আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ল্যাবরেটরী,প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা আর আমি

পড়ালেখা ছাড়া আর সব কিছুই অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করি........... ল্যাবরেটরী কথাটা শুনলেই আমার বেশ কিছু মজার ঘটনা মনে পড়ে। কিছু কিছু তিক্তও বটে। বিশেষ করে আমি যখন ক্লাসে বা পরীক্ষায় রসায়ন বা পদার্থবিজ্ঞানে কোন গ্রুপের গ্রুপ ক্যাপ্টেন। বলতে কি আমার মনে হয় আমি বিশ্বের সবচে ব্যর্থ ক্যাপ্টেন। কেননা আমি কোনদিনই একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি বিশেষ করে পরীক্ষায়।

আমি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি ফিজিক্স প্রাকটিক্যালের সময়। ফিজিক্স পরিক্ষার প্রথমেই আমাদের গ্রুপক্যাপ্টেনদের ঠিকঠাকভাবে ইন্সট্রুমেন্টগুলো নিতে হয়। কিন্তু প্রতিবারই আমার কোন না কোন একটা নিতে ভুল হবেই। আর ভুল হলেই মাইনাস মার্ক। কিন্তু আমি স্যারদের বিশেষ প্রিয়পাত্রী বলে প্রতিবারই ছাড় পেয়ে যাই।

সেও না হয় গেল। আমি যেহেতু ক্যাপ্টেন,তাই আমাকেই হিসাব মিলাতে হয়। আমার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমি কোনবারই হিসাব মিলাতে পারিনি। একারণে আমার কারণে দলের অন্যদের সমস্যায় পড়তে হয়। ওরা নেহা্য়েত অনেক ভালো তাই আমাকে কিছু বলে না বা আমার নামে কমপ্লেইনও করে না।

বরং আমাকে গোঁজামিল দিয়ে হিসাবটা মিলাতে সাহায্য করে। রসায়ন প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার সময় আমি জীবনেও কিছু পড়ে যাই না। তাই সবসময়ই আমাকে অন্যের খাতা দেখে বা বই দেখে লিখতে হয়। তো একবার আমি আরামসে পরীক্ষার খাতার নিচে বই রেখে লিখছি। জানালার পাশে বসেছিলাম।

খেয়ালই করিনি কখন হেডস্যার জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। যখন দেখলাম আমি তো ভয়ে শেষ। ভাবছি কোনটি হবে-টিসি নাকি এক্সপেল্ড!কিন্তু স্যার আমাকে হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করলেন আমার পরীক্ষা কেমন হচ্ছে!কোনমতে সামলে নিয়ে উত্তরটা দিলাম। স্যার তারপর জিজ্ঞাসা করলেন কেউ পরীক্ষায় দেখাদেখি করছে কিনা!!!বললাম,"না স্যার খুব ফেয়ার পরীক্ষা হচ্ছে এবার। "স্যার তো দেখলাম খুব খুশি মনে চলে গেলেন।

খেয়ালই করেননি আমারই খাতার নিচে বই ছিল। অমন স্বস্তি জীবনে খুব কমই পেয়েছি। আরেকবার হায়ার ম্যাথ ভাইভায় স্যার আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,"কি ব্যাপার শুনলাম কেউ কেউ নাকি চিরকুটে লিখে নিয়ে আসে?কারা কারা আমাকে একটু বলো তো। " আমার ভাগ্য ভালো,স্যার চেক করলে আমার পকেটেও একটা ওরকম চিরকুট পেতেন। ঐবারই বায়োলজি প্রাকটিক্যালে সবাই খুব চিন্তিত,কেউ ভাইভায় এ এর চেয়ে বেশি পাচ্ছে না।

যে সবগুলোর উত্তরও দিতে পারছে সেও না। আমি তো ভয়ে ভয়ে গেলাম। স্যার আমাকে আমার নাম,বাসা কোথায় আর কিসে আসা-যাওয়া করি জানতে চাইলেন। ফলাফল খাতার উপর বড় করে এ প্লাস। [ঐবার আমিই একমাত্র এ প্লাস পেয়েছিলাম।

] [লিখে তো ফেললাম,এখন ভয়ে ভয়ে আছি,যদি বাইচান্স পরিচিত বড়রা কেউ পড়ে আর বুঝে ফেলে এটা আমি তাহলে তো আমি শেষ!] ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।