আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ড. ইউনূসের বিবৃতি : গ্রামীণ ব্যাংক টিকে থাকবে কিনা সেটি আজ বড় প্রশ্।

জানতে ভালোবাসি,...তাই প্রশ্ন করি...

X সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল শনিবার তার এক লিখিত বক্তব্যে গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে ভবিষ্যতে গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠান তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা, সেটি আজ অনেক বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া পড়লে আমাদের দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কি হয়, তা সবার জানা’। ৬ পৃষ্ঠার এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি আদালতে শরণাপন্ন হবার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিটি আইনসম্মত মনে হয়নি বলে সুবিচারের আশায় আদালতে গিয়েছি। গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে দেশের চার কোটি মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ব্যাংকটির পরোক্ষ প্রভাবে সারা দুনিয়াজুড়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে জড়িত হয়ে গেছে বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যত্।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ তিনি সজ্ঞানে মেনে নিতে পারেননি। তার ভাষায়, ‘এমন একটি আকস্মিক প্রস্তাব মেনে নিয়ে অসংখ্য কর্মী ও ঋণগ্রহীতার পরিবারকে স্বেচ্ছায় অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিলে আমি নিজের কাছে নিজেই অপরাধী হয়ে থাকতাম। ’ তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদটিই তার জীবনের পরম আরাধ্য নয়। তাই পদটি আঁকড়ে থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। তার মতে, গ্রামীণ ব্যাংকের স্বকীয়তা ও গরিবদের মালিকানা রক্ষা একটি সাধারণ ঘটনা নয়, বরং দরিদ্র মানুষের ভবিষ্যত্ নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি সুদূরপ্রসারী প্রশ্ন।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন ও তার সাফল্যের উজ্জ্বলতম উদাহরণ। এই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে জাতি হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব কিনা, সেই প্রশ্ন তিনি জাতির কাছে তুলে ধরেন। তিনি চল্লিশ বছরের মূল্যবান অর্জনগুলো ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের সবাইকে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংককে গরিব মহিলাদের মালিকানার ব্যাংক আখ্যা দিয়ে বলেন, ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ আজ দশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা হচ্ছে গরিব মহিলাদের সঞ্চয়।

তিনি বলেন, কিছু নেতিবাচক প্রচারণার কারণে কারো কারো এটা মনে হতে পারে, গ্রামীণ ব্যাংক বিদেশি টাকায় চলে। এই ধারণা মোটেও সত্য নয়। তার ভাষায়, ‘১৯৯৫ সালের পর থেকে আমরা আর বিদেশি টাকা গ্রহণ করিনি। ’ তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হারও বেশি নয়। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ২০ শতাংশ।

সুদের ওপর সুদও হয় না। অথচ আমানতের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ দেয়া হয়। তিনি তার বিবৃতিতে বলেন, কেউ কেউ এটাকে সরকারি ব্যাংক অথবা এনজিও দাবি করলেও এটি সরকারি ব্যাংকও নয় এনজিও-ও নয়। এটি বিশেষ আইনে সৃষ্ট গরিবের মালিকানায় একটি বেসরকারি ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে ভুল ধারণার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

দরিদ্রতম মানুষের মাঝেও যে কর্মশক্তি আছে, সেটা জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব নাগরিক সমাজকেই নিতে হবে। সামাজিক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে নিজেদের সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। এখন তা ৩২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। আগামী ২০ বছরে এই ৩২ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তোলা সম্ভব।

তিনি তার বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাংকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গরিবের ব্যাংকার’ হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত ড. ইউনূস সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্রোধের শিকার হয়েছেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দেয়ায় তিনি শেখ হাসিনার ক্রোধের শিকার হয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন। আমার মনে হয় আজ দেশে দ্ররিদ্র লিমন থেকে শুরু করে উচ্চ পদস্হ ব্যক্তি কেউই রেহাই পাবেনা যদি না সে একজন ভালো আদা হয়।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।