উচিত কথা কমু, তাতে মসজিদ আর মাদরাসা কি তারেক মাসুদ মারা গেছেন-যথারীতি কিছুদিন খুব লাফালাফি হবে, পত্রিকায় রিপোর্ট আসবে,টিভিতে আলোচনার ঝড় ওঠবে, স্মৃতিচারণ হবে। ব্যস।
প্রেসিডেন্ট,প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করেছেন। আহারে দায়িত্ব শেষ। কিন্তু এই ঘোড়ার ডিম শোক প্রকাশ কী কাজে লাগে-আল্লাহই জানে।
উনারা শুধু শোক প্রকাশ করেই জাতি উদ্ধার করেন। কারণ উনারা জানেন- উনাদের চলাচলের পথ সদা পরিস্কার-একেবারে ফুলেল পরিস্কার। শুধু উনাদের না, উনাদের চৌদ্দগোষ্ঠীর জন্য পরিস্কার। তাইতো উনারা শোক প্রকাশ করেই পরম আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন, আর ঘোড়ার আন্ডা প্রসব করেন।
কিন্তু সদ ইচ্ছা থাকলে কি এই সব সড়ক দূর্ঘটনা কমানো যেতনা , অবশ্য যেত।
সেই হাইস্কুল থেকেই তো বিভিন্ন উপলক্ষে পড়ে আসছি সড়ক দূর্ঘটনা রোধের উপায়,. মানে উপায় জানা আছে , কিন্তু প্রয়োগ নেই । বরং আছে নিয়মের অপপ্রয়োগ।
বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টই শালার ঘোষখুর। ড্রাইভারের লাইসেন্সের কোনো তোয়াক্কা নেই, ড্রাইভার ও ড্রাইভার, আবার হেলপার ও ড্রাইভার। আবার লাইসেন্স ছাড়াও ড্রাইভার।
কারণ ঘুস দিলেই কাম শেষ। বাজার থেকে টুংগা ভরে মুড়ি আনার মতো এ দেশে পয়সা দিলেই দুনম্বরী লাইসেন্স পাওয়া যায়।
গাড়ীর ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়না। স্টীয়ারিং ডানে ঘুরালে বামে যায়, বামে ঘুরালে ডানে যায়। লক্কর যক্কর মার্কা গাড়ী রাস্তায় চলছে তো চলছে।
ছোটকালে পড়েছিলাম- অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে, কিন্তু তেলাপোকা এখনো টিকিয়া রহিয়াছে। বাংলাদেশ বলা যায়- দাদা , বাপ , পোলা মারা গিয়াছে কিনত্ তাদের লক্কর যক্কর মার্কা গাড়ি এখবো অবাধে রাস্তায় চলিতেছে।
এবার আপনি নিরাপদে গাড়ী চালালে যে বেঁচে যাবেন-তার কোনো গ্যারান্টি নাই। কারণ চারপাশে শতশত আজরাইল আপনার ডানে, বামে সামনে পিছনে বেপোরোয়া ছুটছে তো ছুটছে। একটার গায়ে লাগলেই-- আপনার ঠিকানা হসপিটালের মর্গ।
সরকার ইচ্ছে করলে এদের কন্ট্রোল করতে পারে, কিন্তু করবেনা। কারণ ,উনারা যে নিরাপদ।
এবার আসি রাস্তা মেরামতে। গাড়ি চলবে কি? ম্যানহুলের ঢাকনা নেই, রাস্তা মেরামতের এক বৎসরের মাথায় রাস্তায় আয়ু শেষ। কারণ রাস্তা বরাদ্দের শতকার ৮০ ভাগই বিভিন্ন সেক্টরে ইতোমধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে গেছে।
বাকি ২০ ভাগ ফাকি জুকি ছাড়া আর কিছুই নাই। শুধু বলা হয় দেশে জনসংখ্যা বেশি তাই এ অবস্থা । মানলাম এটা একটা কারণ। কিন্তু জনসংখ্যার নাম ভাংগিয়ে নিজেদের মুখের ভিতর আর হুগার ভিতর যে পয়সা ঢুকিয়ে বসে থাকেন- তার কি হবে। শালা লুটেরা শুয়োরের বাচ্চারা।
হসপিটালে সড়ক/লন্চ দূর্ঘটনায় মৃত কোনো সন্তানের পাশে বসা মাকে যখন সান্ত্বনা দিনে কোনো নেতা নেত্রী হাজির হন- তখন মনে মনে বলি- আহারে কী সুন্দর নাটক। অক্ষম আমি শুধু ওদের মুখের সামনে গিয়ে বলতে পারিনা- যা শুয়োরের বাচ্চারা ভাগ,যা ০্তমারানি ভাগ।
এদেশের জনগণ যতদিন পর্যন্ত এইসব লুটেরা,ঘুষখোর, টাউর রাজনীতিবিদ ,ক্ষমতালোভি নরপিশাচ শ্রেণীর বিরুদ্ধে পরিপূর্ন ভাবে রুখে না দাঁড়াবে- ততদিন পর্যন্ত এদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।