আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কবি আর মায়ার গল্প! ১

স্বপ্নরা ডানা মেলুক ইচ্ছে মত ..নীল আকাশে. গল্পটার কেন্দ্রিয় চরিত্রে আছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে..ধরা যাক ছেলেটির নাম : কবি। আর মেয়েটির নাম : মায়া। দুজনেই নিউ ইর্য়ক নামক এক ব্যস্ত শহরে বাস করছে । ছেলেটি আর মেয়েটি এক ই উনি তেও পরছে। কবি মায়া কে চিনতো কিন্তু কখনো কথা বলে নি..কবির কাছে মায়া এমন একজন ছিল যাকে দেখে কৌতুহল জাগতো মনে..জানতে ইচ্ছে হতো...কিন্তু আগ বারিয়ে কখনোই কথা বলা হয়নি..আর এদিকে উনিতে এত এত ছেলে মেয়ের ভিরে মায়ার চোখে কবি খুব একটা পরেনি..মায়ার এর অনেক বন্ধু..প্রথম দিকে সে কবি কে চিনতোই না! কিন্তু হঠাৎ ই একদিন পরিচয় তাদের...মায়া কবির কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো.. মায়া দেখলো কবির খুব সুন্দর দুটি মায়াবি চোখ আর মিষ্টি একটা হাসি আছে..মায়ার মনে হলো.. কবি অনেক ভালো মনের একজন মানুষ।

সেদিন পহেলা বৈশাখ ছিল! উনিতে প্রোগ্রাম! চারদিকে হৈ চৈ! গান-বাজনা! সবাই সেজেছিল! মায়াও। খোলা চুল, বেলী ফুল, লাল টিপ, হাতে কাঁচের চুরি, লাল- আর সোনালী রঙের একটি সাড়ি। একা একা হেটে যখন সবার মধ্যে এলো কবি তাকে দেখে মিটি মিটি হেসেছিল। কবির হাতে একটা ক্যামেরা ছিল..বলতে সাহস পাচ্ছিল না যে কয়টা ছবি তুলতে দিবে কিনা। হঠাৎ ই মায়ার এক বন্ধু হাত ধরে নিয়ে গেল কবির সামনে আর বললো "এই কবি ভাইয়া, আমার আর মায়ার কিছু ছবি তুলে দেন না!" হাসিমুখে রাজি হয়েছিল কবি।

"আমি কবি" বলে হাত বারিয়ে দিল। "মায়া" হাসিমুখে শুধু এটকুই বলে ছিল মায়া। আগেই বলেছি মায়ার উপর কবির একধরনের কৌতুহল ছিল। মায়াকে দেখে কবির সব সময় উপন্যাসের কোন নায়িকা মনে হতো। মায়া বেশ হাসিখুশি প্রানচন্ঞল একটা মেয়ে..যাকে দুর থেকে দেখেই কবির মন ভালো হয়ে যেত।

প্রথম যখন কথা হলো তার মায়া আর কবি ফেসবুক নামক সামাজিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একে অপরকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট করলো। তখন থেকে তারা হয়ে গেলো ফেসবুক ফ্রেন্ড। মায়া প্রতি রাতে অনেক রাত পর্যন্ত অনলাইনে থাকতো..গান শোনা, গেমস খেলা ..এগুলো ছিলো মায়ার প্রতিদিন কার রুটিন। কিন্তু কবি যখন মায়ার ফ্রেন্ড লিস্ট এ এলো তখন রুটিনে স্লাইট পরিবর্তন দেখা দিল। কবি প্রতিরাতে মায়া কে অনলাইনে দেখলেই নক করতে লাগলো.. মায়া আর কবির ধীরে ধীরে কথা হতে লাগলো..আস্তে ওদের মধ্যে একধরনের বেশ ভালো বন্ধুত্ব গরে উঠলো।

মায়ার যদিও অনেক বন্ধু ছিল কিন্তু কবি ধীরে ধীরে ঐ সব বন্ধুদের ছারিয়ে মায়ার প্রিয় হতে লাগলো। এক সময় মায়ার খেয়াল হলো কবি ধীরে ধীরে মায়ার কাছে চলে আসছে..মায়া কোন এক অজানা কারনে চাইনি কেউ তার এত কাছে আসুক যাতে পরে কষ্ট পেতে হয়। হঠাৎ করেই মায়া অনলাইনে আসা কমিয়ে দিল। কবি কে বুঝতেও দিল না যে সে তাকে এরিয়ে যেতে চাচ্ছে। হঠাৎ ই দুজনে খুব কম কথা হতে লাগলো।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কলেজের শেষ সেমিস্টার এ দুজনের এক সাথে একটি ক্লাস পরলো..এবার না দেখা করে কই যায় মায়া! ক্লাস প্রজেক্টেও এক ই গ্রুপে পরলো তারা! দুজনের কথা হতে লাগলো পড়াশুনা নিয়ে। এক ই সাথে নিজেদের নিয়েও। মায়া আবিষ্কার করলো কবি এমন একজন মানুষ যে যেকোন সময় তার মন খারাপ হলে এক ঝটকায় ভালো করে দিতে পারে...মায়া আরো জানলো কবির একজন ভালোবাসার মানুষ আছে..যে সূদুর বাংলাদেশে থাকে..আর যার জন্য কবি হাসতে হাসতে নিজের জীবন দিয়ে দিতে পারে। কবির প্রতি মায়ার রেসপেক্ট আরো বেরে গেল। তখন নিজের মনের অজান্তেই কবিকে মায়ার ভালো লাগতে লাগলোকবির মন খারাপ হলে মায়ার মনও খারাপ হয়ে যেতে লাগলো! কেউ কবির প্রশংসা করলে মায়ার মন গর্বে ভরে উঠতে লাগলো।

কবিকে দেখলে মন ভালো হয়ে যেতে লাগলো। মায়া গনিতে বেশ কাঁচা ছিল। আর কবির গনিত প্রিয় সাবজেক্ট ছিল। কবি মায়াকে হেল্প করতে লাগলো..বিনিময়ে মায়া গ্রুপ প্রজেক্টে কবির সব কাজ করে দিতে লাগলো...অনেক টা গিভ ন টেক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দুজনের মধ্যে। হঠাৎ করেই মায়া বুঝতে পারলো যে সে এক ধরনের টান অনুভব করছে কবির উপর।

বুঝতে পেরেই খুব সতর্ক হয়ে গেল মায়া। চেষ্টার চরম মাত্রায় রইলো সব সময় যাতে কবি কখনোই বুঝতে না পারে। কবিকে সে বলেছিল যে কাউকে খুব পছন্দ করে সে কিন্তু কখনোই নাম বলে নি মায়া। একদিন বিকেলে দুজনে গেল কোন এক সাগর সৈকতে ..ফ্যায়ার অয়ার্ক দেখতে... তখন দুজনকার কিছু কথা আমরা এখন শুনবো :-) কবি : আচ্ছা মায়া, তোমার কাহিনী কি বলতো! আমি জানি তুমি কাউকে পছন্দ করো! কিন্তু কাকে করো? কে সেই ভাগ্যবান? আমাকে বলবা ন? (উত্তরে মায়া শুধু হাসে) হাসলে হবে না! আজকে তোমাকে বলতেই হবে! মায়া: কেউ নেই কবি! ওটা আমি ফাজলামো করেছি :-) কবি: না মায়া! আমি জানি কেউ আছে! কে সে? বলো আমাকে! আমি কি তোমার শত্রু? আমি কি তাকে তোমার কাছ থেকে নিয়ে যাব? মায়া: না! তা কেন? কবি: তা হলে? প্লিজ বলো আমাকে!!! আজকে তোমাকে বলতেই হবে! মায়া: আমরা কি এসব কথা বলতে এসেছি? আমরা তো এখানে আলোক সজ্জা দেখতে এসেছি। তাই না? এসব কথা পড়েও বলা যাবে কবি! কবি: না মায়া! আজকে তোমাকে বলতেই হবে! তুমি সব সময় এরিয়ে যাও! কেন? আমি কি তোমার বন্ধু না! আমি তো তোমাকে আমার লাইফের সব কথা বলেছি! ওর ছবিও দেখিয়েছি! তাহলে তুমি কেন পারবে না!! এমন না যে আমি আমার কথা সবাইকে বলে বেরাই! খুব অল্প কয়েকজন জানে আমার ভালোবাসার মানুষটার কথা।

আর তুমি তাদের মধ্যে একজন! আমি তো শুধু তার নামটাই জানতে চাইছি! আর কিছু না! তোমাকে তার ছবি দেখাতে হবে না! গিভ মি এ ভ্যালিড রিজন মায়া..কেন তুমি আমাকে বলতে চাইছো না! মায়া: (বুঝতে পেরে যে এবার কিছু বলতেই হবে) কবি, যে কারনে আমি এই বিষয়ে কথা বলতে চাই না তার কারন হলো...আমি যাকে ভালোবাসি সে অন্য কারো! অন্য কাউকে নিয়ে তার প্রতিদিনের শুরু! তাকে ভালোবাসা আমার জন্য এক ধরনের অন্যায় বলতে পারো! নিজের মনের অজান্তেই তাকে ভালোবাসে ফেলেছি! কবি আমি চাই না সে কখনোই আমাকে ভুল বুঝক! আমি চাই সে আমার এ অনুভুতির কথা না জানুক! আমি চাই তাকে ভুলে থাকতে! কিন্তু তুমি সব সময় আমাকে সে অনুভুতির কথা মনে করিয়ে দাও! তোমার কাছে একটা অনুরোধ কবি! তুমি কখনো তার কথা মনে করিয়ে দিও না আমাকে প্লিজজজ! তখন হঠাৎ ই ভরা পূর্নিমার রাতের আকাশে বেশ শব্দ করে ফ্যায়ার ওয়ার্ক শুরু য়ে যায়..কবি চিৎকার করে বলে ওঠে...মায়াআআআআআ দেখ..কি সুন্দর!!! দুজনে চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে রাতের আকাশের দিকে। এত এত মানুষের ভীরে মায়া শুধু একবার কবির দিকে তাকিয়ে নীরবে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেললো..কবি সে বুঝতেও পারলো না! ফিরে যাবার সময় কবি বললো " আমার কেন মনে হয় যে তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে আমি চিনি? মায়া, আমার অনুরোধ তুমি তাকে কথাটা জানিয়ে দাও! যদি তুমি মনে করো যে তুমি তাকা ভালোবাসো তবে তাকে জানিয়ে দাও! আর যদি মনে করো এ এক ধরেনের ইনফ্যাচিয়েশন দেন দরকার নেই" মায়া বললো " তোমাকে আগেও বলেছি তার একজন ভালোবাসার মানুষ রয়েছে! কেন শুধু আমি তাকে বিব্রত কর অবস্থায় ফেলবো বলো? আর আমি চাই না সে আমাকে ভুল বুঝুক। সে থাক তার ভালোবাসার জগতে আনন্দে। " কবি আর কিছু বললো না। তার পর তারা নীরবে যার যার বাড়িতে চলে গেল।

গল্পটা আজ এ পর্যন্তই থাক :-) বাকিটুকু আমরা অন্য দিন শুনবো! পাঠকের কাছে একটা প্রশ্ন : আপনাদের কি মনে হয় মায়ার উচিৎ কবি কে বলে দেয়া যে কবিই সেইমানুষ যাকে মায়া ভালোবাসে? ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।