আমার কি আছে , অথবা কি ছিল,ফুলের ভিতরে -বীজের ভিতরে যেমন আগুন.....
একটি বহুজাতিক সংস্থার কাজ শেষে -যশোর থেকে ঢাকা ফিরছি ।
সময়ের সাথে সাথে ছুটে চলেছি আমি , আমার জীবন। জীবিকার প্রয়োজনে ।
জীবিকা-বেঁচে থাকার উপকরন সংগ্রহের জন্যে । আর কী আশ্চর্য, বেঁচে থাকার উপকরন সংগ্রহ করতে করতেই বেঁচে থাকা ফুরোবে একদিন ! তাহলে কী অর্থ দাড়ালো বেঁচে থাকার ? স্রেফ বেঁচে থাকা - আর তার আয়োজন ।
ব্যস্ এই ই-ই!
কী অর্থহীন !
এই ছুটে চলা অর্থহীন , অর্থহীন এই কাজের চাপ- যা আমাকে আত্মবিস্মৃত করে দেয় ।
ছুটে চলেছে এয়ার কন্ডিশান্ড মার্সিডিজ বেঞ্জ । দুপাশের ঘরবাড়িগুলো আমাকে ফেলে দৌড়োচ্ছে পেছনে । বাইরের বাতাসের প্রবেশ নিষেধ এখানে। ধুলোময় বাতাস , সরষে ফুলের গন্ধময় বাতাস, এমনকি পদ্মার ভেজা ভালবাসাবাহী বাতাস - যা ফুরিয়ে আসা আমাকে নবীকৃত করে।
পথের দুপাশে অসংখ্য দৃশ্যপট, অসংখ্য মানুষের মেলা সরে সরে যায় । হঠাৎ হঠাৎ একেকটা দৃশ্য মনও টেনে নেয় চোখের সাথে সাথে ।
এখন বিকেল । ফুরিয়ে আসছে আজকের দিন । দীর্ঘ লাইন গাড়ীর ।
পথের পাশে কোন এক আঙিনায় - কোন এক মহিলার চুল আঁচড়াতে বসার মত সাধারন দৃশ্যও বড় অভাবনীয় লাগে । অদ্ভুত লাগে । বুকের মধ্যে হু হু করে ওঠে । ওই যে নারী নিজ বাড়ির আঙিনায় বসে - তার রয়েছে স্থিতি । সময় ছুটছে ওখানে ধীরে ।
অভ্যস্ত, তাড়াহীন, স্বস্তিতে গুছিয়ে নিচ্ছে নিজেকে । সারাদিনের আকন্ঠ নিমজ্জিত কাজ শেষে তাকে ছুটতে হচ্ছে না দ্রুতগতির কোন যানে - কোন অনির্দিষ্ট গন্তব্যে ফেরার অপেক্ষায় । তাড়া নেই তার ।
আমার আছে । আমার থাকেই ।
এবং থাকবেই । কেননা, আমি জানিনা আমার গন্তব্য । এইযে যেখানে ফিরছি সেতো নয় আমার গন্তব্য । আরো অনন্ত কাল , হয়তো চিরকাল এভাবে ছুটতে হবে আমাকে । এক গন্তব্য থেকে
ক্রমাগত ভিন্ন গন্তব্যের খোঁজে ।
আর তাই আমাকে বিষন্ন করে ওই নারী, তার আটপৌরে ভংগী, তার দুয়ারে ধীরে সন্ধ্যার এই নেমে আসা । আমাকে তৃষ্ণার্ত করে তার স্বস্তিতে গুছিয়ে বাধা চুল।
ওর যা আছে আমার তা নেই যে!
**************************************
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।