বিনা অপরাধে যারা শাস্তি পায়, তাদের কষ্ট শেয়ার করা যায় না।
আজ থেকে চার বছর আগে, আমি ও আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গেলাম কক্সবাজারে। আমরা প্রথমে ট্রেনে করে চট্রগ্রামে গেলাম। ওখানে গিয়ে সকালের নাস্তা করে বাসে করে গেলাম কক্সবাজারে। ওখানে সী ক্রাউন হোটেলে উঠলাম।
সন্ধার সময় সবাই ঠিক করল ড্রিংস করবে। আমি মানা করলাম, কারন আমি ওদের মধ্যে ছিলাম সবচেয়ে ভীতু। আর আমি আগে কখনও ড্রীংস করিনি। কিন্তু বন্ধুদের এক কথা, এক সাথে এসেছি, এক সাথেই সব জায়গায় যেতে হবে। কি আর করা ওদের কথায় সায় দিলাম।
আমরা প্রথমে গেলাম হোটেল শৈবালে। এটা নাকি সরকারি হোটেল। হোটেল গিয়ে দারোয়ান কে জিগাসা করলাম বারটা কোন দিকে? সে বলল, সোজা গিয়ে ডানে। ডানের রাস্তাটা দেখলাম ভালই অন্ধকার। একটু পরে দেখলাম আরের দারোয়ান, হঠাৎ করে বিশাল সালাম দিয়ে বলল, স্যার বামে যান।
আমি একটু ভয়ই পেয়ে গেয়েছিলাম। পরে বন্ধুকে বললাম, মামা এত বড় সালাম দিলো কেন? বন্ধু বলল, টিপসের জন্য। বামে গিয়ে বারে ঢুকলাম। বারের ভিতরটা অনেকটা অন্ধকার ছিলো এবং নিরিবিলি পরিবেশ। যে যার মত মদ খাচ্ছে, বিড়ি খাচ্ছে।
অবাক হলাম একটা জিনিস দেখে, এটা ফরেন বোরকাওয়ালা মেয়ে বারে বসে মদ খাচ্ছে। ফরেন মহিলা মদ খাইতেই পারে কিন্তু সে বরকা পরবে কেন? এই কেন আজ ও বুঝলাম না। পরে আমার ব্ন্ধু টা স্কসের অর্ডার দিল। ভয়ে ভরে খেলাম, খুব যে বেশি স্বাদ পাই নাই এটা ঠিক। আমি দুই পেগ মারলাম, সত্যি বলতে কি মাতাল হই নাই।
মদ খেয়ে বের হবার পর ঠিক করলাম আরেকটা হোটেলে যাব। আমরা তারপর গেলাম হোটেল সাইমন্ডে। হোটেল সাইমন্ডে গিয়ে অবাক হলাম। এই পরিবেশটা নিরিবিলি না। এখানে পাবলিকও বেশি।
আর এই হোটেলের দেয়ালে নেকেট ছবি দেওয়া আছে। এখানে অব্শ্য কোন মেয়েকে দেখি নাই। আমার বন্ধুরা একানে আরেক ধাপে ড্রিংস করল। আমি অবশ্য এবার বিড়ি ছাড়া কিছু খাই নাই। বন্ধু দুইজনই পুরা লোড ওরা এবার ঠিক করল হোটেল মিডিয়া যাবে।
ওখানে গিয়ে আমরা অবশ্য কোন মদ পাই নাই। শেষে সবাই মিলে আমরা হোটেল শ্রীগালে গেলাম। সেখানে বলল এখানে কার্ড ছাড়া মদ খাওয়া যাবে না। আমি বললাম কিসের কার্ড? ওর বলল, মদ খেতে ওরা লাইসেন্স লাগে। অবশ্য ওখানে আমরা কেউ এমনিতেও খেতে পারতাম না।
এমনিতেই অনেক ড্রিংস করা হয়েছে। ওরা বলল, আপনি চাইলে নিয়ে যেতে পারেন। পরে দেখলাম এক বন্ধু মামের বতল করে কি জানি নিয়ে হোটেল থেকে বের হল।
বের হয়ে দেখি রাস্তায় পুলিশ । আমাদের দেখে কাছে এসে বলল, ভাই কোন সমস্যা।
আমার হাতে সেই মামের বতল। আমি বললাম, না কোন সমস্যা নাই। সত্যি বলতে কি কক্সবাজারে পুলিসের সেই রাতের কথা আমার সারা জীবন মনে থাকবে। তারা বুজতে পারছে আমাদের কাছে মদ আছে। আর আমার দুই বন্ধর চোঁখ দেখলেই বুঝা যায় আমরা এই মাত্র ড্রিংস করে এসেছি।
কিন্তু সেদিন পুলিশ আমাদের কিছুই বলে নাই।
পরে আমারা আমাদের হোটেলর উঠলাম, রিলাক্স মনে সারা রাত কাটালাম।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।