২০০৮ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর একটি প্রবণতা চালু হয় তা হল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো কোন ঘটনার শিকার হন। প্রাথমিকভাবে এ ধরণের মন্তব্য বিএনপি-জামাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শুরু করে। অনেকে হত্যাকাণ্ড কামনা করে, অনেকে হত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করে। এখন মাঠ পর্যায়ের অনেক পাতি-নেতাও নেতৃবৃন্দের অনুসরণে প্রকাশ্যে এ ধরণের বক্তব্য/ মন্তব্য শুরু করে। যে দল বা তাদের সমর্থকরা নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে দাবী করে সেই দল এ ধরণের মন্তব্য করবে এটা কি স্বাভাবিক? জনগণ ক্ষমতার উৎস এই বাণীর পরিবর্তে ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ডই ক্ষমতার উৎস এ ধরণের কোন নীতি দলীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করবে কি-না এখনও এ ধরণের কোন তথ্য জানতে পারিনি।
রোমান সূর্য-পূজারী ও ব্ল্যাক ম্যাজিক:
বিরোধী দল হিসেবে চার-দলীয় জোটের মূল কর্মকাণ্ড বা প্রচারণা দৃশ্যত দুটি।
১) ইসলাম নিয়ে মহা-দুশ্চিন্তা
২) আরেকটি ১৫ই আগস্ট ঘটাবার ইচ্ছা
নেপথ্য কর্মকাণ্ড যে ষড়যন্ত্র এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইস্যু দুটি সমন্বয় করতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি তাহলে ভাবতে হবে ইসলাম কি কারো মৃত্যু কামনা অনুমোদন করে? An outlook on the hostory of world's religion (James Mellaart, McGraw-Hill) এ খ্রিস্টান ধর্মের প্রসার বিশ্লেষণ করতে ২০০০ বছর আগের রোমান সভ্যতার ধর্মীয় প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়েছে। রোমের শাসকদের অবস্থান ছিল যিশু খ্রিস্টের প্রতিপক্ষ হিসাবে। তৎকালীন রোমের অধিবাসীরা অনেক দেবতার পূজা করতো কিন্তু মূল ধারাটি ছিল সূর্যদেবটার অনুসারী।
সপ্তাহের যে দিনগুলো Sunday, Monday এগুলো সবই সে সময়ের বিভিন্ন দেবতার নাম। সূর্য-পূজারীদের একটি অংশ বিভিন্ন সাধনা/যজ্ঞের পাশাপাশি কারও মৃত্যু-কামনা বা ক্ষতি সাধনের শক্তি অর্জনের জন্য বিশেষ সাধনা করতো। সেন্ট পল যখন খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার শুরু করে অপশক্তি অর্জনের পূজারীদের প্রতি সাধারণের ভীতি - এটি ছিল অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কালো-যাদু বা ব্ল্যাক-ম্যাজিক অনুশীলনের কথা জানা যায়। এই অনুসারীদের বিশ্বাস ভাল এবং খারাপ কাজের জন্য দুজন দেবতা আছে, কালো-যাদুর শক্তি অর্জনের জন্য তারা শয়তানের পূজা করতো।
মহাভারত, রামায়ণসহ মিথলজিগুলোতে দেখা যায় রাক্ষস/খল-নায়করাও বিভিন্ন শক্তির অধিকারী ছিল।
পৃথিবীর কোন ধর্ম কি কারো মৃত্যু কামনা অনুমোদন করে?
চার-দলীয় জোটের নেতাদের কথায় মনে হয় ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত নয়। ইসলাম ও জুডিও-খ্রিস্টান ধর্মের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেরাউন ছিল মুসা(আঃ)/মোজেস এর প্রধান প্রতিপক্ষ। ফেরাউন অত্যাচারী শাসকের প্রবাদ পুরুষ। মুসা(আঃ) স্বয়ং আল্লাহর সাথে কথা বলতেন।
তিনি কি কখনও ফেরাউনের মৃত্যু কামনা করেছেন? না। নিজেকে শক্তি দান করার প্রার্থনা করেছেন।
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যখন ইসলামের বাণী প্রচার শুরু করেন তৎকালীন আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে ৩৬০ দেবতার অনুসারীদের মধ্যে ২/৩ জন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর মৃত্যু কামনা করতো তীব্রভাবে। তিনি সহ বিভিন্ন জনের মৃত্যুর জন্য যাদু-টোনার আশ্রয় নেয়ার কথাও আমরা জানি। রাস্তায় কাঁটা পুতে রাখা মহিলাটির মতো অনেকে ষড়যন্ত্রের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
আল-কোরআন কি বলে?
১) সুরা বাকারার ১৬৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে, "Oh humankind, eat of what is on the earth, good and lawful for you, and follow not the footsteps of the devil, for he is to you an avowed enemy."
শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনাকারীরা কাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করছে?
২) আরও বলা হয়েছে, "You should love and help your neighbours."
প্রতিবেশী যদি সহানুভূতিশীল না হয় সে ক্ষেত্রে কি নির্দেশনা?
সুরা মাউন এর ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, "Woe to those people who do not even provide neighbourly assistance."
৩) সুরা হুজুরাত এর ১২ নং আয়াতে বলা হয়েছে কটূক্তি ও গীবত না করার জন্য। ৪-দল কি মৃত-ভাইয়ের মাংস খাচ্ছে না! "Do not speak ill of one another behind their backs. Are you ready to eat the dead meat of your brother?
ভাবতে খুব অবাক লাগে চার দলীয় জোটের শীর্ষ-নেতৃবৃন্দসহ তাদের অনুসারীরাও কোন ন্যূনতম নৈতিকতার কথা না ভেবে দায়িত্বহীন মন্তব্য করে যাচ্ছে। এ তালিকায় মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে !
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দলমত নির্বিশেষে সকলেরই তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশের সরকার এ সীমাবদ্ধতা অস্বীকার করতে পারবেনা।
কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে এ ধরণের অভিযোগ সততার সাথে কেউ তুলতে পারবেনা। তাদের কি জনগণের প্রতি আস্থা নেই? তাদের কি বদ্ধমূল ধারণা যে জনগণ তাদের পাশে থাকবে না! একটি গণতান্ত্রিক দলের তো নীতি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল নয়।
শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা, আরেকটি ১৫ই আগস্টের স্বপ্ন দেখা; তাদের হীন মানসিকতা নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করে ইসলাম তাদের ক্ষমতায় যাবার পুঁজি। তারা কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা সূর্য-দেবতার বা শয়তানের পূজারী।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।