এক সুময় ব্যান খাইতে চ্রম টেস্ট লাগতো, এখন খাইতে কিরাম যেন তিতা তিতা লাগে.. তাই খাওন ছাইড়া দিচি... জীবনে কখনও মহিলা জাতির খপ্পরে পড়ি নাই। আইজক্যা জীবনের প্রথম বি সি এস পরীক্ষা দিতে যাইয়া এদের চতুর্মূখী (দ্বিমূখী বললে রীতিমত কবীরা গুনাহ হবে) খপ্পরের শিকার হইয়া পিঠের পুরা অংশ ব্যাথায় রীতিমত টনটন কর্তাচে। সকাল আটটায় ঘুম থেকে উইঠ্যা খাবার খাইয়া যথারীতি দৌড়াইলাম কেন্দ্রের দিকে। পি এস সি’র যে ভাবসাব, নোটিশ দেইখ্যা ভাবছিলাম ৯.২০ মিনিটেই মনে হয় পরীক্ষার হলে ঢুকতে হবে। না হলে মনে হয় পরীক্ষা আর কপালে জুটবে না।
কিন্তু আরে বাবা, যাইয়া পুরা একঘন্টা দাড়ায়া দাড়ায় ঢেউ গুনেছি। অবশ্য আপুমনির দল দেহি পইড়া বি সি এস এর চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার কইরা ফালাচ্ছে। যাউ¹া নয়টা ৩৫ এর দিকে গিয়া বসলাম সিটে। তখন মোটামুটি আশপাশ খালি ছিল। কিন্তু ৫/৭ মিনিটের মধ্যেই আপুদের এক বিশাল বহর আমাকে ঘিরে ফেলল।
পুরাই মাইনক্যার চিপায় পইড়া গেলাম। নিজেরে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। আমার আশেপাশে দুই তিন টেবিলের মধ্যে কোন পোলা নাই। দুই তিনটা সিট খালি ছিল ভাবলাম এইখানে হয়ত পোলা আচে। ওমা কিছুক্ষন পর দেহি ওইখানেও মাইয়ার সিট।
আমিতো পুরা টাশকি খাওয়া অবস্থা। খোদার কাছে মনে মনে আরাধনা কর্তেছিলাম খোদা তুমি আমাকে আজ রক্ষা করো। আর ছোট চিপাচুপা একটা বেঞ্চে যদি তিনটা সিট ফালায় তাইলে কি অবস্থা হইতারে একবার ভেবে দেখুন (উষ্ঠা মারি পি এস সি’র)। তাও আবার আমার সিট পড়ছে বেঞ্চের মাঝে। আমিতো রীতিমত আনইজি ফিল করা শুরু করলাম।
কারন সামনে এক সুন্দুরী ললনার মেঘ কালো চুল আমার হাতে সাথে প্রায় দোল খাচ্ছিল। পিছনে আরেক ললনা পেন্সিল বক্স¦ বার বার পিঠের সাথে গুতা লাগতেছিল। ডানে বামের বর্ণণা দিলে তো অশালীন কথা লেখার দায়ে মডু পোস্ট গাযেব করে দিবে। কি আর করমু বেশী কতা না কইয়া চুপচাপ বসে রইলাম। কিছুক্ষন পর মনে হল, আহ্হারে. . . আমিতো ক্যালকুলেটর আনি নাই।
কি করমু অহন। ভাইয়া মানুষতো আশেপাশে নাই আপুরাই ভরসা। আড়চোখে ডানে বামে তাকাইয়া দেহি ডানদিকের ললনার ইয়াবড় একখান ক্যালকুলেটর (সাইন্টিফিক না কিন্তু)। সাধারণ ক্যালকুলেটর যে এত্ত বড় হয় জীবনে দেখি নাই। পুরা ল্যাপটপ স্টাইল।
যাউ¹া মনে সাহস নিয়া জিগাইলাম
ইকসকিউজ মি আপু
(সুন্দর একখান আনইজি স্টাইলের হাসি দিয়া) জি বলুন
আপু আমিতো ক্যালকুলেটর আনার কথা ভুলে গেছি (আমারতো ক্যালকুলেটরই নাই). . . . যদি একটু.. আপনার যখন কাজে না লাগে. . . . .
ইটস ওকে.. . . . আপনি নিজের মনে করে ব্যবহার করতে পারেন. . .
আমিতো রীতিমত খুশিতে ভুষি. . . . . .
কিছুক্ষনের মধ্যেই পিছনের আপুটা
ইক্সকিউজমি ভাইয়া. . . . একটু কথা বলতে পারি. . .?
অবশ্যই. . .
আপনি কি এবার প্রথম পরীক্ষা দিচ্ছেন.?
জি..
আপনি..?
আমিও প্রথম... . ?
ও তাই নাকি.. . .?
(আরো নানান প্যাচাল)
ভাইয়া. . . সম্ভব হলে একটু বলে দিয়েন প্লিজ. .
ওকে নো প্রোবলেম.. দেখা যাবে. . .
(একটু চুপ)
বামের আপুটা ছিল চ্রম সুন্দুর, দেইখ্যা পরথমেই টাশকি খাইয়া গেছি। কিন্তু এইটার সাথে কোন ছুতোয় কথা বলি বুঝতে পারছিলাম না?? বহুত আগলাম পাগলাম পরিকল্পনা কর্লাম। কিন্তু. . . . . ধ্যাত সরাসরি জিগাই. . . ..
আচ্ছা আপু আপনার প্রিপারেশন কেমন??
(একটু চমকে উঠে) জি.. .. আমাকে বলছেন??
জি.
এইতো মোটামুটি. . . .
কোথা থেকে অনার্স করেছেন.??
সিটি কলেজ থেকে..
বাহ ভালো.. আমার কয়েকজন বন্ধু আছে ওখানে (হারাম কইরা কচ্চি একটা বন্ধুও নাই)
(চার পাচ মিনিট ধইরা গ্যাজাইলাম)
(ভালই ভাব জমাইলাম)
আপু দুই একটা বলে টলে দিয়েন
অবশ্যই কেন নয়..? আমি এদিক দিয়ে বেশ উদার..। পরীক্ষার হলে কত্ত বন্ধুদের সহযোগীতা করেছি।
(কথার স্টাইলে কেমন কেমন যেন মনে হচ্ছিল তারপরও ভাবলাম যে নাহ. অন্তঃত দুই একটা হলেও হয়ত সহযোগীতা পাওয়া যাবে।
দেখেও অবশ্য ট্যালেন্ট মনে হচ্ছিল)
যাউ¹া এরই মাঝে পরীক্ষার সময় হয়ে গেল।
প্রশ্নপত্র হাতে নিয়া ভালই লাগতেছিল। ক্রসে ক্রসে আপুগুলার দিকে তাকালাম। দেখলাম যে মনে হচ্ছে সব্বাই রীতিমত প্রশ্ন মুখস্থ কর্তাছে। প্রথম বিশ মিনিটের মত কোন সাড়া শব্দ নাই।
কিছুক্ষনের মাথায়.. পিছনে কলমের খোচার আলতো আঘাত পেলাম.. ভাবলাম হয়ত.. প্রশ্নপত্রের সাথে পিঠ লেগে গেছে তাই আর কেয়ার কর্লাম না। কিন্তু ত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় আবার গুতা, সাথে ফিসফিসিয়ে.
ভাইয়া. . . .অমুক প্রশ্নটার উত্তর কোনটা..??
ভালভাবে উত্তরটা বলে দিলাম..
এর পরই শুরু হল গুতা আর গুতা
(মনে মনে যে কত কিছু বলেছি আর করেছি তার ইয়ত্তা নেই)
কিছুক্ষন পর শুরু হল বাম পাশের আপুর চুলকানি। যার কিনা আমাকেই বলে দেবার কথা সে দেহি ধীরে ধীরে আমার দিকে আগাইয়া আসতাছে। অবশ্য ভালই লাগতেছিল। বেশখানি কাছে আইয়া কয় ভাইয়া এই প্রশ্নটার উত্তর কি একটু বলে দিবেন? নির্ধিয়ায়, চরম আগ্রহ নিয়া সঠিক উত্তরটা কইয়া দিলাম।
কেন জানি মনে হচ্ছিল.. ইশ. . . আরো জিজ্ঞেস করে না ক্যান?? দোয়া কর্তেছিলাম হে খোদা, ওর মন থেকে সকল সকল প্রশ্নের উত্তর ডিলিট কইরা দাও, যাতে সারাক্ষন আমারে জিগায়। কিন্তু হ্যায় আর আমারে জিগায়না?? ধ্যাাাাাাাাাাাৎৎৎৎ। পরে দিশা না পাইয়া আমিই তারে জিগাইলাম, আপু এইটা কি? (যেডার উত্তর আমার ১০০% জানা)?? সুন্দর ভাবে কইয়া দিল। এইভাবে আট দশটা জানা প্রশ্ন হুদাই উনার কাছে জিগায়া নিচি। শ্যাষের দিকে তারাহুরার সময় শুরু হল বাম পাশের আপুর জ্বালাতন।
ওর কাছ থেকে ক্যালকুলেটর নিছিলাম তাই মেজাজ খারাপ হওয়ার পরও কিছু কইতে পারতাছিলাম না। ভুলভাল যাই হোক হুটহাট কইরা সাত আটটা কইয়া দিলাম। তারাহুরার মধ্যেও মঞ্চাচ্ছিল বাম পাশের আপুটারে আরো হেল্পাই. . কিন্তু হ্যায় আর আম্রে জিগাইলনা. . . ভাবলাম বাহিরে গিয়া আপুটার লগে আরো একটু ভাব জমামু..
আপুকে মোটামুটি চোখে চোখে রাখতেছিলাম। পরীক্ষাতো শেষে পিছনে এক ভাইয়া ছিল তার সাথে ত্রিশ সেকেন্ডের মত আলাপ কর্তেছিলাম। এর মাঝে সামনে তাকায়া দেহি আমার কাঙ্খিত সেই আপুটা নেই।
দ্রুত দরজার কাছে গিয়ে এদিক ওদিক হন্য হয়ে খোজা শুরু করলাম। কিন্তু.. . . . .
পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বাসায় আসা পর্যন্ত বাস, ফুটপাথ, আশপাশ, সবজায়গায় মনে মনে তারে খুজেছি. . . কিন্তু . . . . .
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।