আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হামাস-ফাতাহ সম্প্রীতি চুক্তি: স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে খানিক অগ্রগতি

সঙ্গে সাহিত্যের সুবাস ...

যখন লাদেনের মৃত্যুপরবর্তী সংবাদ নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ চলছে কিংবা লিবিয়া বা সিরিয়ায় যখন বিদ্রোহ-বিক্ষোভ চলছে এবং গণমাধ্যমের পরিসর ও সময় ঐ ঘটনাবলীর দখলে রয়েছে, তখন অনেকটা সকলের অলক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা অগ্রগতি ঘটেছে প্যালেস্টাইনে। ঘটনাটি হলো, চার বছরের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে মিশরের রাজধানী কায়রোয় বুধবার সমপ্রীতি চুক্তিতে সই করেছেন ফিলিস্তিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল হামাস ও ফাতাহর নেতৃবৃন্দ। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ঘটনাবলীতে এটা নতুন সংযোজন। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ঘটনাবলীর একটা প্রভাবও রয়েছে এই ক্ষেত্রে। গাজা ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা পথে নেমে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঐক্যের দাবি জানিয়ে আসছিল।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অন্যান্য দেশে গণতান্ত্রিক জাগরণের বিষয়টি বিবেচনায় এনে দ্রুতই সাড়া দিয়েছেন। লক্ষ করার বিষয় এই যে, সম্প্রীতি চুক্তি সই হয়েছে মোবারক-পরবর্তী মিশরের মধ্যস্থতায়। মোবারকের মিশর এতকাল ফিলিস্তিনিদের স্বার্থে আশানুরূপ সাড়া প্রদান করেনি। ঐতিহাসিক এই চুক্তির পর আনন্দ প্রকাশ করেছে গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও ফাতাহ নেতা মাহমুদ আব্বাস এবং হামাস নেতা খালেদ মেশালের মধ্যে।

ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরের বৃহদাংশে শাসনকার্য পরিচালনা করে এবং গাজার দখল ছিল হামাসের হাতে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাসের বিস্ময়কর বিজয়ের এক বছর পর, দুই দলের হানাহানি ঠেকাতে, উভয় দল মিলে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে, ২০০৭ সালে। কিন্তু হামাস এক পর্যায়ে গাজা থেকে ফাতাহকে বের করে দেয়। তার পর হতে উভয় দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। বুধবারের সম্প্রীতি চুক্তির পর মাহমুদ আব্বাস বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদের অতীতের সেই কালো অধ্যায়কে চিরতরে বিদায় জানিয়েছি।

এই সমপ্রীতি চুক্তিতে ইসরায়েল স্বভাবতই সহজভাবে নেয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এটি শান্তি প্রক্রিয়ার উপরে চরম আঘাত ও সন্ত্রাসবাদের বিজয়। হামাসকে ইসরায়েল ও তার মিত্র পশ্চিমা শক্তি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। এই সম্প্রীতি চুক্তি অনুযায়ী প্যালেস্টাইনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে, যে সরকার আগামী বছরে একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিজেকে নিযুক্ত করবে। এছাড়াও এই সমপ্রীতি চুক্তি কতকগুলো তাত্পর্য নিয়ে হাজির হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোষণার দাবি করবে যাতে ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তরেখার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা থাকবে এবং যার রাজধানী হবে জেরুজালেম। এই চুক্তি তাদের দাবিকে জোরদার করবে। কিন্তু এই চুক্তির ফলে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন দল ফাতাহর সঙ্গে পশ্চিমা শক্তির দূরত্ব আরও বাড়বে এবং লক্ষ লক্ষ ডলার বিদেশী সাহায্য হারাবার সম্ভাবনা তৈরী হবে। হামাসও অধিক কট্টর ইসলামী গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখোমুখি হবে। হামাসের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তারা অভিযোগ করেছে যে দলটি আপস করে চলছে এবং ক্রমশ মধ্যপন্থী হয়ে উঠছে।

ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনিরা এইসব চাপ মোকাবিলা করতে পারে কেবলই তাদের ঐক্য দিয়ে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যের কারণে পশ্চিমাদের বিরোধিতা বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মিশরের মতো দেশকে তারা পাশে পাবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সর্বোপরি এই সমপ্রীতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে তথা ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের ঘটনাবলীতে নতুন দিকমাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।