ছোট্ট দেশ, ছোট্ট শহর, ছোট্ট আমার কুড়েঘর
মাত্র ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাতের জন্য পঞ্চাশ বছরের এক নারীকে শিকল দিয়ে হাত পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বেগম প্রতিবেশী জিতেন নাথ দাসের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন আগে ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে তাতে ঘর তুলে মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী বজলুল সিকদারকে নিয়ে বাস করছিলেন।
কিন্তু ওই জমি জোরপূর্বক আত্মসাত করার জন্য তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তৎপর ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ মে সকালে জোরপূর্বক জমিতে থাকা গাছ কেটে নিতে চেষ্টা করে তারা।
এসময় তিনি বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাসুর সোবাহান সিকদার, দেবর গনি সিকদার, ভাসুরের ছেলে ফারুক সিকদার এবং ননদ রানী বেগম তাকে রান্না ঘড়ের খুঁটির সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে।
সালেহা বেগম সাংবাদিকদের জানান, শিকল বাঁধা অবস্থায় পাড়া প্রতিবেশীর কাছে তিনি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছেন। কিন্তু নির্যাতনকারীদের ভয়ে কেউ তার সাহায্যে রাজি হয়নি। এরই এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে কোনওমতে পালিয়ে আসেন ৩দিন আগে। কিন্তু তার শিকল খুলে দেয়নি কেউ। এমনকি পালানোর পর ৩দিন তিনি গ্রামের এখানে সেখানে আত্মগোপনে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেলে লোহার শিকল থেকে মুক্ত হন সালেহা বেগম।
এ অভিযোগে বুধবার বরিশালের একটি আদালতে মামলা করেছেন নির্যাতিতা সালেহা বেগম।
তিনি শিকলে বাধা অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বলে জানান নির্যাতিতার আইনজীবী বশির আহম্মেদ সবুজ।
আদালত ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিক উল্লেখ করে নির্যাতিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তা আদালতকে অবহিত করার জন্য বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে ৫ জুনের মধ্যে পুলিশী প্রতিবেদন জমা দানের নির্দেশ দিয়েছেন বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতের বিচারক আলতাফ হোসাইনকে।
তিনি জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় শর্ষী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গেলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও শিকল খুলে দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি অভিযৈাগও গ্রহণ করেননি। তবে তারা তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
পরে শিকল পরা অবস্থায়ই বরিশাল আদালতে উপস্থিত হয়ে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন সালেহা বেগম। সূত্র : বাংলানিউজ
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।