আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যাক, দেশ ঠিক পথেই এগোচ্ছে!

স্বপ্ন ছুঁয়ে জানেন, গত দুই দিন আগে আমার আত্বা কেঁপে উঠেছিল! ভয়ে! রীতিমত ব্যাপক ভয় পেয়েছিলাম। কারনটা খুলেই বলি। ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্ট মাত্রই অবগত আছেন যে, ইঞ্জিনিয়ারিং এর সিলেবাসে কিছু হিউম্যানিটিজ (মানবিক বিভাগ) এর কিছু কোর্স করতে হয়। তো তারই ধারাবাহিকতায় এবারের টার্মে এই অধমের এক খানা কোর্স পড়ছিল ভাগ্যে। তাহার নাম Government।

কি পড়ান হয় এতে? আরে ভাই পৌরনীতির হাবিজাবি! তো এই সাব্জেক্ট এর কমন একটা কোশ্চেন হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র আলোচনা! সোজা প্রশ্ন, কিছু পয়েন্ট লিখলেই নম্বর কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সংবিধানের চরিত্র আলোচনা করতে গেলে শুধু ভালো বললেই হয় না, দু এক কথা মন্দ ও লিখতে হয়! ভয় পেলাম সেখানেই! গত দুই দিন আগে ব্লগে, পত্রিকায় দেখলাম সংবিধান এর সমা্লোচনা করলে নাকি শাস্তি ফাঁসি নির্ধারিত হয়েছে! বড় বাঁচা বেঁচে গেছিরে ভাই, সংবিধান সংশোধনের আগেই কোর্সের পরীক্ষাটা শেষ হয়ে গিয়েছে! নাহলে আমিনি আঙ্কেলের মত আমাকেও হয়ত জেলে পুরে দিত সরকার তবে আমার দুঃখ হচ্ছে পলিটিকাল সাইন্সের ছাত্রদের জন্য! যতদূর জানি বেচারারা বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে ভালোই লেবু কচলে তিতা করে, তাদের কপালে যে কি আছে! হলের করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। মুখে বিনয়ী হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম , "ভাইয়া কেমন আছেন?"। ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে খিচড়ে উঠে বললেন, "চিনি নাই "। আমি অবাক! কারে চিনেন নাই ভাইয়া? আমারে? কয় কি! যারপরনাই বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসাইলাম, ভাই কারে চিনেন নাই? ভাইয়া আগুন গরম চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, "আরে বাজারে চিনি নাই"।

ওহ আচ্ছা, এই ব্যাপার! এই ভাইয়ার মিষ্টি আই মিন চিনির প্রতি অতিরিক্ত দুর্বলতা আছে , সেটা আমরা সবাই জানি! সেদিন বাজারে চিনি না পেয়ে মেজাজ খিচড়ে ছিল ভাইয়ার! এক বন্ধু কমন রুমে দেখি বেশ উত্তেজিত হয়ে কথা বলছে। জিজ্ঞেস করলাম, "কিরে দোস্ত , কি ব্যাপার?"। বি এস এফ নাকি আবার এক সীমান্তবাসী নিরীহ বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। তাই নিয়ে উত্তেজিত সে, অথচ এ দিকে নাকি আমাদের দেশে আসছেন সোনিয়া গান্ধী! তাকে সংবর্ধনা দেয়ার বিপুল আয়োজন চলছে! পত্রিকার খবর দেখে রুমমেটকে দেখলাম রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। কারন কি? রাষ্ট্রপতির মহান ক্ষমায় নাকি উজ্জীবিত হয়ে লক্ষীপুরের সোনার ছেলেরা (দুষ্টু লোকেরা,সাংবাদিকেরা অবশ্য বলছে খুনী সন্ত্রাসীরা!) শহর কাঁপিয়ে মিছিল করছে! ব্লগে এসে দেখলাম কে বা কাহারা(!) যেন আরিফ জেবতিক ভাইয়ের নামে মানহানির মামলা করেছে এবং তার ঠ্যাং ভেঙ্গে দেবার হুমকি দিয়েছে! কারন আরিফ ভাই নাকি বাংলাদেশের কোন এক বিশেষ জেলার লোক হওয়ার সুবাদে সারা দেশজুড়ে কারা তান্ডব করে বেড়াচ্ছে তা নিয়ে দু-চার কথা লিখেছিলেন! মাথা গরম হয়ে যাওয়াতে আমি সাথে সাথে ঠ্যাং এর কথা ভুলে ট্যাং খেতে গেলাম! নাহ, সব কিছু দেখে শুনে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।

আশেপাশের মানুষজন যে বলছে, দেশটা গোল্লায় যাচ্ছে, তা কি তবে সত্যি? ভাবতে ভাবতে হাজির হলাম হলের কমন রুমে। টিভিতে তখন শুরু হল বিটিভির দুপুরকালীন খবর! আহা আহা! শান্তি শান্তি! কোন বদমাশ বলে ,দেশ গোল্লায় যাইতেছে? দেশের সর্বত্র শান্তির সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে! কোন মন্ত্রী কোন অমৃতবচন বলেছেন, বিটিভির সংবাদ পাঠিকার রূপমুগ্ধ (!) হয়ে তা শুনতে লাগলাম! আর আমার মাথাও হয়ে যেতে লাগল তিব্বত কদুর তেলের মত কুললললললললললল যাই এবার পড়তে বসি, সামনে পরীক্ষা আছে! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।