরি গাছের নীচে কবি আর মায়ার মাঝের কিছু কথা শুনবো আমরা এখন : কবি : আচ্ছা আজকে তার সাথে কথা হয়েছে? মায়া: কার সাথে? কবি: তুমি জানো কার কথা বলছি। মায়া: হু। কবি: কেমন আছে সে? মায়া: মনে তো হয় ভালোই আছে।

কবি: মায়া তুমি শুধু একবার আমাকে তার কথা বলো..দেখো সব ঠিক করে দেবো..তোমার মত কেউ তাকে এমন ভাবে ভালোবাসে সে যদি জানে দেখ সে তোমাকে ফিরিয়ে দিবে না। আর যদি দেয়ও আমি তাকে ধরে বেধে নিয়ে আসবো তোমার! আই প্রমিজ। মায়া: মুচকি হেসে..আচ্ছা কবি তুমি আমাকে পড়াতে এসেছো নাকি গল্প করতে? শোনো সবকিছু জোর করে হয় না! আমি জানি সে অন্য কাউকে অনেক ভালোবাসে! আমি তাদের মাঝে আসতে চাই না। আমি তো তৃতীয় কেউ! এইসব বাদ দাও এখন কবি! আমার আজ বাদে কাল পরীক্ষা! কবি: আচ্ছা তুমি আজকে একটা কাজ করবা ঠিক আছে? আজকে রাতে ঘুমানোর আগে তাকে খুব রোমান্টিক একটা ম্যসেজ দিবা। ওকে? মায়া: ওকে! পরদিন সকালে কবি ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কল টা করলো মায়াকে.."মায়া, তুমি তাকে ম্যসেজ করছিলা?" মায়া" হুমম" "মায়া তোমাকে না বলছি আমার সাথে মিথ্যা বলবা না! আমি জানি তুমি তাকে কোন ম্যসেজ দাও নি! কেন আমার সাথে মিথ্যা বলছো?" "তুমি কিভাবে বুঝলা কবি যে আমি তাকে কোন ম্যসেজ দিয় নি?" মায়ার প্রশ্ন।

"তুমি ভালো করেই জানো আমি কিভাবে বুঝি!" কবির উত্তর। মায়া কিছুটা থমকে গেল এই কথা শুনে..এক পলকের জন্য মনে হলো "কবি কি জানে যে ওর মনের মানুষ কবিই?" ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল মায়ার! কিচ্ছুক্ষন চুপ থেকে বললো "কবি আমি ঠিক করেছি আমি তাকে আমার কথা বলবো। কিছু কথা ক্লিয়ার করা উচিত আমার তার সাথে। খুব শিঘ্রি আমি তাকে সব বলবো। " কবি "এত্তক্ষেনে আমার মনের কথা বলছো!! তারও তোমার সাথে কিছু কথা বলার আছে! বলে ফেলো মায়া! তারাতারি বলেফেলো!" মায়া "তুমি কিভাবে বুঝলা তার ও আমার সাথে কথা আছে?" কবি " আমি যে হিমু।

হিমুরা সব জানে!" মায়া "কচু! আচ্ছা বলতো আমার তাকে ফোনেই বলা উচিত নাকি ফেস টু ফেস??" কবি "অবশ্যই ফেস টু ফেস বলবা। যত তারাতারি সম্ভব। ওকে?" মায়া "ওকে। " কবি "আচ্ছা তো কবে বলবা? আমি কি তোমার সাথে আসবো? আচ্ছা তুমি কি আমার সাথে প্রাকটিস করতে চাও তাকে বলার আগে?" মায়া " যেদিন আকাশে ভরা চাঁদ থাকবে। প্রকৃতির খুব কাছে থাকবো।

শুধু আমি আর সে। তখন বলবো! তুমি কিনবা তৃতীয় কেউ থাকবে না!" কবি "ওহ। আমি এখন তৃতীয় কেউ????" মায়া "কবি!! অফ যাও এখন। আমার পড়তে বসতে হবে। " এই ভাবে মায়া অবশেষে ঠিক করেই ফেললো যে তাকে সব কিছু বলে ফেলবে।

এই ভাবে লুকোচুরি খেলা আর ভালো লাগে না। কি বুঝলেন প্রিয় পাঠকেরা? :-) মায়া ঠিক করছে তো? ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।