আমি আঁধারে তামাসায় ঘেরা জীবন দেখেছি, আমার বুকের ভেতর শূন্যতা থেকে শূন্যরা এসে বাসা বেঁধেছে, আমি খুঁজেছি তোমাকে সেই আঁধারে আমার মনের যত রঙলীলা; আজ সাঙ্গ হতেছে এই ভবের বাজারে।
একটি বিশেষ হারানো বিজ্ঞপ্তিঃ
বাংলাদেশের বীরঙ্গনা মায়েরা হারিয়ে গেছেন। তাঁদের অনুসন্ধান চলছে। যদি সত্যিকারের কোন দেশপ্রেমিক সেই সব মায়েদের সন্তান থেকে থাকেন তবে তাঁদের বীরঙ্গনা মায়েদের সন্ধান দেয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
আমাদের একাত্তুরের বীর-বীরঙ্গনা পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামটি লিখে দিয়ে আমাদের দিয়েগেছেন আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদার নিশ্চয়তা ।
তাঁরা আমাদের স্বাধীনতার বীর সৈনিক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীর সময় অনেক মা / বোন পাকিস্তানী হায়নাদের জুলুম নির্যাতনে তাদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময় আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। লক্ষ বীরঙ্গনা রয়েছেন আজো এই বাংলাদেশের মাটিতে একটু সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার করুন আকুতি নিয়ে। আজ এ স্বাধীন দেশ আমরা কতটুকু দিতে পেয়েছি সেইসব বেঁচে থাকা বীরঙ্গনাদের?
দেখতে পুতুলের মতই ছিলো ১০/১১ বছর বয়সেই পুরো ৯ মাস পাকিস্তানীদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে।
এমন কোন রাত নেই যে বর্বর পশুগুলো তাকে ভোগ করেনি। সেদিনের সেই বিভীষিকাময় ১৯৭১ এর মার্চের শেষের দিকে শহরের এক পাকিস্তানী সেনাদের দোসর তাকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে যায় রেলষ্টেশনে পূর্ব পার্শ্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি দ্বিতল ভবনে। সেখানে নিয়ে অবস্থানরত পাকিস্তানী হায়েনাদের হাতে তুলে দিয়ে বাহাবা নিয়ে সটকে পরে রাজাকার। প্রথম দিনে ৯ জন হায়েনা পশুর মত ঝাপিয়ে পরে পুতুলের উপর। সারা রাত ধরে সম্ভ্রম হানি করে।
অল্প বয়েসে পাশাবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরে পুতুল দেখে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে ক্যান্টনমেন্টে। সেখানে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর প্রতিদিন রাতেই ভোগ্যপণ্যের মত পুতুলকে ভোগ করেছে খান সেনারা। সম্ভ্রম হানি শেষ হলে হাফফ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে হাত পায়ে শিকল বেঁধে তাকে তালাবন্ধ করে রাখা হতো বড় একটি কাঠের আলমারীতে। গভীর রাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হতো বন্ধভূমিতে।
সেনারা হত্যাযঞ্জ চালার পর গাড়ীতেই পুতুলকে নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠত। এক সাগর রক্তের বিনিময় দেশ স্বাধীন হয়েছে। ডানহাতে বেয়নেটের আঘাত সহ শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন আর মানষিক যন্ত্রনা নিয়ে আজও বেঁচে আছেন একজন বীরঙ্গনা নারী পুতুল। শহরে রেলষ্টেশন সংলগ্ন একটি বস্তিতে কোন রকমে মাথা গুজার ঠাই হয়েছে এই বীরঙ্গনার।
আমাদের শরীরের চামড়া দিয়ে যদি জুতা বানিয়ে তাঁদের পায়ে পরতে দেয়া যায় তবু তাঁদের ঋণ শোধ হবার নয়।
তবু যদি তাঁদের জন্য কিছু করে যেতে পারি তবে নিজের আত্মার কাছে পরিতৃপ্তি নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে চিরতরে ঘুমাতে পারব এই আশা নিয়ে স্বপ্ন দেখছি। কথায় কথায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব বোধ করি। মুক্তিযুদ্ধের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান জানাই চালিয়ে যাচ্ছি সংগ্রাম একাত্তুরের ঘাতকদের বিচারের দাবীতে কিন্তু ঠিক একই সময় আজ বেয়াল্লিশ বছর পরেও অবহেলিত থেকে গেলেন আমাদের বীরঙ্গনা মায়েরা। আমরা কি তাঁদের চোখের পানিটুকু মুছে দেয়ার মত মন নিয়ে এগিয়ে আসতে পারিনা? এর জন্য দরকার হবে না কোন সংগ্রাম কিংবা অনশন শুধু দরকার আমাদের ভেতরকার মানুষটির জাগরন। আসুন আমরা এবার সত্যি জেগে উঠি আমাদের মায়েদের চোখের পানি মুছে দেয়ার গণজাগরণে দিক্ষিত হয়ে।
এই কার্যক্রমের তিনটি লক্ষঃ
১. আর্থিক অনুদান প্রদান
২. মানসিক সংহতি প্রকাশ
৩. সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা
এই কার্যক্রম পরিচালনার তিনটি ধাপঃ
১. আমরা প্রথমে নিজ নিজ স্থান থেকে নিজেদের এলাকার কিংবা যে কোন উৎস হতে সেই সব বীরঙ্গনা মায়েদের নাম, ঠিকানা, ত্যাগ এবং বর্তমান জীবন যাপন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে একটি তালিকা তৈরি করব।
২. আমরা যে যার সাধ্যমত নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটি তহবিল গঠন করব। যে তহবিল থেকে তাঁদের জন্য পরিচালিত হতে থাকা আমাদের কার্যক্রম এর জন্য স্থির করা তিনটি লক্ষ বাস্তবায়িত হতে থাকবে।
৩. আমরা তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য কিংবা তাঁদের মধ্যে থেকে যাদের সাথে সামাজিক ভাবে অন্যায় করা হচ্ছে আমরা প্রয়োজনেআইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের জন্য লড়াই করব।
এই কার্যক্রমটি কারো একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় তাই আপনাদের সাহায্য সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
কারন আমরা মনে করি আমরা সবাই বীরঙ্গনামায়েরই সন্তান। আর সন্তান হিসেবে আমাদের কর্তব্য আমরা পালন করবই যত বাঁধাই আসুক আমরা লড়াই করে যাব।
ফেসবুক ইভেন্ট
Click This Link
যোগাযোগ করুনঃ
আমিনুর রহমান- ০১৭৫৫৩০৬০২১
কান্ডারী অথর্ব- ০১৯৩০০৭৪৯০১
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।